ড. মাহফুজ, নোবেল এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা

ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ড. মাহফুজ, নোবেল এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা

ইমরান মাহফুজ ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
ড. মাহফুজ, নোবেল এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা

এই সমাজে টিকে থাকা খুবই কঠিন। এখানে মানুষ নিজে ভালো কাপড় পড়লে অন্যের খারাপ কাপড় দেখে বাঁকাচোখে তাকায়। একটু শিক্ষিত হলে সবাইকে অশিক্ষিত হিসেব করে কথা বলে। কোনো রকম একটা ভালো গাড়িতে চড়ে বসলে বাকিদের রাস্তায় থাকা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে। এইধরনের নানান উদাহরণ আছে চারপাশে। বড় অস্থির উপরতলার জীবন! সুযোগ পেলেই দৃশ্য অদৃশ্যে আঘাত করতে ভুল করে না। 

অন্যদিকে সমাজ- মা মাটি মানুষের জীবনবোধ নিয়ে যারা অনেক ভালো জানেন তারা কম বলেন। কিন্ত বাকি কম জানা মাস্টারদের কথিত চেতনার জ্বালায় অন্যেদের স্বাভাবিক জীবন মূহুর্তে অস্বাভাবিক হয়ে উঠে। আমার কাছে সমাজের প্রতিটি মানুষ বড় ক্যানভাসের এক গল্পগ্রন্থ। দেখে ঠেকে পড়লে অজানা অনেক জানা সম্ভব। এর বাইরে আড্ডা ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকেও তাদের জীবন পড়ার সুযোগ আছে। আলাপে রুচিশীলতার বর্হিপ্রকাশ ঘটে। এইসব জানার জন্য এক দশকের বেশী সময়ে যোগ হয়েছে ফেসবুক। যেমন- সাম্প্রতিক সময়ে মাহফুজুর রহমান ও কন্ঠশিল্পী নোবেল আলোচিত নাম। 

ফেসবুকের মাধ্যমে অতিদ্রুত সবার কাছে পৌঁছে যায়। মাহফুজুর রহমান সাধারণ একজন মানুষ থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চাকরি না করে মিডিয়া উদ্যাক্তা। সেখানে কাজ করে আপনার আমার মতো সাধারণ পরিবারের সদস্যরা। সংসার চালায় শতশত মানুষ। তার মানে উদ্যাক্ত হিসেবে সে সফল। শুনেছি মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। তাহলে সমাস্যাটা কোথায়? সে গান করে- যা আপনার আমার পছন্দ না। উত্তর হবে- ইচ্ছে হলে দেখবেন, না হলে দেখবেন না। আপনে আমি যে ফেসবুকে ইচ্ছেমতো পোস্ট করি, কেউ বাঁধা দেয়? অবশ্যই না। আমাদের মনে রাখা উচিত একজন মানুষ সব জায়গায় সফল হয় না। তবে নিজের আগ্রহ আর ভালো লাগা থেকে যে কেউ ইতিবাচক বিষয় চর্চা করতেই পারে। তাকে বাঁধা দেওয়া কিংবা অহেতুক মন্তব্য- একধরনের অসুস্থ্যতা! এইভাবে প্রতিদিন রক্তাক্ত হই, সুযোগ মতো রক্তাক্ত করি।

গত এক সপ্তাহ ধরে সারেগামা শেষ হতে না হতেই পর আলোচনায় আসে মাঈনুল আহসান নোবেল। জানা যায়, নোবেল গান গেয়ে সবার প্রশংসা কুড়ালেও বিরাগবাজন হয়ে যায় এককথায়। ভালোবাসা ও ঘৃণা দুটিই তার কপালে আসে খুব দ্রুত। কারণ একটি লাইভ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করে। তাতে তাঁর সকল অর্জন মাটিতে মিশে দেয়! করে দেয় চৌদ্দগুষ্টি উদ্বার। কেউ কেউ আবার তাকে ‘রাজাকার’ও আখ্যা দিয়েছে। বিচিত্র মানুষ- অদ্ভুত সময়!

অথচ আমরাই আবার তাসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার, আসিফ মহিউদ্দিন, আরিফ জেবতিকের মতো মুক্তচিন্তার মানুষদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়া আওয়াজ তুলি। ভুলে যাই- মত যৌক্তিভাবে প্রকাশ করতেই পারে যে কেউ।

মনে রাখা ভালো- পৃথিবীর অনেকদেশে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে ভাবলে যৌক্তিক মনে করলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা কঠিন কিছু না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(১) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। আর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, উত্থাপিত বিলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সম্মতি দিলেই সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ পরিবর্তন সম্ভব। যা ইতিপূর্বে হয়েছেও, অসম্ভব না। আর নোবেল পরিবর্তন করতেও চায়নি। চাইলে সে পারবেও না। যাই হউক ঐতিহাসিক আলাপের দিকে না গেলাম।


কিন্তু ধরে নিলাম আপনি একজন প্রতিক্রিয়াশীল। কোনো বিষয়ে দেখলে আপনি প্রতিক্রিয়া না করে থাকতে পারেন না। তাহলে একটু ফিরে তাকাই- গতবছর নেপাল ত্রিভুবনে বিমান দুর্ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনা হয় সারাদেশে। যে জীবনে একবার প্লেনে উঠে নাই, সেও অসাধারণ অভিজ্ঞতায় বয়ান করেছেন ফেসবুকে। ধুয়ে দিয়েছে পাইলটকে! ভাগ্যিস পাইলট মারা গেছেন। না হলে আমাদের হাতেই মারা পরতো। কিন্তু গতমাসে মায়ানমারে ইয়াঙ্গুন বিমান বন্দরে অবতরণকালে বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে রানওয়ে থেকে বাইরে চলে যায় বিমান। কিন্তু একজন মানুষও মারা যায়নি। যাত্রীরা জানায় পাইলটের দক্ষতার কারণে বেঁচে গেছেন তারা। এই অসাধারণ কাজের জন্য তাকে নিয়ে কোনো আলোচনা করেছেন? পোস্ট দিয়ে মতামত জানিয়েছেন?

কেন জানান নি? শুধু খারাপ বা অপছন্দের কাজ নিয়ে বললেন- ভালো কাজ নিয়ে আপনার অবস্থানটা কী! কেবল সেপুদা, হিরু আলম, রুপপুর বালিশ আর কৃষিক্ষেতে ধান কাটার ছবি ছাড়া দেশে আর কিছু ভাবনার নেই? ভাইরালের সাথে ভাইরাল হতে চায়। আচ্ছা একটু দেয়াল টপকে ভাবা যায় না কেন? বিষয়টা আর একটু পরিস্কার করি- এবারের নিবার্চনে বগুড়া থেকে হিরো আলম প্রার্থী হওয়া এমন প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কিন্তু সে সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী মো. ইদ্রিস আলী। তিনি ঢাকা-১৯ আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছেন। শুধু প্রতিবন্ধিই ছিলেন না কনিষ্ঠ প্রার্থীও বটে, তার বয়স ২৫ বছর ১ মাস ২০ দিন ছিলো। তাকে নিয়ে বলেছেন?

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি রেডিও স্টেশনে পরকালে বিশ্বাস করেন না-এমন মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী সাফা কবির। (পরে ক্ষমা চেয়েছেন) তাকে নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা। কিন্তু খবর নিয়ে দেখবেন আপনার বাসার পাশে বা রাস্তারার পাশে অনেকে আছে যারা আল্লাহকে সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করে, নানা
কষ্টে অভাবে আছে- কই তাদের জীবনের দায়িত্ব নিলেন না। গত কয়েকবছর মাহফুজুর রহমান নিজের চ্যানেলে গান করে। প্রচারিত হয়। এক আলাপে তিনি জানিয়েছে নিজের ভালো লাগা থেকে করছে এবং করেই যাবে। এদিকে তাকে নিয়ে আমাদের ঘুম নেই। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙের মতো!

অথচ সময়ের অসাধারণ জীবনমূখী গান লিখেন কামরুজ্জামান কামু, লুৎফর হাসান ও আমিরুল মোমিনিন মানিক। তাদের গান নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন? যেমন করেছেন মাহফুজুর রহমান, হিরো আলম, সাফা কবির কিংবা সেপুদার ভিডিও নিয়ে। একবার ভাবুন তো আপনার অবস্থান তাহলে কাদের নিয়ে। অসুস্থ্য ও বিকৃতি মানসিকতার পরিচয় প্রকাশ হচ্ছে না?

প্রায় দেখা যায়- কোথায় কি, কি বলেছে তার তীব্র বিরোধিতা করছি আমরা। পক্ষে-বিপক্ষে আপনাদের মাতামাতি চলছে; সে সময়ে দেখা যাবে সড়কে অব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে নাম না জানা হাজারো মানুষ, ঘরে বাইরে নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, বন্যা ডেঙ্গুসহ অন্যান্য অপমৃত্যুতে ঝরে যাচ্ছে সারাদেশে অগণিত প্রাণ। ঘুষ-দুর্নীতি থেমে নেই। আপনি আমি কোনো ভিআইপির কারণে জ্যামে আটকে থেকে অংশ নিচ্ছি জাতীয় সংগীত বিতর্কে। অনায়েসে ভুলি গেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিভুক্ত সাত কলেজের প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের মতো শিক্ষার্থীর বিপন্ন জীবনকে। এতো এতো বিষয়ে কথা বলার বোধশক্তি নেই। আমরা জানি না কোন বিষয়ে কতটুকু বলা যায়। অহেতুক ভাবনায় প্রতিদিন কতটা সময় নষ্ট করছি!

প্রসঙ্গে আবৃতিশিল্পী শহিদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেন : আপনারা চাটুকার, তেলবাজ,অযোগ্য,দলকানা,নিপীড়ক সাংস্কৃতিক কর্মী, বোদ্ধা কাউকে নিয়ে কথা বলতে ভয় পান, সৎসাহস নেই। অথচ মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে কথা ঠিকই বলেন। এই লোকটা তো চাটুকারিতা, তেলবাজি,দলবাজি করে জায়গা নিয়ে আরেকজনের সুযোগ নষ্ট করছে না। নিজের মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছে গাচ্ছে। আপনার কি? তাঁর জন্য কারো জায়গা নষ্ট হচ্ছে না। আপনারা নীতিহীন। আগে অসংগতির বিরুদ্ধে কথা বলার সৎসাহস অর্জন করেন। তেলবাজি, দলবাজিকে শ্রদ্ধা কিংবা বিনয় বলে যে বাজারে বিকোয় সেটা শিল্পের আঙিনা না। হিরো আলম কিংবা মাহফুজুর রহমান আপনাদের থেকে অনেক ভালো বলে মনে করি। ভালো না লাগলে এড়িয়ে যান শেষ বিষয়টা।’

সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয় : সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা তারকা বনে যাচ্ছেন তাদের বেলায় একটাই সমস্যা। কোন একটা ছবি বা কোন একজনের গল্প সেখানে মূহুর্তেই ভাইরাল হয় সবার মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এর ফলে কোন ব্যক্তি অতীতে কী করেছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই তাকে লোকজন নায়কে পরিণত করছে। অন্যদিকে দেশের জানা ও বোঝার মতো প্রকৃতগুলো আড়ালে থেকে যাচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


একুশ শতকে রাষ্ট্রের মহা উন্নয়ন হয়েছে অবকাঠামো দিক দিয়ে। কিন্ত মনন বা মানসিক ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি। সত্য বলতে পারি না। মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করি। যার ফলে চারপাশে ভয়াবহ সমাস্যা থাকলেও চেপে যাই। হাজারো প্রশ্ন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

আবার একটু গড্ডলিকায় গা ভাসানোর মতো বিষয়ে এলো ত কথায় নেই। সেটা যদি স্বয়ং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কিংবা রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও হয় তবু রেহাই নেই। অথচ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন’র কোনো ভুল হলেও বলার সাহস থাকে না। লুঙি খোলার ভয়ে। রাতে ঘুমাতেও পারবেন না। তার মানে সুবিধাজনক রস আলাপে অভ্যস্ত আমরা!

কালক্রমে বলা যায়- অবসাদগ্রস্থতা নগরীর মানবিক রোগের নাম। যাপিত জীবনে নৈতিকতা-মূল্যবোধ মানব অস্তিত্বের বড় দিক হলেও প্রকটভাবে সংকটও তৈরি হয়েছে। যোগ করেছে, সৃজনশীল নগরের মোড়ে মোড়ে জমাট বেঁধে নেড়ি কাকের অহেতুক চিৎকার আর চেচামেচিতে অস্বস্থিত্বকর পরিবেশ সৃষ্টি। প্রকৃত মূল্যবোধের কাঠামো ভেঙে যে বুদ্বুদ তোলার চেষ্টা চলছে, তাতে মনোরাসায়নিক দুর্গন্ধসহ পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা। সৃজনশীল মতামতের নামে কতেক তোষামোদকারী কিংবা সুবিধাবাদী লোকের আখড়ায় বেগতিক সমাজ।

প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনের দৃশ্য অদৃশ্য ইতিবাচক বিচিত্র দহন থেকেই সৃজনশক্তি প্রলুব্ধ হয়ে ভেসে আসুক ভিন্ন স্বর!

মোল্লা নাসিরুদ্দীন হোজ্জার একটা গল্প দিয়ে শেষ করি : হোজ্জার গাঁয়ের যিনি মোড়ল, তিনি একটা কবিতা লিখেছেন। হোজ্জাকে তিনি সেটা পড়ে শোনালেন। নিজের লেখা সম্পর্কে বেশ উঁচু ধারণা পোষণ করেন মোড়ল সাহেব। গদগদ কণ্ঠে হোজ্জার কাছে জানতে চান, তা, আমার কবিতাটা কেমন লাগল ? বেশ ভালো লেগেছে নিশ্চয়ই।
হোজ্জাকে দেখতে গম্ভীর। তিনি সোজাসাপটা জবাব দেন, নাহ, মোটেও ভালো লাগেনি আমার। পঁচা কবিতা।

এ কথা শুনে মোড়ল বেশ ক্ষিপ্ত হলেন। রাগের চোটে গা জ্বলে যাচ্ছে তাঁর। কড়া শাস্তি দিলেন হোজ্জাকে। টানা তিনদিন জেলে বন্দি থাকতে হলো তাঁকে। পরের সপ্তাহের ঘটনা। মোড়ল হোজ্জাকে ডেকে পাঠিয়েছেন তাঁর দপ্তরে। নতুন একটা কবিতা লিখেছেন তিনি।

সেটা বেশ ঘটা করে পড়ে শোনালেন। হোজ্জার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন মোড়ল, কী, এই কবিতাটা কেমন লিখেছি? এই কবিতা সম্পর্কে এখন আপনি কী বলবেন?

নাসিরুদ্দীন হোজ্জা নির্বিকার। তাঁর মুখে কোনো কথা নেই। মোড়লের কথা শোনার কয়েক সেকেন্ড পর তিনি হাঁটা ধরলেন। মোড়ল অবাক! জানতে চাইলেন, আরে, আরে! কী ব্যাপার? হোজ্জা, আপনি যাচ্ছেন কোথায়? জেলে। হোজ্জার সংক্ষিপ্ত উত্তর।

গল্পটা সময়ের সাথে মিলাতে পারেন, জেলে যেতে হবে না। তবে মাহফুজুর রহমান, নোবেল বিতর্কের চেয়ে চারপাশের বহুবিষয় আছে কথা বলার, আলোচনা করে সমাধান করার। যেদেশের মৌলিক চাহিদাও এখনো মিটেনি তাদের কত হম্বিতম্বি! লজ্জা লাগে অহেতুক ভাবতে। দিনশেষে আমরা তো সবাই তো ভালো থাকতে চাই, সুন্দর থাকতে চাই- তাহলে সুন্দর কাজ করার সাথে সুন্দর ভাবনা ছড়িয়ে দেই না কেন ঘরে বাইরে!

ইমরান মাহফুজ : কবি, গবেষক ও সম্পাদক, কালের ধ্বনি
emran.mahfuz@thedailystar.net