স্বাধীনতার বাতিঘর

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

স্বাধীনতার বাতিঘর

শিবুকান্তি দাশ ৭:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

print
স্বাধীনতার বাতিঘর

বাংলাদেশের স্থাপতি জাতি-রাষ্ট্রের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর একটি অঙ্গুলি হেলানে থরথর করে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক আইয়ুব খানের সিংহাসন। ত্রিশ লাখ মানুষ চোখ বন্ধ করে জীবন দিয়েছে দেশের স্বাধীনতার জন্য। পৃথিবীর দেশে দেশে বঙ্গবন্ধু নামেই বাংলাদেশকে চিনে রাখে। যে নামের এত পরিচিতি, এত ভালোবাসা; সেই মহানায়কের ভালোবাসার যে মানুষটি তার নাম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু তাকে আদার করে ডাকতেন ‘রেণু’। এই রেণুই আমাদের স্বাধীনতার আরেক বাতিঘর, আরেক প্রেরণার নাম।

আগস্ট মাস মানে বাঙালির কান্নার মাস। এ মাসেই জাতি হারায় তার জাতি-রাষ্ট্রের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পুরো পরিবারের সদস্যদের। আর এই শোকাবহ আগস্টের অষ্টম দিনটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বেগম মুজিব সরাসরি রাজনীতি না করলেও ছিলেন জাতির জনকের ছায়াসঙ্গী। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার সময় পরম মমতা ও দায়িত্বের সঙ্গে সামলে ছিলেন সংসার ও রাজনৈতিক দল। প্রকাশ্যে আসেননি কখনই, কিন্তু প্রয়োজন হলেই দলের নেতাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও বার্তা প্রদান করতেন। বাঙালি ও বাংলাদেশ যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ঋণী, সেখানে বঙ্গবন্ধু শুধু একজনের কাছে ঋণী। তিনি তার সহধর্মিণী, জীবন-মরণের সঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

একজন পুরুষের সফলতা কিংবা ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান থাকে তার সহধর্মিণীর। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে সেই কৃতিত্বের ভাগিদার তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেণু। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন শাশ্বত নারী, সাধারণের বেশে যিনি অসাধারণ, গৃহিণী হয়েও এ দেশের ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে রেখেছিলেন অনেক বড় ভূমিকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা, বক্তৃতা-বিবৃতি এবং যারা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে দেখেছেন বা চিনতেন তাদের লেখনী ও বক্তব্য থেকে আমরা জানি, তিনি ছিলেন একজন নিরহঙ্কার, নির্লোভ, ত্যাগী, কষ্টসহিষ্ণু, প্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, আদর্শ পত্নী, আদর্শ ভগ্নি, আদর্শ ভাবী, আদর্শ মাতা, আদর্শ গৃহিণী এবং মমতাময়ী দায়িত্বশীল মা।

বঙ্গবন্ধুর বয়স যখন এগারো, তখন তিন বছরের শিশু রেণুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সে বিয়েরও আছে এক করুণ ইতিহাস। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু নিজে লিখেছেন সেই ইতিহাস।

তিনি লিখেছেন, ‘রেণুর দাদা আমার দাদার চাচাতো ভাই। রেণুর বাবা মানে আমার শ্বশুর ও চাচা তার বাবার সামনেই মারা যান। মুসলিম আইন অনুযায়ী রেণু তার সম্পত্তি পায় না। রেণুর কোনো চাচা না থাকায় তার দাদা (শেখ কাশেম) নাতনি ফজিলাতুন্নেছা ও তার বোন জিন্নাতুন্নেছার নামে সব সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। রেণুর বাবা মারা যাওয়ার পর ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, তোমার বড় ছেলের সঙ্গে আমার এই নাতনির বিবাহ দিতে হবে। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্য রেণুর সঙ্গে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। রেণু তখন কিছু বুঝত না, কেননা তার বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে।’

বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রথমে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ও পরবর্তীতে সামাজিক কারণে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেন। তার স্মৃতিশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি যেকোনো পরিস্থিতি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মোকাবেলা করতে পারতেন।

দাদার চাচাতো ভাই শেখ লুৎফর রহমানের পুত্র শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রেণুর বিবাহ হয়। তখন থেকে রেণুর শাশুড়ি বঙ্গবন্ধুর মাতা সায়েরা খাতুন তাকে নিজের সন্তানদের মতো মাতৃস্নেহে লালন-পালন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পবিবারের সবার প্রতি ছিল তার সমদৃষ্টি। স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান যখন কলকাতায় থাকতেন বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছার সময় কাটত নানা রকম বই পড়ে। তিনি ছিলেন সংগীতপ্রিয়। তখন তাদের গ্রামের বাড়িতে গ্রামোফোন ছিল, পর্যায়ক্রমে সংগীতের সব রকম বাদ্যযন্ত্রই তিনি সংগ্রহ করেন।

দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নিজেকে জড়িত রেখেছেন বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। স্বামীর রাজনীতিতে সব রকম সহায়তা করতেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত শেখ মুজিবের যখনই অতিরিক্ত অর্থের দরকার হতো তখনই নিজের পিতৃ সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ বিনা দ্বিধায় প্রেরণ করতেন বেগম মুজিব। বঙ্গবন্ধু তার নিজের লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তেও সংসার এবং রাজনীতির কর্মময় জীবনের বর্ণনায় বার বার স্ত্রী বেগম মুজিবের নাম উচ্চারণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কারারুদ্ধ দিনগুলোতে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রয় করতে হয়েছে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। তিনি অনেক অলংকার বিক্রি করেছেন, কিন্তু বাদ্যযন্ত্র আর গানের রেকর্ডগুলো কখনো হাতছাড়া করেননি।

১৯৫৪ সালে বেগম মুজিব প্রথমবারের মতো ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় বসবাস করতে চলে আসেন এবং ওই এলাকার রজনী চৌধুরী লেনে বাসা নেন। ১৯৫৪ সালে শেখ মুজিব মন্ত্রী হলে বেগম মুজিব গেন্ডারিয়ার বাসা ছেড়ে ৩ নং মিন্টো রোডের বাড়িতে ওঠেন। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলে ১৪ দিনের নোটিসে ৩নং মিন্টো রোডের বাসা ছাড়তে বাধ্য হন বেগম মুজিব।

এ রকম অনেকবার তার বাসা বদল করতে হয়েছে। অবশেষে ১৯৬১ সালে ধানমন্ডির ৩২নং সড়কে নিজেদের বাড়ির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়। ওই বছরের ১ অক্টোবর বেগম মুজিব ৩২নং সড়কের বাড়িতে প্রবেশ করেন। বঙ্গবন্ধু জীবনের দীর্ঘসময় কারাগারে কাটিয়েছেন। তার অবর্তমানে একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও মামলা পরিচালনা, দলকে সংগঠিত করতে সহায়তা করা, আন্দোলন পরিচালনায় পরামর্শ দেওয়াসহ প্রতিটি কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আন্দোলনের সময়ও প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন তিনি। কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সে নির্দেশ জানাতেন। অন্যদিকে কারাগারে সাক্ষাৎ করে বঙ্গবন্ধুর মনোবল দৃঢ় রাখতেও সহায়তা করতেন তিনি। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে তখন বাঙালি মুক্তির সনদ ছয়দফা কর্মসূচিভিত্তিক লিফলেট বোরকা পরিহিত অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করতে দেখা গেছে এই নীরব বিপ্লবী কর্মীকে। তিনি যেখানে লিফলেটগুলো রেখে আসতেন সেখান থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংগ্রহ করে বিলি করত।

১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে পঁয়ত্রিশজন বাঙালি নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। এ মামলাকে পাকিস্তানের সরকার ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে অভিহিত করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে বাঙালি রাস্তায় নামে। আগরতলা মামলা করার পর তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম ফজিলাতুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতারের হুমকি দেয়।

লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বেগম মুজিব জোরালো আপত্তি জানান এবং এক রকম প্রতিহত করেন। কেননা এই মহীয়সী নারীও দেশের সার্বিক আন্দোলন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সব বিষয় অবহিত করেন।

বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ, তাই বেগম মুজিবের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে-খ্যাত মামলা প্রত্যাহার করতেই হবে। বঙ্গবন্ধু যেন শক্ত থাকেন সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বেগবান হয়। প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত হলেন ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯। পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা তাদের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়ে বরণ করে নেয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য নিয়ে বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। এমনকি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনে বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় বেগম মুজিবকে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের পর দিন ১৭ ডিসেম্বর তার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বন্দিদশার অবসান ঘটে।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। সেখান থেকে বেগম মুজিবের সঙ্গে তার প্রথম কথা হয়। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। অবসান ঘটে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার দীর্ঘ প্রতীক্ষার। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ান তিনি। অনেক বীরাঙ্গনাকে বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন জীবন দান করেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শেখ ফজিলাতুন্নেছার মতো নারীর ধীরস্থির, বুদ্ধিদীপ্ত, দূরদর্শী, সাহসী, বলিষ্ঠ, নির্লোভ ও নিষ্ঠাবান ইতিবাচক ভূমিকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হতে সহায়তা করেছে। জনগণের কল্যাণে সমগ্র জীবন তিনি অকাতরে দুঃখ বরণ এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেই বিবেচনায় বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণীয় একটি নাম। একটি ইতিহাস। মনে-প্রাণে একজন আদর্শ নারী। সন্তানদের সার্থক মাতা। বিচক্ষণ উপদেষ্টা ও পরামর্শদানকারী। সাহসী বঙ্গমাতা। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর সুখ-দুঃখের সঙ্গী। বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা ও শক্তির উৎস ছিলেন এই মহীয়সী নারী।

তার সদয় আচরণ ও বিনয়ে মুগ্ধ ছিল সবাই। সন্তানদের যেমনি ভালোবেসেছেন তেমনি শাসন করেছেন। পিতা-মাতা উভয়েরই কর্তব্য তিনি শেষ দিন পর্যন্ত পালন করে গেছেন। বেগম মুজিব ছিলেন কোমলে কঠোরে মিশ্রিত এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাহসী নারী। স্বামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সন্তানদের গড়ে তোলেন। তার কাছে সহযোগিতা চেয়ে কেউ কখনো খালি হাতে ফিরে যায়নি। কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজনের যে কোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতেন তিনি। বহু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা ও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য তিনি সহযোগিতা করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে বেগম মুজিবও নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। কিন্তু বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের অন্যতম এক প্রেরণাদায়িণী মহীয়সী নারী হিসেবে বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট মালয়েশিয়ান হাসপাতাল কেপিজের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হয় তাঁর স্মরণে। হাসপাতালটি প্রবর্তিত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক। একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইডেন কলেজে একটি ছাত্রাবাস তার নামে নামকরণ করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নামে রয়েছে একটি ছাত্রীনিবাস। টাঙ্গাইলে রয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। এমন আরও অনেকে নিদর্শনের মধ্যেই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।

শিবুকান্তি দাশ
সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক