ভোক্তার অধিকার সচেতনতা বাড়ছে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫

ভোক্তার অধিকার সচেতনতা বাড়ছে

ড. কাজল রশীদ শাহীন ১:০০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

print
ভোক্তার অধিকার সচেতনতা বাড়ছে

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর। বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস, বাংলাদেশে এ দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য, অধিদপ্তরের বহুমুখী কর্মতৎপরতা ও দায়িত্ব, ভোক্তার অধিকার এবং সচেতনতা সম্পর্কে বলেছেন খোলা কাগজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ড. কাজল রশীদ শাহীন

আজ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। বাংলাদেশে এ দিবসের যাত্রা কবে থেকে?
২০১০ সাল থেকে। তারপর থেকে নিয়মিত পালন করা হচ্ছে।

এতদিনে ভোক্তার সচেতনতা কতদূর হয়েছে বলে মনে করেন?
সচেতনতা দিন দিন বাড়ছে। কারণ এটা তো এখন আমরা নগর-মহানগর থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছি। দিবসটিতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়। এ বিষয়ে আমরা রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করি, উপজেলা পর্যায়ে যারা বিজয়ী হয় তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়। ব্যান্ড পার্টির আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয় এ দিবসকে ঘিরে। এছাড়া ঢাকায় গণশুনানি, সেমিনার, আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সভার আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটা কি পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়েই শুরু হলো, নাকি আমরা স্বতন্ত্রভাবে শুরু করলাম?
১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ভোক্তা অধিকার বিষয়টি দেশটির কংগ্রেসে সর্বপ্রথম তুলে ধরেন। ১৯৮৩ সাল থেকে লন্ডনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সিআই’ এদিনটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছর একটি প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালন করে আসছে। আমাদের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে, কিন্তু কর্মকাণ্ড শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ২০১০ সাল থেকে আমরা বিশ্ব ভোক্তা দিবস পালন করে আসছি। এবারও আমরা উদযাপন করব, বাংলাদেশেও উদযাপিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ জেলা-উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি হবে, আলোচনা সভা হবে। সেখানে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা থাকবে, কর্মকর্তারা থাকবেন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের লোকজন থাকবেন। তবে অনিবার্য কারণবশত আজ ১৫ মার্চ ঢাকায় এটি পালন করতে পারছি না। ঢাকায় দিবসটি পালিত হবে এপ্রিলের মাঝামাঝি।

এবারের প্রতিপাদ্য কী?
‘ট্রাস্টেড স্মার্ট প্রোডাক্ট’, বাংলা করা হয়েছে- ‘নিরাপদ মানসম্পন্ন পণ্য’। প্রতিপাদ্যটি যুগোপযোগী হয়েছে। কারণ টাকা দিলেও আমরা প্রতিশ্রুত পণ্য পাচ্ছি না। ভেজাল দেওয়া হচ্ছে বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যও বিক্রি করছে; দ্বিতীয়-তৃতীয় ক্যাটাগরির পণ্য দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের দেশে ভোক্তার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা কি ধীরে ধীরে বাড়ছে?
অবশ্যই বাড়ছে। কারণ ভোক্তারা যে তাদের অধিকার নিয়ে জানছে এবং এর প্রতিকার পাচ্ছেন তা স্পষ্ট হচ্ছে অভিযোগের সংখ্যা থেকে। ২০১৫-১৬ সালে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৬৬২টি, ২০১৬-১৭ তে এসে দাঁড়াল ৬১৯০-তে। অর্থাৎ দশগুণ বেড়ে গেল। এর পরের বছর, ২০১৮-তে ৯০১৯টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানে জনগণ জানছে। জানার পরই তো তারা অভিযোগ করছে। আগে জানতও না, অভিযোগও করত না। আর এক সময় তো প্রতিষ্ঠানই ছিল না।

আপনার হাত দিয়েই কি যাত্রা এই প্রতিষ্ঠানের?
না, না। শুরু হয়েছিল আবুল হোসেন মিয়ার হাত ধরে। উনি এখানে সাত বছর ছিলেন, তারপর আমি আছি দুই বছর নয় মাস ধরে।

আমাদের পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়টা...
আমরা ভোক্তা অধিকারের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। তবে খুব বেশি সাড়া পাইনি। তারপরও রিমাইন্ডার দিয়ে যাচ্ছি। যোগাযোগ করছি এটাকে যুক্ত করার জন্য। আসলে পাঠ্যপুস্তকে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন তো হুট করে করা যায় না। নানা পর্যায়ে সভা করতে হয় তাদের। বিভিন্ন নিয়ম-কানুনও আছে। এরপরও আমরা আশাবাদী।

ভোক্তারা যে ভোক্তা অধিকারের অভিযোগ করবে, এর প্রক্রিয়াটা কী?
অভিযোগ করতে কোনো কোর্ট ফি লাগে না, উকিল লাগে না। ই-মেইলের মাধ্যমে, ফ্যাক্সের মাধ্যমে কিংবা ডাকযোগেও অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগের জন্য লাগে রসিদ বা এমন কিছু এভিডেন্স।

প্রত্যেকটা অভিযোগেরই কি নিষ্পত্তি করেন আপনারা?
হ্যাঁ, প্রত্যেকটা অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করি। যে অভিযোগের কোনো প্রমাণপত্র থাকে সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের করার কিছু থাকে না। নথি ছাড়া তো আসলে কিছু হয় না। আবার নথি থাকলেও অনেকগুলো প্রমাণিত হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিযোগকারী আসছেন না। অভিযুক্ত না এলে আমরা অবশ্য পুলিশ পাঠাই।

কেউ যদি ইচ্ছা করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে হেনস্তা করতে চায়, তখন আপনারা কী করেন?
সেটা আমরা বিবেচনা করি। নিয়মানুযায়ী অনেকে জরিমানার ২৫% পাওয়ার জন্য এমনটা করে থাকে। দেখা গেল মাত্র এক গ্লাস পানি খেয়েই সেটার একটা সমস্যা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে এলো।

জরিমানার টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট অভিযোগকারীকে দেওয়া হয় কেন?
এটা আইনের মধ্যে দেওয়া আছে। যা জরিমানা করা হবে তার টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট পাবেন অভিযোগকারী।

এটা একটু কম হয়ে গেল না? আরও বেশিও তো পেতে পারতো...
কেন, এটাই তো অনেক বেশি। দেখা গেল, পানির দাম বেশি রেখেছে পাঁচ টাকা। কিন্তু আমরা তো জরিমানা করেছি দশ হাজার টাকা। সেখান থেকে অভিযোগকারী পাচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা।

আপনারা সাধারণত কোন ধরনের অভিযোগ বেশি পান?
দাম বেশি- এই অভিযোগটাই বেশি পাওয়া যায়। মোবাইল ফোন কোম্পানির যে প্রতারণা, এ নিয়ে অনেক বেশি অভিযোগ পড়ে। কোম্পানিগুলো প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে এমন ২ হাজারের ওপর অভিযোগ জমা আছে বর্তমানে।

কমন সমস্যা, কিন্তু অভিযোগ করল একজন- এমন অবস্থায় কী করেন?
আমাদের এখানে সব ওয়ান টু ওয়ান। যে অভিযোগ করবে তাকে ধরেই সিদ্ধান্ত হবে। জরিমানার নির্দিষ্ট অংশটাও তিনিই পাবেন।

বিদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে আপনারা কী করেন?
ওই দেশের মুদ্রার মান অনুযায়ী টাকার অঙ্কে যা হয় দাম তো তাই হবে। এখানে কাস্টমস খরচ আছে, ভ্যাট আছে। এ বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হবে। যেমন কোনো একটা পণ্যে গায়ের মূল্য ১০ রুপি লেখা। এক্ষেত্রে ১০ রুপি বাংলাদেশি টাকায় যা হয় পণ্যের দাম তাই হবে; সঙ্গে যোগ হবে কাস্টম ও ভ্যাট। যোগ হওয়ার পর একটা মূল্য নির্ধারণ করবে তারা। সেটা অবশ্য এনবিআর করে দেবে।

বিদেশি জিনিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়- একই জিনিসের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দাম...
এর কারণ হয়তো ওই পণ্যটি প্রোপার চ্যানেলে বাংলাদেশে ঢোকেনি।

এসব ক্ষেত্রে কি আপনারা নিজেরাই ব্যবস্থা নেন, নাকি কেউ অভিযোগ করলে...?
আমরা নিজেরাই অভিযান পরিচালনা করি। যখন কসমেটিকস দোকানে যাই বা অন্য কোনো দোকানে যাই, যখন দেখি এমন জিনিস আছে, তখন তাদের ধরি।

অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস পাওয়া যায়...
মেয়াদোত্তীর্ণ বেশি পাওয়া যায় ওষুধের ক্ষেত্রে। আমরা ওখানে বেশি নজর দিই কারণ ওষুধের সঙ্গে কোনো আপস নেই। ওষুধের ব্যাপারে আমরা খুবই কঠোর। দেখা গেছে, অভিযানের পর অনেকে ভালো হয়ে গেছে।

অভিযান পরিচালনার জন্য ভোক্তা অধিকারের কি নিজস্ব টিম আছে?
টিম মানে আমাদের কর্মকর্তারা আছেন। সঙ্গে আমাদের পুলিশ নিতে হয়। আমাদের তিনটা টিম কাজ করছে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায়ও আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

পত্রিকাগুলোতে যখন ভেজালের নিউজ হয়, তখন কি আপনারা নিজেরা অ্যাকশনে যেতে পারেন? নাকি কারও অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়...
আমরা নিজেরাও যেতে পারি। অভিযোগের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া যায়, আবার আমাদের যে টিম যাচ্ছে, তারা যদি কোনো অভিযোগ পায় তাহলেও জরিমানা করা যায়। মনে করেন, আজ গুলশানে যত দোকান আছে, এমনকি যত ফার্মেসি আছে, যত রেস্টুরেন্ট আছে, যত কসমেটিকসের বিক্রয়কেন্দ্র আছে, সবগুলোতে একসঙ্গে অভিযান চালানো হলো। তারপর অভিযোগের ভিত্তিতে জরিমানাও করা হলো।

এটার সেভেন্টি ফাইভ পার্সেন্ট তখন আপনারা সরকারি খাতে দিয়ে দেন?
না, এটার পুরোটাই সরকারি খাতে যায়। কারণ আমরা যে জরিমানা করেছি সেটা তো কারও অভিযোগের ভিত্তিতে না।

জেলা পর্যায়ের চিত্রটা কেমন?
অভিযোগ বেশি পড়ছে রাজধানীতে। শিক্ষিত লোকরা বেশি করছেন। জেলা পর্যায়ে এখনো কম, উপজেলা পর্যায়ে আরও কম। উপজেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বিষয়টা চাঙ্গা করার জন্য। যাতে বিষয়টা মানুষ জানে।

প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় কি অফিস আছে?
জেলায় আছেন। তবে ২০ জেলায় অফিসার নেই। সেসব জেলায় পার্শ্ববর্তী জেলার অফিসার দায়িত্ব পালন করেন।

জেলায় কি কোনো ডাটা আছে?
হ্যাঁ, আছে। কোন জেলায় কত অভিযোগ এবং কোন ধারায় সেগুলো করা হয়েছে- সব আমরা বলতে পারব। জাতীয় পর্যায়ে আমরা একটা হিসাব করি, কোথায় কতটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে। এই যেমন ধরুন পণ্যে মোড়ক ব্যবহার না করার জন্য অভিযোগ এসেছে ১৩ হাজার ছয়টা। জরিমানা হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৩৮০ টাকা। এরপর মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করাও আছে।

ভোক্তা অধিকারের বিশ্বব্যাপী চিত্রটা কেমন?
ভারতের কথা যদি চিন্তা করি, সেখানে এ প্রতিষ্ঠানটি খুব শক্তিশালী। এদের সঙ্গে ২০০ এনজিও আছে। ইন্দোনেশিয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আছে ১৫০টা এনজিও। আমাদের সঙ্গে কোনো এনজিও নেই। শুধু ক্যাব আছে, সেটিও তেমন শক্তিশালী নয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভোক্তা অধিকার নিয়ে আমাদের অবস্থানটা কেমন?
আমাদের অবস্থান আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে।

যে যুক্তরাষ্ট্রে এটা শুরু হয়েছিল, সেখানে কী অবস্থা?
খুবই শক্তিশালী। কানাডা, ইউরোপের দেশগুলোয়ও ভোক্তা অধিকারের বিষয়টি খুব শক্তিশালী। এমনকি চীন, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার উন্নত দেশগুলোয় এ বিষয়ে আইন-কানুন অত্যন্ত কড়া।

মানুষের মাঝে সচেতনতাও প্রবল। আমি ২০০৭ সালে চীনে গিয়েছিলাম। একটা মাথাব্যথার ওষুধের জন্য তিন কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছিল। তিন কিলোমিটার পর ফার্মেসি পেয়েছি। অথচ বাংলাদেশে, ঢাকা শহরে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কমপক্ষে ৩ হাজার ওষুধের দোকান আছে। আমার বাসার সামনেই তিন-চারটা ওষুধের দোকান। এখানে শিশুখাদ্য, দুধের মধ্যেও ভেজাল মেশানো হচ্ছে।

ফরমালিন ও মেলামাইন মেশানো হচ্ছে দুধে?
ফরমালিনটা তৈরি হয়েছিল কেন? বডি যাতে ডি-কম্পোজড (পচনশীল) না হয়। মৃত মানবদেহ কিংবা পশুর দেহ সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গবেষণাগার আছে, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যে ল্যাবরেটরি আছে, সেখানে দেখবেন সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন প্রাণী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এখন সেই ফরমালিন এখানে দুধে মেশানো হচ্ছে। মেলামাইনটা তো শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সেটাও ব্যবহৃত হচ্ছে দুধে। অবশ্য এখন একটু কমেছে।

র‌্যাবের অভিযানে কিছুদিন আগে তেজগাঁও এলাকায় একটা হিমাগারে পচা দুম্বার মাংস পাওয়া গেছে। এটার বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নেবেন কি?
এটা আমাদের আওতাধীন বিষয় নয়, তবে আমরা অ্যাকশনে যেতে পারি।

সুপারশপগুলোয় কিন্তু কোনো অভিযানে যাওয়া হচ্ছে না...
আমরা যাচ্ছি। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আগোরা, মীনা বাজার, স্বপ্ন-এদের আমরা জরিমানা করেছি।

অভিযানে গিয়ে কখনো বাধার মুখে পড়েছেন?
না, তেমনটা কখনো হয়নি। সেরকম বাধা থাকলে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতাম না, আমাদের চলে যেতে হতো। তবে দু-একটা ক্ষেত্রে তদবির থাকে। আমরা সেসব পাত্তা
দেইনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চট্টগ্রামের অয়েল ফুডের ব্যাপারে আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। তারা নানাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পার পেতে চেয়েছিল; কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তারা বলেছিল, তাদের বিস্কুটের মধ্যে অনেক বাদাম কিন্তু খুলে দেখা গেল বাদাম মাত্র কয়েকটি!

মাঝে একবার প্লাস্টিকের চাল...
কিছুদিন আগে গাইবান্ধায় প্লাস্টিকের চাল পাওয়ার কথা উঠেছিল। আমাদের এক অফিসারই সেটা ধরেছিল। ওই চাল আমরা পাঠালাম বিসিএসআইআর-এ।
তারা রিপোর্ট পাঠালো, চালে প্লাস্টিকের কিছু পাওয়া যায়নি। ডিমের কথা বলা হয়, এটাও একটা ভুয়া বিষয়। যৌক্তিক কারণেই ভুয়া ডিম বানানো সম্ভব না।

ক্যাব আপনাদের কেমন সাহায্য করে?
ভালোই সাহায্য করে। প্রত্যেক জেলায়-উপজেলায় তাদের কার্যক্রম আছে।

অভিযোগ করার সময় ভোক্তাকে কী কী প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে?
তিনি যে জিনিসটা কিনলেন, সেটার রসিদ থাকতে হবে। আমরা নতুন যে আইনটি করতে যাচ্ছি সেখানে রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীকে কোনো সাক্ষী সংগ্রহ করা লাগবে?
না, ভোক্তা একাই যথেষ্ট।

আপনারা কোনো একটা পণ্যের ব্যাপারে অ্যাকশনে গেলেন, দেখা গেল মালিকপক্ষ ধর্মঘট ডেকে বসল-এমনটা কখনো হয়েছে?
গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এটা সবাই করতে পারে। কিন্তু আমরা কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি।

আমাদের দেশে ওষুধের দামও বেশি রাখার অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই। এক্ষেত্রে আপনারা কী করেন?
না, এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।

পার্কের ভেতর অনেক সময় পানি কিংবা কোল্ড ড্রিংকসের দাম বেশি রাখা হয়...
ওদের ব্যাপারে আইনে অব্যাহতি দেওয়া আছে। ওরা গরিব মানুষ, পাঁচ টাকা বা তিন টাকা বেশি ওরা নিতেই পারে।

ভোক্তা অধিকার দিবসকে সামনে রেখে কিছু বলুন...
ভোক্তার প্রতি আমার একটা আবেদন থাকবে, তারা যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য না পায়, তাদের কাছে কেউ যদি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করে এবং প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করে তাহলে নির্দ্বিধায় ভোক্তা অধিকারে আসতে পারেন। আমরা কথা দিতে পারি যে, এক মাসের মধ্যে আমরা তাকে প্রতিকার দিতে পারব।

আর যারা অসৎ ব্যবসায়ী তাদের উদ্দেশ্যে আমার বার্তা হলো, তারা যেন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় না নেয়। কারণ দিন দিন আমাদের অভিযানের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা ধরা পড়ে যাবে। যদি দেখা যায় যে, তারা বড় ধরনের অপরাধ করছে তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা এমনকি লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতাও আছে।

আপনাকে ধন্যবাদ
খোলা কাগজ পরিবারকে শুভেচ্ছা।