ভাবমূর্তি সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

ভাবমূর্তি সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ

সাজ্জাদ কাদির ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৯

print
ভাবমূর্তি সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ

নানা নাটকীয়তা শেষে প্রায় ২০ দিন ফেরারি থাকার পর ফেনীর আলোচিত ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হয়েছেন। ইতিপূর্বে এই ওসি সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন। অন্যদিকে বেশ কিছুদিন থেকে আলোচিত নানা অপকর্মের হোতা পুলিশের একজন ডিআইজি মিজান এখনো চাকরিতে বহাল আছেন, গ্রেফতারও হননি। তবে জানা গেছে, এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা আশা করব রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অচিরেই ডিআইজি মিজান চাকরিচ্যুত হবেন এবং সেইসঙ্গে বিধি মোতাবেক গ্রেফতার হবেন।

আলোচিত এই দুই কুখ্যাত ব্যক্তি পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য মোটেই সুখকর নয়। আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে, ‘পাপ বাপকেও ক্ষমা করে না।’ পুলিশ বাহিনীর আলোচিত দুই কর্মচারীর পাপটি মনে হয় একটু বেশিই হয়েছিল। তাই এখন তারা তাদের অপকর্মের ফল পেতে শুরু করেছেন। পাপ বেশি কমের কথা এজন্যই বলছি, দেশের সব নাগরিক জানে যে পুলিশ আর পাপ শব্দ দুটি কতটা কাছাকাছি। সরকারের যতগুলো সংস্থা আছে তার মধ্যে পুলিশ হচ্ছে দেশের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। পুলিশের ব্যাপারে একটি স্লোগান প্রচলিত আছে, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু।’ বলা যায় অনেকাংশেই কথাটি মিথ্যা। সত্যিকার অর্থে এখন পর্যন্ত পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। তবে আশার কথা হচ্ছে পুলিশকে জনগণের বন্ধু তথা জনবান্ধব করে তুলবার জন্য বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে পুলিশ বাহিনীতে এ রকম মিজান-মোয়াজ্জেম কী আর নেই? উত্তরে বলতে চাই এ রকম আরো অনেক মিজান-মোয়াজ্জেম বাহিনীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যারা দিনের পর দিন পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চলেছে। বাহিনীতে কেন এদের জন্ম হচ্ছে সেটিই এখানে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব। পুলিশের মোট জনবলের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয় নন-ক্যাডার (সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট) এবং কনস্টেবল পর্যায়ে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশেরও কম পিএসসির অধীনে ক্যাডার সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের আমলে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং সর্বমহলে প্রশংসিত।

বর্তমান সরকারের আমলে কথাটি এজন্যই বলছি, ২০০১-২০০৬ সময়ের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের সরকারি চাকরি প্রাপ্তির আশা ভরসার জায়গা পিএসসিকেও কলঙ্কিত করা হয়েছিল।

শোনা যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ছিলেন পিএসসির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। হাওয়া ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে হারিছ চৌধুরীর মাধ্যমে পিএসসিতে তালিকা পাঠানো হতো। মেধা তালিকার পাশাপাশি সেই তালিকা থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনবল ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়া হতো। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে এখনো পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে সেই হারিছ তালিকার কর্মচারীরা নিয়োজিত আছেন এবং এদের একটি বড় অংশ এখন সাচ্চা আওয়ামীপন্থি কর্মচারী সেজে ঘাপটি মেরে আছেন। শুধু ঘাপটি মেরে আছেন বললে ভুল হবে নানা অপকর্ম করে চলেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের বিগত ১০ বছরে পিএসসি এই অভিশাপ থেকে শতভাগ মুক্ত।

অন্যদিকে পুলিশের নন-ক্যাডার এবং কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যুগ যুগ ধরে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে আসছে। এখনো সেটি চলমান রয়েছে। সমাজে প্রচলন হয়েই গেছে যে টাকা ছাড়া পুলিশের চাকরি হয় না। বাতাসে খবর ভেসে বেড়ায় যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাব ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ পেতে বিশ থেকে পঁচিশ লাখ এবং কনস্টেবল পদে বারো থেকে পনের লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ভাবলেও গা শিউরে ওঠে যে একটি চাকরিতে প্রবেশ করতে গিয়ে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। নিয়োগ লাভের জন্য এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক নিয়োগ প্রার্থীকে সহায় সম্বল ভিটে মাটি বিক্রি করে চাকরিতে প্রবেশ করতে হয়।

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ৮০ শতাংশ পুলিশের নিয়োগের গোড়ায় গলদ রয়ে গেছে। চাকরিতে প্রবেশ করে এই নিয়োগপ্রাপ্তদের একটিই চিন্তা থাকে যে টাকাটি ওঠাতে হবে। এই টাকাটি ওঠাতে গিয়ে সারা দেশে কর্মরত ৮০ শতাংশ পুলিশ বেপরোয়া আচরণ করে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা পুলিশ করে না। থানা হচ্ছে পুলিশের তৃণমূল পর্যায়ের সর্বনিম্ন ইউনিট বা কার্যালয়। থানার যিনি প্রধান তিনি হচ্ছেন ওসি বা অফিসার ইনচার্জ। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের এমন কোনো ওসি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে শুধু বেতন ও প্রাপ্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমেই তার জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ হয়। কাজেই এ কথা বলা যায়, দেশের প্রায় শতভাগ থানায় এক একজন ওসি মোয়াজ্জেম বসে আছেন।

এই ওসিদের যেন এক একটি এলাকা লিজ দেওয়া হয়েছে। লিজকৃত এলাকায় যেভাবে খুশি অর্র্থ উপার্জন করতে পারে। অবাক এবং বিস্ময়ের ব্যাপার দেশের অতিরিক্ত অপরাধ প্রবণ থানাগুলোতে বদলি প্রক্রিয়াটিও অর্থের বিনিময়ে হয়ে থাকে। যে যত বেশি অর্থ দিতে পারে তাকে ততবেশি অপরাধপ্রবণ থানায় পোস্টিং দেওয়া হয়। এই ওসিদের নেতৃত্বে থানার প্রতিটি সদস্য ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ নানা প্রক্রিয়ায় সারা দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে চলেছে। পুলিশের চাঁদাবাজির আর একটি উল্লেখযোগ্য খাত সড়ক-মহাসড়ক। সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। ‘মাসিক’ নামে ট্রাফিক পুলিশের এক বিশাল চাঁদাবাজির খাত রয়েছে সেখানে। মহাসড়কে চলা গাড়ির কাগজপত্রের সমস্যার অজুহাতে যেখান থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি করা হয়ে থাকে।

যে বাহিনীর ৮০ শতাংশ নিজ হাতে দুর্নীতি করে সেই বাহিনী কীভাবে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠবে প্রশ্ন থেকে যায়। নন-ক্যাডার ও নিচের দিকের পুলিশ সদস্যরা যে দুর্নীতিতে যুক্ত এর দায় কী শুধুই তাদের? মোটেই তেমনটি নয়। উচ্চপর্যায় থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া তাদের একার পক্ষে দুর্নীতি করা অসম্ভব। সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যাডার কর্মকর্তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বাহিনীতে এলেও নৈতিকভাবে দুর্বলচিত্তের কোনো কোনো কর্মচারী দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আর এই দুর্নীতি কীভাবে করতে হয় সেই পথটিও দেখিয়ে দেয় দীর্ঘদিন দুর্নীতির পথে হাঁটা নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের প্রায়োগিক কাজগুলো করে থাকে নন-ক্যাডার থেকে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা আর সুপারভিশন ও মনিটরিং কাজগুলো করে থাকে ক্যাডার সার্ভিসের কর্মচারীরা।

নন-ক্যাডারদের দেখানো দুর্নীতির পথে কোনো কোনো ক্যাডার কর্মচারী দুর্নীতিতে দারুণ বেপরোয়া হয়ে পড়ে এবং এই শ্রেণির কর্মচারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মাঠ পর্যায়ের বিশাল বাহিনী আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারই সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভার্র্র্সন একজন ডিআইজি মিজান। তালাশ করলে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এ রকম একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিজানকে খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে এই বাহিনীতেই অসংখ্য সৎ কর্মকর্তাও আছেন। যাদের সাহসী কর্মে পুলিশ শত কলঙ্ক ও বাধা মাথায় নিয়েও আজকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দারুণ সাফল্যের মাধ্যমে একটি গৌরবের জায়গাতেও পৌঁছেছে। সেই সমস্ত সৎ এবং নিষ্ঠাবান কর্মচারীকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে অসৎ কর্মচারীদের ধিক্কার জানাই।

সাম্প্রতিক সময়ে চলমান কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেলায় জেলায় পুলিশ সুপারদের কণ্ঠে একটি সাহসী উচ্চারণ শুনতে পাচ্ছি। শুধু পরীক্ষার ফি বাবদ সরকারি কোষাগারে যে টাকাটি জমা দিতে হয় সেই টাকায় কনস্টেবল নিয়োগ পাবেন। কোনো প্রকার দালাল ধরতে হবে না এবং লাখ লাখ টাকাও ব্যয় করতে হবে না। এই উচ্চারণটি যদি সত্যে পরিণত হয় তাহলে সেটি হবে পুলিশের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা চাইব দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশের নিয়োগের যে কলঙ্ক বিদ্যমান আছে দেশব্যাপী এবার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কনস্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে সেই অপবাদ ঘুচে যাবে এবং একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে পুলিশ নিয়োগে এক নতুন যাত্রার শুভ সূচনা হবে।

সেকেলে ধ্যান ধারণা নিয়ে থাকার সময় নেই। পরিবর্তন করতেই হবে। কারণ সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। ওপরে বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অপ্রিয় হলেও সত্য অনেক নেতিবাচক কথা বললাম। এবার পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো এবং পুলিশের সাফল্যের কথা বলতে চাই। বর্তমান সরকার বিগত দশ বছর পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সময়োপযোগী করতে যে পরিমাণ পদক্ষেপ নিয়েছে অতীতে এমনটা চোখে পড়েনি। এরই মধ্যে পুলিশে জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর ৩০ এপ্রিল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৪ জন। যদিও সংখ্যাটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কারণ জাতিসংঘের মান অনুযায়ী প্রতি ৪০০ জনে একজন অর্থাৎ বাংলাদেশে ১৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে ৪ লাখ পুলিশ দরকার। তবে যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে সেহেতু সংখ্যাটি আগামী অল্প সময়ের মধ্যে আরো বড় আকার ধারণ করবে বলে আশা করা যায়।

বর্তমান সরকারের সময়েই গঠন করা হয়েছে নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এসপিবিএন, এন্টি টেররিজম ইউনিট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশ বাহিনীর। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ বাহিনী দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। উইকিপিডিয়ার সূত্রমতে, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি বাংলাদেশের। মাঠপর্যায়ে নন-ক্যাডার কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য ডিপার্টমেন্টাল ইন্সপেক্টরদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদার দাবিটিও পূরণ করেছে বর্তমান সরকার। যেটি আগে দ্বিতীয় শ্রেণির ছিল। আইজিপি পদকে থ্রি স্টার জেনারেল বা সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। চারজন অতিরিক্ত আইজিপিকে দেওয়া হয়েছে সচিব পদ মর্যাদা। পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো হয়েছে। এক সময়ের হাজারো সমস্যায় জর্জরিত পুলিশ বাহিনী এখন অনেকটাই স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পুলিশই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা বাহিনী। একজন ডিআইজি, বেশ কয়েকজন এসপিসহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্তে রঞ্জিত বাহিনী কেন দীর্ঘদিন কলঙ্কের বোঝা বয়ে বেড়াবে? এটি কোনোভাবেই হতে পারে না। তাই সময় এসেছে পরিবর্তনের। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি সরকারের এখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কোনো ইতিবাচক কাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক এবং কোনো রকম অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া একজন মানুষ। অন্যদিকে বর্তমান আইজিপিসহ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাহিনীতে অসংখ্য সৎ অফিসার আছেন। তারা সরকারের আন্তরিকতাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ বাহিনীকে এক একজন কলঙ্কিত মিজান-মোয়াজ্জেমদের হাত থেকে মুক্ত করবেন এবং ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপদান করে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন। আমরা সাধারণ মানুষ সেটিই প্রত্যাশা করব।

সাজ্জাদ কাদির : লেখক, কলামিস্ট, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও তথ্যচিত্র নির্মাতা
sazzadkadir71@gmail.com