দান-সদকার সর্বোত্তম সময়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দান-সদকার সর্বোত্তম সময়

যুবায়ের আহমাদ ৯:০৬ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

print
দান-সদকার সর্বোত্তম সময়

ইবাদতের ভরা বসন্ত রমজানে প্রতিটি ইবাতদের মতো এর দান-সদকার সওয়াবও বেড়ে যায়। রমজানে মানুষের চাহিদা একটু বেড়ে যায়। কারণ সবাই চায় সারা দিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় যেন একটু ভালোভাবে ইফতার করতে পারেন। সাহরিতে তৃপ্তিসহকারে সামান্য খাবারের সংস্থান করতে পারেন। আমাদের চারপাশের অভাবী রোজাদারদের দিকে খেয়াল রাখা আমাদের অন্যতম বড় ইমানী দায়িত্ব। নিজেরা সামান্য কম খেয়ে হলেও প্রতিবেশীর চাহিদা পূরণ করা উচিত।

গরিব-দুঃখীদের জন্য সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে সওয়াব অর্জনের সর্বোত্তম সময় রমজান। অনেক গরিব-দুঃখী মানুষ আছেন যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানের তাদের দুঃখ খানিকটা বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি মুসলমানের ইমানী কর্তব্য। সদকা মানুষকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে।

মহানবী (সা.) বলেন, পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয় নিশ্চয় তেমনি সদকাও কবরের আজাবকে নিভিয়ে (বন্ধ করে) দেয় (জামে তিরমিজি)। তাই তো রসুলে কারিম (সা.) বলেন, তোমরা খেজুরের সামান্য অংশ সদকা করে হলেও নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর (সাহিহ বুখারি ও মুসলিম)। কেউ যদি অভাবীদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে, তা যত কম অথবা ছোটই হোক না কেন আল্লাহতায়ালার কাছে তা খুবই প্রিয়।

অভাবী মানুষকে খাবার প্রদান করা একটি উত্তম সদকা। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, এক লোক নবীজি (সা.) কে প্রশ্ন করল, ‘ইসলামের কোন কাজটি উত্তম?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘কাউকে খাবার খাওয়ানো...’(সহিহ বুখারি)।

পক্ষান্তরে সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যারা অভাবীদের জন্য খাবার পানীয় নিয়ে এগিয়ে আসবে না তাদের জন্য আল্লাহর দয়া সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না (জামে তিরমিজি)। অভাবী প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্থ রেখে যে ব্যক্তি উদরপূর্তি করে খায় রসুলে কারিম (সা.) তাকে কঠিন ভাষায় সতর্ক করেছেন। এমনকি ‘সে মুসলমান নয়’- এমন কঠিন ভাষাও তিনি প্রয়োগ করেছেন। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে তার প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্থ রেখেও পেট ভরে খায়’ (সুনান আল কুবরা)।

অনেকে গরিব ও অসহায়দের জন্য দান-সদকা করলেও পিতামাতা বা পরিবারের সদস্যদের জন্য খরচ করতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। তাদের ধারণা হলো পিতামাতা, স্ত্রী-সন্তানের জন্য খরচ করলে তো আর সওয়াব পাওয়া যাবে না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। মুমিনের পারিবারিক খরচও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিম যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে তা সদকা হিসেবে গণ্য হয় (সহিহ মুসলিম)।

অপর হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একটি দিনার তুমি জিহাদের জন্য খরচ করেছ, একটি দিনার দাস মুক্তির জন্য ব্যয় করেছ, একটি দিনার একজন নিঃস্বকে দান করেছ এবং একটি দিনার নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। এগুলোর মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে সর্বাধিক বড় হলো যা তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ (সহিহ মুসলিম)।

আমাদের যাদের সামর্থ্য কম তারাও প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারি। নিজের অপ্রয়োজনের খরচগুলো কমিয়ে, ধূমপানের মতো খারাপ অভ্যাসগুলো ছেড়ে দিয়ে তা দিয়ে জান্নাতের সদাইপাতি কিনতে পারি। তা দিয়ে একজন রোজাদারকে ইফতার করিয়ে লাভ করতে পারি পূর্ণ রোজার সওয়াব। আমার যে প্রতিবেশী বা আত্মীয়টি ইফতারের সংস্থান করতে পারে না, কারও কাছে হাতও পাততে পারে না আমাদের খরচ বাঁচিয়ে ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে তার ঘরে ইফতার পাঠাতে পারি।

আমাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এ ইফতার সামগ্রী বা খাদ্যদ্রব্য যদি কমও হয় তবু আল্লাহতায়ালার কাছে তা খুবই প্রিয় হবে। রসুলে কারিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ দান করবে (আল্লাহর কাছে তা এতই প্রিয় হবে যে) আল্লাহ একে ডান হাতে কবুল করবেন। এরপর একে দাতার জন্য তোমাদের কারও অশ্বশাবককে প্রতিপালন করার মতো করবেন এবং প্রতিপালন করতে করতে পাহাড় পরিমাণ বড় করবেন (পাহাড় পরিমাণ দানের সওয়াব দান করবেন)। (সহিহ বুখারি)।

যুবায়ের আহমাদ : খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, বোর্ড বাজার (আ. গনি রোড), গাজীপুর