দেশসেরা রেডিওথেরাপি বিএসএমএমইউতে

ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬

দেশসেরা রেডিওথেরাপি বিএসএমএমইউতে

ডা. সারওয়ার আলম

সুলতান মাহমুদ ১০:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০১৯

print
দেশসেরা রেডিওথেরাপি বিএসএমএমইউতে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি (ক্যান্সার বিষয়ক চিকিৎসা) বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলম। খোলা কাগজের সঙ্গে একান্ত আলাপে বলেছেন দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কোলন ক্যান্সার, লক্ষণ ও প্রতিরোধ, বিএসএমএমইউতে ক্যান্সার চিকিৎসার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুলতান মাহমুদ

বিএসএমএমইউতে রেডিওথেরাপি কবে শুরু হবে?
লিনিয়ার মেশিন কেনা হয়েছে। এটা একটি বিশেষ রুমে স্থাপন করতে হয়, যেটাকে বাঙ্কার বলে। মেশিনটা ইতোমধ্যে বাঙ্কারে বসে গেছে। ব্যবহার করার আগে কিছুটা টেকনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সেই কাজটি চলছে। বিষয়টি একটি টেকনিক্যাল ব্যাপার, রেডিওথেরাপির যে ডোজটা আমরা দেব সেই বিষয়গুলো আমরা এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। দেখছি, মেশিনে কোনো লিকেজ হচ্ছে কি না, ইলেকট্রিক্যাল দিকগুলো দেখছি, ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। তাছাড়া অন্যান্য যে টেকনিক্যাল সাইট আছে সেগুলো আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখছি। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজটি হয়ে যাওয়ার কথা। আশা করি, আগস্টেই আমরা রোগীর চিকিৎসাসেবার জন্য মেশিনটি ব্যবহার করতে পারব।

একজন রোগীকে কত দিন ধরে রেডিওথেরাপি দিতে হয়?
এটা রোগের ওপর নির্ভর করে। ১৫ দিন, ২০ দিন কিংবা ৩০ দিন। আবার অনেকের ৩৫ দিনও দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সপ্তাহে ৫ দিন দেওয়াটা হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম। ডোজ অনুযায়ী প্রতিদিন একজন রোগীকে দুই মিনিট থেকে সাড়ে তিন মিনিট পর্যন্ত রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। এটা আবার দিতে হয় একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। যদি সেটা না হয় তাহলে ক্যান্সারটা যেখানে আছে সে জায়গায় কিন্তু ডোজ ডেলিভার হলো না। ক্যান্সারের জীবাণু যেখানে ডোজটা সেখানেই দিতে হবে, তা না হলে ভালোর বদলে খারাপও হতে পারে।

ক্যান্সারের জায়গাটা কীভাবে চিহ্নিত করছেন?
সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যান্সারের জায়গা চিহ্নিত করি। কতটুকু জায়গা নিয়ে হয়েছে সেটা রেডিওথেরাপি দেওয়ার সময় সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট মিলিয়ে নিই, এটাকে বলা হয় সিটি সাইমুলেটর। যেমন, রোগীর ক্যান্সার হয়েছে ফুসফুসে। এখন ফুসফুসের কতটুকু ক্যান্সার হয়েছে সেটা আগে সিটি স্ক্যান দিয়ে চিহ্নিত করব। কিন্তু যখন ট্রিটমেন্ট ডেলিভারি দেব তখন আমরা আমাদের মেশিনে সিটি স্ক্যান করে তার যে আসল পজিশন, যেটা আগে সিটি স্ক্যানে পেয়েছি তা সাইমুলেশন করে চিকিৎসা শুরু করব।

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কী কী মেশিনের প্রয়োজন?
রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য চারটির মতো মেশিন দরকার হয়। একটি হচ্ছে লাইন্যাক মেশিন। অন্যগুলো সিটি সাইমুলেটর, ইমমোবিলাইজেশন ডিভাইস এবং ডোজিমেট্রিক সিস্টেম। এই চারটি মিলিয়ে ডেলিভারি ট্রিটমেন্ট দিতে হবে।

এটি পরিচালনার জন্য আলাদা লোক আছে নিশ্চয়ই...
এটি চালানোর জন্য তিন ধরনের লোক লাগবে। এক. অনকোলজিস্ট (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ), যিনি মূল চিকিৎসক দুই. চিকিৎসককে সহায়তা করবে মেডিকেল ফিজিস্ট, তাদের হতে হবে রেডিয়েশন ফিজিস্ট। তিন. টেকনোলজিস্ট। এই তিন শ্রেণির লোকের সমন্বয়ে ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। মেডিকেল ফিজিস্টদের কাজ হচ্ছে ডোজটা সঠিক জায়গায়, সঠিকভাবে মেশিন দ্বারা দেওয়া হচ্ছে কি না তা দেখা। এই লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া তিনজন মেডিকেল ফিজিস্ট বিএসএমএমইউতে অলরেডি আছে।

দৈনিক কতজন লোক চিকিৎসা নিতে পারবে?
একজন রোগী আসার পরে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করতে হয়। সে ক্ষেত্রে আপাতত আমরা দৈনিক ৫০-৬০ জনের চিকিৎসা দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছি। কেননা রোগী আসার পর তার সমস্যাটা আইডেনটিফাই করার জন্য নানা পরীক্ষা নীরিক্ষার দরকার হয়। তাকে কোথায় থেরাপি দিতে হবে, কী পরিমাণ ডোজ দিতে হবে, সাইমুলেশন করা, ইমমুবাবল করা এসব কিছু চিকিৎসার অংশ। কাজেই যেটা বলছি শুরুর দিকে সেটার বেশি দেওয়া মনে হয় সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়বে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় সব রোগীকে ভর্তি করা দরকার হবে কি?
সব রোগীকে ভর্তি করার দরকার হবে না। আউটডোর হিসেবে রোগীরা আসবে। রোগীর রেজিস্ট্রেশন করা থাকবে। প্রথমে রোগীর রেডিও থেরাপির প্লান করব। তারপর তাকে বলব অমুক তারিখে আপনার চিকিৎসা শুরু হবে। তখন রোগী এসে তার মূল চিকিৎসা নেওয়া শুরু করবেন।

ক্যান্সারে অনেকে বিদেশে যায়। আমাদের দুর্বলতা কোথায়?
আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই। আমরা রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য যে মেশিনগুলো আনছি বা বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় যেখানে রেডিওথেরাপি মেশিনগুলো রয়েছে সবগুলোই বিশ্বমানের। বাংলাদেশে যারা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আছেন তারা সবাই দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। নিজ নিজ কেন্দ্রগুলোয় যেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেখানে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের জনসংখ্যা। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য এই মুহূর্তে কমপক্ষে ১৫০টি রেডিওথেরাপি সেন্টার দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের সেন্টার আছে ৩১ কিংবা ৩২টি।

ঢাকায় সেন্টার আছে মাত্র ৭টি। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে সরকারি। একটি ঢাকা মেডিকেলে এবং অন্যটি মহাখালী ক্যান্সার হসপিটালে। এছাড়া সিএমইচএও আছে। আর বেসরকারি আছে ৪টি। সেগুলো হলো ডেল্টা মেডিকেল হাসপাতাল, আহসানিয়া মিশন হাসপাতাল, ইউনাটেড হাসপাতাল ও স্কয়ার হাসপাতাল। আর ঢাকার কাছে সাভার এনাম মেডিকেলেও একটি আছে। ঢাকায় এসব হাসপাতালে সব মিলিয়ে রেডিওথেরাপি ২০ থেকে ২২টি মেশিন আছে। যেখানে আমাদের দরকার ৬০ থেকে ৮০টি। আর ঢাকার বাইরে বেসরকারিভাবে দুটি হাসপাতালে রেডিওথেরাপি দেওয়া যায়, একটি খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে এবং সিলেটের নর্থইস্ট। আর সরকারিভাবে আমাদের পুরনো ৮টি মেডিকেল কলেজে নতুন মেশিন রিপ্লেস করা হচ্ছে। বাকি ১৩টি মেডিকেল কলেজেও মেশিন স্থাপন করা হবে। আমাদের রেডিওথেরাপি মেশিন কম থাকার কারণে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। অনেককে দুই মাস কিংবা তিন মাস পর চিকিৎসার তারিখ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে যাদের সামর্থ্য আছে তারা অপেক্ষা না করে বিদেশে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিএসএমএমইউতে ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয় কেমন?
ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল তা সবাই জানে। কিন্তু আমরা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য যতটা খরচ কম নেওয়া যায় তার চেষ্টা করব। যেহেতু এটি জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়, খরচ বহন করে সরকার। তাই এখানে আমাদের লাভের বিষয়টি তো আসছে না। আমরা সবার সঙ্গে বসব এবং ক্যান্সারের চিকিৎসার যন্ত্রগুলো মেইনটেন্যান্সের জন্য যে খরচ দরকার হয়, সেই টাকাটা যাতে উঠে আসে সে বিষয়টিকে মাথায় রেখে খরচ নির্ধারণ করব। এখনই বলতে পারছি না কত খরচ হবে। এটা রোগীর রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করবে। তবে বাংলাদেশের অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে এখানে খরচ কম হবে এটা ধরে নিতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য সেবা।

আপনাদের স্থান সংকুলান হবে কি?
আপাতত স্থান সংকুলান নেই। আমাদের বিভাগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের ১৫ তলায়। বেড ছিল ১৫টি। কিন্তু এখন নতুন এই ভবনের নাম অনকোলজি বিল্ডিং (ক্যান্সার ভবন)। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় আমরা এখানে সব কিছুই পাচ্ছি। এই ভবনে আসার পর বেড হয়েছে ৩৬, অনুমোদিত ৬০। কেমোথেরাপি ডে কেয়ারে আগে ছিল ৮টি বেড এখন ১৫টি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ রেডিওথেরাপি সেন্টার হবে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে। আমরা জুলাই-আগস্টে চিকিৎসা শুরু করব। যদি রোগী বেড়ে যায় তাহলে নতুন কোরিয়ান প্রজেক্টের ১৩ তলা ভবনের একটি অংশ আমাদের দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বর্তমান ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

দিন দিন ক্যান্সারের রোগী বাড়ছে। এর পেছনের কারণটা কি?
জনসংখ্যা বাড়ছে। সুতরাং ক্যান্সারের রোগী বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এর পাশাপাশি আরও কারণ আছে। যেমন : বায়ুদূষণ, খাদ্যে ভেজাল, খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ। এসব কারণে ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া আমাদের লাইফস্টাইলের কারণেও ক্যান্সার বাড়ছে। আমরা ব্যায়াম করতে পারছি না। বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড খাচ্ছি। এসব ফাস্টফুডের মধ্যে অনেক সময় ক্যান্সারের এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া আরও কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাকের ব্যবহার। সেটা ধোঁয়াবিহীন তামাক হোক কিংবা ধোঁয়াযুক্ত তামাক হোক। আরো একটি কারণ হচ্ছে, আমাদের গড়আয়ু বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণত বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। এর মধ্যে যে কোনো একটি ফ্যাক্টরে ক্যান্সারের রোগী বেড়ে যাচ্ছে তা নয়। এটা মাল্টি ফ্যাক্টরের কারণে হয়ে থাকে।

এটা প্রতিরোধে আমাদের কী করণীয়?
কিছু ফ্যাক্টর আছে মডিফায়াবল আর কিছু আছে আনমডিফায়াবল। মডিফায়াবল ফ্যাক্টর নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও আনমডিফায়াবলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এগুলো হলো, জিনগত সমস্যা। তাছাড়া বয়স বেড়ে গেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এ সমস্যাগুলো তো সমাধান করা কঠিন। তবে যেগুলো পরিবর্তন করা যায়, যেমন তামাকের ব্যবহার না করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। যদি তামাক নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে ৩০ ভাগ ক্যান্সারের রোগী কমে যাবে। এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।

জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণ কী?
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হচ্ছে লাইফ স্টাইল। যদি একজন মানুষ শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপন না করে, তাহলে এটা হতে পারে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকা, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌন মিলন করার কারণে জরায়ু মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অল্প বয়সে বিয়ে করলেও এর আশঙ্কা থাকে। নিয়ম কানুন মেনে চললে এগুলো কিন্তু এড়ানো যায়।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ কি?
অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে বেশি দেরিতে বিয়ে করা, বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, বিভিন্ন ধরনের পিল ব্যবহার অন্যতম।

কোলন ক্যান্সারের কারণ কী?
পায়ুনালির ক্যান্সারকে বলা হয় কোলন ক্যান্সার বা রেক্টাল ক্যান্সার। বিশ্বে কোলন ক্যান্সারে আমাদের দেশের অবস্থান চার নম্বরে। কোনো কোনো জরিপে আমরা পাঁচ নম্বরে। এর কারণ হচ্ছে খাদ্যে ভেজাল, খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যগ্রহণ, শাক-সবজি কম খাওয়া। শুধু আমাদের দেশে নয় বিদেশে কোলন ক্যান্সারের মাত্রা বাড়ছে।

ক্যান্সার হলে বাঁচার উপায় নেই, মানুষ এমনটা মনে করে...
কেউ বাঁচবে না, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সবাই মারা যাবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, মডিফায়াবল ফ্যাক্টরগুলো যেন আমরা পরিহার করি। ক্যান্সার হলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা হচ্ছে সূচনায় যদি ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাহলে খুবই ভালো।

ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা বিভিন্ন সময় সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেয়। যেমন : বিশ্ব ক্যান্সার দিবস, তামাকমুক্ত দিবস, অক্টোবরে চলে ব্রেস্ট ক্যান্সার মাস। এসব জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া। মডিফায়াবল ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘সেভেন ওয়ার্নি সাইন’। এগুলো মনে থাকলে আমরা এ বিষয়গুলো দ্রুত আইডেনটিফাই করতে পারি। এক. শরীরে যদি কোনো ধরনের চাকা বা পিণ্ড তৈরি হয় সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। দুই. তিন সপ্তাহের অধিক কোনো কারণ ছাড়া কাশি থাকলে এটিকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। তিন. তিন সপ্তাহের অধিক যদি কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়, এটির কারণ খুঁজতে হবে। চার. চামড়ার মধ্যে তিল হলে এবং তা যদি চুলকায় এবং পরিবর্তনের দিকে যায় তাহলে বিষয়টি আমলে নিতে হবে। পাঁচ. প্রস্রাব-পায়খানায় কয়েক মাস ধরে পরিবর্তন দেখা দিলে। ছয়. অস্বাভাবিক কোনো রক্তক্ষরণ যেমন : কাশি দিয়ে রক্ত যাওয়া বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া এগুলো ক্যান্সারের লক্ষণ। সাত. খেতে ইচ্ছে করছে না-এমনটা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে। এগুলো হলে
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়গুলো দেখতে হবে। ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সচেতনতা।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
খোলা কাগজ পরিবারের জন্য শুভকামনা।