পরিবেশ রক্ষায় আইনের প্রয়োগ

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

পরিবেশ রক্ষায় আইনের প্রয়োগ

জাহাঙ্গীর আলম সরকার ৮:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

print
পরিবেশ রক্ষায় আইনের প্রয়োগ

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচিত হয়। পরিবেশকে দেখা হয় উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে। কিন্তু পরিবেশ ও উন্নয়নের এহেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধ্যানধারণাগুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া-এদিকটায় আমাদের নজর খুব একটা পড়ছে না। আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তাই পরিবেশ। সাধারণত এটি প্রাণী এবং বস্তু জগতের সমন্বয়ে গঠিত। উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের পাশাপাশি বায়ু, মাটি, জল এবং জড় উপাদানগুলো পরিবেশের সমান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

পরিবেশের সংকট সবাইকে উদ্বিগ্ন এবং বেদনার্ত করে তোলে। ফলে এ বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কারও দ্বিমত নেই। সম্প্রতি পরিবেশের অবক্ষয় অনুধাবন করে পরিবেশ রক্ষায় যত্নবান লোকের সংখ্যা বেড়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আপাতদৃষ্টে বিচ্ছিন্ন যে নগরবাসী সবুজ অরণ্যকে পরিত্যাগ এবং উপেক্ষা করেছিল, সে নগরবাসীও তার নাগরিক অন্বেষার পূর্ণবৃত্তটি অতিক্রম করে প্রকৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কাজেই পরিবেশ এমন একটি বিষয়, যেটিকে এড়িয়ে চলার উপায় নেই। বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রেই পরিবেশ সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু আইন থাকার পরও নাগরিকরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে আইনের প্রয়োগ এবং অজ্ঞতার কারণে।

অবাধে গাছকাটা, ইটভাটায় লো-গ্রেডের কয়লা, টায়ার পোড়ানো, কালো ধোঁয়া, নদীর নাব্য কমিয়ে চিংড়ি চাষ, ট্যানারির বর্জ্য, অধিক পলিথিনের ব্যবহার, নির্বিচারে প্রাণীহত্যা এবং যত্রতত্র কীটনাশক ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে দুর্যোগ, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ওজন স্তরের ক্ষয়, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সবার। পরিবেশ কোনো রাষ্ট্রের একক ভাবনার বিষয় নয় বরং এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত ভাবনার অবকাশ রয়েছে। আমাদের উচিত যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সব ক্ষেত্রেই পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে এসব ঘটনা এখন নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশকে বিবেচনায় রেখে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় ইনক্যান্ডিসেন্ট ইলেকট্রিক বাতি নিষিদ্ধ করেছে। কারণ, একটি বাতি জ্বালাতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন হয়, তার ৯০ শতাংশই নষ্ট হয়। এ ৯০ শতাংশই শক্তির দহনে তৈরি হয় নানা গ্রিন হাউস গ্যাস, মূলত কার্বনডাই-অক্সাইড। পরিবেশবান্ধব অস্ট্রেলিয়া সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ কমপ্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প (সিএফএল) চালু করেছে। সিএফএলে মোট শক্তির মাত্র ২০ শতাংশ অপচয় হয়ে থাকে। এর ফলে বছরে প্রায় ৮ লাখ টন কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা যত না, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল দেশজোড়া পরিবেশ সচেতন জনমতের চাপ। কাজেই পরিবেশ বিষয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এখন থেকেই আমাদের ভাবতে হবে; অন্যথায় হিসাব মেলানো যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার মতো আমাদের পরিবেশ নিয়ে জনমত সৃষ্টি করতে হবে, পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

পরিবেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রতিবেশ। প্রতিবেশ ব্যবস্থার অবক্ষয় আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ঢাকা শহরের রাজপথে শিশুরা যে প্রতিদিন বিষবায়ু গ্রহণ করছে এবং দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে, সে বিষয়টি অনুভব করলে আঁতকে উঠতে হয়। পরিবেশ বিপর্যয় এবং প্রতিবেশ ব্যবস্থার অবক্ষয় আমাদের ভাবিয়ে তোলে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অতিথি পাখির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। অথচ একশ্রেণির মানুষের রয়েছে পাখি শিকারের ঝোঁক। নিম্নবিত্তরা অভাবের কারণে পাখি শিকার করলেও উচ্চবিত্তরা আনন্দ উপভোগের জন্য নির্বিচারে পাখি নিধন করছে।

আইন মান্যতার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বহুলাংশে হাস্যকর বটে। পাখি শিকার যদিও আইন বিরুদ্ধ একটি দ-নীয় অপরাধ; তথাপিও এ রকম অপরাধ প্রশাসনের নাকের ডগায় হরহামেশাই ঘটছে। বাংলাদেশে যেসব পাখি রয়েছে তার সঙ্গে অতিথি পাখিরা আমাদের পরিবেশের ইকোসিস্টেমকে সমুন্নত করতে বিশাল ভূমিকা রাখে। অতিথি পাখি যে কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তা-ই নয় বরং অতিথি পাখির কলকাকলিতেই মুখরিত থাকে চারদিকের পরিবেশ।

পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক মারাত্মক হুমকি। প্লাস্টিক বা পলিথিন শক্ত, হালকা, বিদ্যুৎ অপরিবাহী, ক্ষয়রোধ ক্ষমতাসম্পন্ন, পানি প্রতিরোধ, ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাস প্রতিরোধ জাতীয় নানা গুণাবলির কারণে সহজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে। অথচ পলিথিন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মাটির সঙ্গে বায়ুম-লের প্রতিনিয়ত আদান-প্রদান চলছে। এ প্রক্রিয়ায় মাটি তার স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় রাখে। অথচ মাটির শক্তি বৃদ্ধিকারী ব্যাকটেরিয়া পলিব্যাগের কারণে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে। ফিলিপাইন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বুলেটিনের তথ্য মোতাবেক, পলিথিন মাটির সংস্পর্শে এসে এক জাতীয় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা ধান, গম বা সরিষা চাষের জন্য ক্ষতিকর। এসব ব্যাকটেরিয়া চারা গাছের গোড়ায় পচন ধরায়।

ন্যাশনাল সোসাইটির এক প্রতিবেদনে মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, একনাগাড়ে প্রায় ৬ মাস কোনো স্থানে যদি পলিথিন বা প্লাস্টিক সামগ্রী মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়, তাহলে মাটির উর্বরতা শক্তি শতকরা ২২% কমে যেতে পারে। কৃষির আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় এবং ফলন বাড়ানোর কারণে কৃষি জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব সার-কীটনাশকের সমষ্টিগত প্রভাবে ভূমির উর্বরতা ও জৈব গুণ বিনষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে পরিবেশনীতি, ১৯৯২-এর ৩নং উপধারায় বলা হয়েছে- কৃষিক্ষেত্রে যেসব রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপকরণ উপাদান ভূমির উর্বরতা ও জৈবগুণ বিনষ্ট করাসহ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলে থাকে, এদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ওই উপকরণসমূহ ব্যবহার কালে কৃষি শ্রমিকের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান করা।

নির্বিচারে পশু মারার ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে পশু-পাখি, মৎস্য প্রজাতি। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অনেক প্রজাতির প্রাণী নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এক সময় গ্রামাঞ্চলে সোনাব্যাঙ, বড়ো গুইসাপ, লোনাপানির সাপ, সাম্বার হরিণ, চিতাবাঘ, লজ্জাবতী বানর প্রচুর দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বিলুপ্তপ্রায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষ বন-জঙ্গল দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করে চলছে। ফলে অনেক প্রাণীই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতির সব জীব-জন্তুই একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল। আর এ নির্ভরশীলতার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ইঁদুর বেড়ে গেলে অধিক উৎপাদনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইঁদুর ফসল কেটে ফেলে। আবার কিছু কিছু ইঁদুর রোগের জীবাণু বহন করে। কিন্তু সাপ সে প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। সাপ অতিরিক্ত ইঁদুর খেয়ে ফেলে। ব্যাঙ যে হারে বংশবৃদ্ধি করে একই হারে যদি তা টিকে থাকত, তাহলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসত এবং প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। এক প্রজাতির অধিক হারে বংশবৃদ্ধি অন্যান্য প্রজাতির টিকে থাকা সংকটাপন্ন করে তুলত। কিন্তু সাপ অতিরিক্ত ব্যাঙ খেয়ে ভারসাম্য টিকিয়ে রাখে। বেজি, বাজপাখি সাপ খেয়ে ফেলে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন থাকে। কিন্তু বর্তমানে প্রাণীহত্যা, জলাশয় ভরাট, বনাঞ্চল উজাড় করার কারণে প্রাণ বৈচিত্র্যের এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

বায়ু দূষণের পেছনে যতগুলো কারণ আছে তার মধ্যে যানবাহনের কালো ধোঁয়া অন্যতম। অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী আনফিট পরিবহন রাস্তা ঘাটে চালানোর কারণে শব্দ ও বায়ুদূষণ বেড়েই চলেছে। মোটরযান থেকে প্রধানত যেসব বিষাক্ত গ্যাস বায়ুতে নির্গত হয় সেগুলো হচ্ছে কার্বন মনোক্সইড, নাইট্রোজন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন এবং ভাসমান বস্তুকণাসমূহ। পেট্রোল যে সিসা বা লেড থাকে, তাও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বায়ুদূষণে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে কার্বন মনোক্সাইড মানবদেহে রক্তের লোহিত কণিকায় অক্সিজেন বিশ্লেষণ বিঘ্নিত করে। স্নায়বিক ও হৃদয়ন্ত্রের সমস্যার সৃষ্টি হয়। নাইট্রোজেন ও সালফার-অক্সাইট ফুসফুসের ক্ষমতা হ্রাস করে এবং শ্বাসনালির বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ ঘটায়। এছাড়া সিসা দূষণের ফলে মানবদেহের রক্তে সঞ্চালন প্রজনন ও মূল গ্রন্থির কার্যক্ষমতায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসবই ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে।

বাংলাদেশে পরিবেশ সংক্রান্ত সব আইন যেন থেকেও নেই! পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় আইনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-১৯৯৭ (সংশোধনীসহ), পরিবেশ আদালত আইন-২০১০, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন-২০১৭, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৬, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০৬, চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ (সংশোধনীসহ), জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০, মোটরযান আইন-১৯৪০, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫, পাটজাতপণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন-২০১৩ ইত্যাদি আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় না! পরিবেশ আইনের প্রয়োগ হলে জনসাধারণের মধ্যে যেমন সচেতনতা তৈরি হবে, তেমনি পরিবেশও রক্ষা পাবে।

পরিবেশ আইন-২০১০ অনুসারে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি আদালত গঠনের বিধান থাকলেও তিনটি পরিবেশ আদালত যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং ঢাকায় একটি পরিবেশ আপিল আদালত কার্যকর রয়েছে। ফলে বিভিন্ন জেলার পরিবেশ দূষণের মামলা পরিচালনায় বাদী বিবাদী উভয়েরই সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেকটি জেলায় পরিবেশ আদালত না থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে পারছেন না। আবার পরিবেশ আদালতের সংখ্যা কম থাকায় মামলা নিষ্পত্তি করতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। দুঃখের বিষয়, বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইনের আওতায় সাধারণ মানুষ দূষণ সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে পারেন না!

বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলো নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে। আশির দশকে বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা ঘটে। নব্বইয়ের দশকে তা আরও অগ্রসর হয়। পরিবেশ রক্ষা শপথ (পরশ) নামক সংগঠনের আওতায় দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি সমবেত হন। বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সংগঠিত হতে থাকে।

১৯৯৮ সালে তারা বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) প্রতিষ্ঠা করে। পরশ, বেন এবং অন্যান্য বহু পরিবেশ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০০০ সালের জানুয়ারিতে প্রথম বাংলাদেশে পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (ওঈইঊঘ) অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশের সব পরিবেশ স্বপক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তারই ফসল হিসেবে ২০০০ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) গঠিত হয়। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ সংক্রান্ত অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার মধ্য দিয়ে প্রতিকারের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

পরিবেশ বিষয়টি কেবল বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারনিকদের হাতে নিরঙ্কুশভাবে ছেড়ে দেয়ার মতো বিষয় নয়। এটা এমন এক ধরনের বিষয় যার গভীর নৈকট্য আছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, বসবাসের ধরন, জীববৈচিত্র্য এবং তাদের সত্যিকারের অধিকার, তাদের মানসম্মত প্রশাসনিক ব্যবস্থাদির ভেতরে থাকার আকাক্সক্ষা এবং এর সমতা বিধান এমনি অনেক বিষয়ের সঙ্গে। তাদের টিকে থাকার জন্য অদম্য লড়াই, আত্মমর্যাদাবোধ ও সৃজনশীল জ্ঞানের সঙ্গেও এ বিষয়ের নিবিড় সম্পর্ক। বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে আইন রয়েছে তা যথেষ্ট, দরকার শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগ। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোকে সফল করতে হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যার নির্মল পরিবেশ সবাইকে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে।

জাহাঙ্গীর আলম সরকার
আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।
advsagar29@gmail.com