মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে

লায়ন এম কে বাশার

সুলতান মাহমুদ ৯:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

print
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে

বিএসবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের কর্ণধার লায়ন এম কে বাশার। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধকে জানতে পারবে। সেই উদ্যোগ এবং বঙ্গবন্ধুর নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন খোলা কাগজের সুলতান মাহমুদের সঙ্গে

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী...
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আগামী ১৭ মার্চ ২০২০। এটা নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির জন্য গর্বের বিষয়, মহান নেতার শততম জন্মদিন উদযাপন করতে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী সামনে রেখে আমরা খুবই উজ্জীবিত। আমি মনে করি নতুন প্রজন্ম আরও বেশি উজ্জীবিত।

এই মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে?
‘আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’-এই শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান দাঁড় করাচ্ছি। যেখানে সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। তারা বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে ৫০০ প্রশ্ন জানবে। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে সারা দেশে যারা বৃত্তি পেয়েছেন, এমন ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে বাছাই করে ১৬০০ জনকে আমরা ঢাকায় নিয়ে আসব। তার মধ্য থেকে-যাচাইয়ের পর ১৬০ শিক্ষার্থীকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেওয়া হবে। এরা পুরস্কার নেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে।

জুলাই মাসের ১ তারিখ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন। শোকের মাস শেষ হলেই সেপ্টেম্বর থেকে আমরা এ প্রক্রিয়াটি শুরু করব। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের আগেই আমরা ফাইনাল পর্ব শেষ করব। ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকেই দুটি করে বই দেব। আর বাছাইয়ে সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মেডেল বা ক্রেস্ট থাকবে, সার্টিফিকেট থাকবে। বই দুটি হচ্ছে, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’। আমরা ৪০ হাজার বই ছাপানোর অর্ডার করেছি।

এই আয়োজনে সবাই অংশ নিতে পারবে?
সবার জন্য উন্মুক্ত। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪ কোটি শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে। শিক্ষক অভিভাকরাও কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। কোনো স্কুল থেকে শিক্ষকরা যখন শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় পাঠাবেন তখন তারা কিছু ধারণা দেবেন। এতে করে তারাও সম্পৃক্ত হচ্ছেন প্রক্রিয়াটার মধ্যে আবার অভিভাবকরা যখন তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছেন তারাও সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

এমন উদ্যোগের পেছনে কী চিন্তা কাজ করেছে?
বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন উদ্যোগ। জাতির জনক সম্পর্কে আমরা নেক্সট জেনারেশনকেও জানাতে চাই। আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছি, যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মানতে চান না, স্বীকৃতি দিতে চান না, তাদের প্রতি আমার পাল্টা প্রশ্ন- তাহলে জাতির পিতা কে? ১৯৭১ সালে যদি একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়ে থাকে তাহলে কে হবেন সে দেশের জাতির পিতা? যে দলেরই হোক, আগে যারা রাজনীতি করতেন তারা কখনো বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কথা বলেননি বা বলার সাহস পাননি। যারা তার সান্নিধ্য পেয়েছেন তারা কখনো তাকে হেয় করে কথা বলেননি। অথচ কিছু অর্বাচীন রাজনীতিবিদ, রাজনীতি করে যারা পেটের ভাত জোগান, তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করার সাহস দেখান।

আমরা এর উল্টো যুদ্ধটা করে যেতে চাই। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানো দরকার। তাই আমরা এমন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের বইপুস্তকগুলো এখন অনেকটাই ঠিক করা হয়েছে। তারপরও মনে রাখতে হবে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কর্তৃক পরিচালিত না। যারা পাঠদান করছেন তারাও চাইলে ইতিহাস বিকৃত করতে পারেন। তাই খেয়াল রাখতে হবে সেদিকেও।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কোন বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছিলেন?
যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রিয় মাতৃভূমিকে পুনর্গঠনের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাত দিয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা সব কিছুতেই। এর বাইরেও অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, কতগুলো কাপুরুষের হাতে স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যেই সপরিবারে নিহত হতে হলো এই মহান মানুষকে।

জাতির পিতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল। এ সময় কেমন ছিল বাংলাদেশ?
ওই সময় ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। এ সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল সামরিক শাসকদের হাতে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে নিঃসন্দেহে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন হতো। আর যদি বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতেন, তাহলে এতদিনে দেশ উন্নত বিশে^ পরিণত হতো। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু হত্যা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটা শূন্যতা তৈরি করেছিল, যেটা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। পরবর্তীতে যখন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন থেকে বাবার রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো। জাতি বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে যেভাবে আন্দোলিত হয়েছিল, ১৯৭৫-এর ১৫ আগাস্ট তাকে হারিয়ে ঠিক একই রকম ব্যথিত এবং শোকাহত হয়েছিল।

কীভাবে, কখন বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠলেন?
নবাব সিরাজুদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। গেড়ে বসল ঔপনিবেশিক শাসন। মূলত তখন থেকেই শুরু হলো গুম, হত্যা, নির্যাতন নিপীড়ন, শোষণ। তারা খুব সূক্ষ্মভাবে ধর্মভিত্তিক বিভাজন তৈরি করে দিল হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে। নানা চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে একসময় ভারতবর্ষ স্বাধীন হলো কিন্তু তৈরি হলো ভারত-পাকিস্তান নামের দুটি আলাদা রাষ্ট্র।

এরপর শুরু হলো পাকিস্তানি শোষণ। সে সময় বাংলাদেশে নেতা হিসেবে ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ আরও অনেকে। বঙ্গবন্ধু তখন নবীন রাজনীতিবিদ হিসেবে আবির্ভূত হন। নেতাদের মধ্যে সবাই পূর্ব পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধু এক্ষেত্রে ছিলেন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এক পর্যায়ে ভাসানী বা ফজলুল হককে ছাপিয়ে উপরে উঠে আসেন শেখ মুজিব। নানা জায়গায় গিয়ে বজ্রকণ্ঠে বক্তৃতা করছেন, মানুষকে সংগঠিত করছেন-এটিই তাকে সবার কাছ থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেছে। এক সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন। পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে উপস্থাপন করলেন ছয়দফা। এমন নানা আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন জাতির অবিসংবাদিত নেতা।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তার সুযোগ্য কন্যা বাবার স্বপ্নের অনেক কিছু বাস্তবায়ন করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আগে স্বাধীন হয়েও অনেক দেশ এখনো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। ক্ষমতা গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যতগুলো প্রক্রিয়া গ্রহণ করা দরকার তার সবগুলোই নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের যে ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছিলেন তার ওপর ভর করেই এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মকে যদি আমরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি তাহলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অনেক বরাদ্দ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন এক প্রজ্ঞাপনে সব প্রাইমারি স্কুলকে জাতীয়করণ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কিন্তু অনেক প্রাইমারি স্কুল এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয়করণ করেছেন। যেখানে ৪৮ বছরে বাংলাদেশে সরকারি কলেজের সংখ্যা ছিল ১৫২টি, সেখানে ২০১৮ সালে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০।

জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ কতটুকু?
এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। জীবনের গোল্ডেন সময়টুকুই তিনি জেলে কাটিয়েছেন। শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শেখ রাসেল তাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, হাসু বুবু (শেখ হাসিনাকে শেখ রাসেল হাসু বুবু বলে ডাকতেন) আমি কি তোমার বাবাকে আব্বা বলে ডাকতে পারি? তার মানে হচ্ছে, ছোট্ট রাসেল বঙ্গবন্ধুকে আসলে কাছে পাননি। কারণ তিনি আসলে বেশির ভাগ সময় জেলেই কাটিয়েছেন। যতটুকু সময় জেলের বাইরে ছিলেন ততটুকু আবার কাটিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে। এখন তো যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো, আগে যা ছিল দুর্গম। পায়ে হেঁটে যেতে হতো অনেক জায়গায়। মানুষকে সংগঠিত করতে সেই কঠিন কাজটি করেছেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি?
তার দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে। পরবর্তী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হলে, আদর্শবান করে গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর জীবনের কাছে যেতে হবে। আমরা তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু-এসব বিষয় সঠিকভাবে জানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা যত বেশি জানব, তত বেশি দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে পারব, কেননা তার প্রতিটি কাজই ছিল শিক্ষণীয়।

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে কিছু বলুন...
সব সম্প্রদায়কে তিনি এক দৃষ্টিতে দেখতে পারতেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-কোনো ভেদাভেদ ছিল না তার কাছে। তাই বঙ্গবন্ধুকে সব ধর্মের মানুষ ভালোবাসতেন, বিশ্বাস করতেন। যে কারণে তার কথামতো ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এখনো বাংলাদেশ ধর্মনিরপক্ষে রাষ্ট্র। এখানে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান আছে। যদিও কুচক্রীমহল সরকারকে কখনো কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে হীন চেষ্টা চালায়। কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা সেই বৌদ্ধমন্দিরগুলো পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে জাতির পিতার মূল্যায়ন করুন...
তিনি ক্ষণজন্মা পুরুষ। পৃথিবীতে এরকম মানুষের সংখ্যা খুবই কম। এরা ‘সেল্ফ মেইড’ মানুষ। এ মানুষগুলো এমনিতেই গড়ে ওঠে। তাদের কেউ বলে বা শিখিয়ে নেতা বানায় না। বঙ্গবন্ধুও তেমন, একজন ‘গড গিফটেড’ নেতা। এই কাতারে নেলসন ম্যান্ডেলা, মাও সে তুংয়ের কথা বলতে পারি। এরকম মানুষ হয়তো শত বছরে একজন জন্মায়। সৃষ্টিকর্তা এরকম মানুষের দিয়েই বিশ^কে পরিবর্তন করেন। সারা পৃথিবীতে আজকে যে উন্নয়ন ঘটেছে, পরিবর্তন ঘটেছে তা আসলে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষের মাধ্যমে।

জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, এটাকে কীভাবে দেখেন?
এটা অনেক সাহসী কাজ, এ প্রেরণা তিনি নিজের কাছ থেকেই পেয়েছেন বলে মনে করি। তিনি যে একজন সাহসী নেতা, তা জাতিসংঘে গিয়েও দেখিয়েছেন। বাংলা যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হলো এটাও তার একটি অন্যতম কারণ। এমনকি বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের যে ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলায় সেটাও কিন্তু অবশেষে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পেল। বঙ্গবন্ধু সেই সময় যদি বাংলাকে জাতিসংঘে তুলে না ধরতেন, তাহলে আজকে কিন্তু এ স্বীকৃতি আসত না। আসলে বঙ্গবন্ধু অনেক দূরদর্শী চিন্তা করতেন।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
খোলা কাগজ পরিবারের জন্য শুভকামনা।