‘শেখ হাসিনার বিকল্প নাই’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

‘শেখ হাসিনার বিকল্প নাই’

ড. কাজল রশীদ শাহীন ১০:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

print
‘শেখ হাসিনার বিকল্প নাই’

হাসানুল হক ইনু তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি। আসন্ন নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতাসহ বর্তমান রাজনীতির ভেতর বাহির, কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ড. কাজল রশীদ শাহীন

[প্রথম পর্বের পর]
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে, শেখ হাসিনার সরকারের প্রশ্নে আপনি অনেক আপসহীন অবিচল। কিন্তু কখনো কখনো স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে এগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে দেখা যায় না। এ ব্যাপারে আপনার কি মত?
আওয়ামী লীগ একটা বড় দল। এ দলে ভালো লোকও আছে আবার হাতেগোনা খন্দকার মোশতাকের মতো বিশ্বাসঘাতকও আছে। যার কারণে বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছিলেন। যার কারণে শেখ হাসিনা বিপদে পড়েন এবং বিব্রত হন। কুষ্টিয়াতেও কিছু হাতেগোনা খন্দকার মোশতাকের বংশধর আছে যারা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যানকে জিতিয়ে দেয় অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে দেয়।

গত ১০ বছরে দেখেছি ওই এলাকার কতিপয় খন্দকার মোশতাকের বংশধর, দালাল চক্র, যারা আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে আছে কিন্তু তারা বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করছে। অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে, প্রকাশ্যে আওয়ামী নামধারী এরকম খন্দকার মোশতাকের কয়েকজন বংশধর ধানের শীষে ভোট করেছে। এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা। আমরা যখন জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করছি, তখন একইসঙ্গে আমাদের মহাজোটের ছাতার তলে থাকা বিশ্বাস ঘাতকদেরও মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে কোনো কারখানা হলে শ্রমিকদের ডরমেটরি হতো, স্কুল হতো। উদাহরণস্বরূপ আদমজীর কথা বলা যায়। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় চার যুগ পার হওয়ার পর বড় বড় শিল্পকারখানা তৈরি হচ্ছে বটে কিন্তু শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ নিরাপত্তার বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকছে অনেক সময়। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
এ প্রশ্নটা সঠিক হলো না। এ আমলে পোশাকশিল্প একটা বিকাশমান শিল্প। পোশাকশিল্পের জন্য আলাদা মজুরি বোর্ড হয়েছে। পোশাকশিল্পের প্রত্যেকটা কারখানায় ডে কেয়ার সেন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ল’তে পরিবর্তন এনে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আগে এটা ছিল না। বহুত কারখানায় এখন ডরমেটরি তৈরি করা হচ্ছে। সুতরাং এগুলো পাকিস্তান আমলে হতো, এ আমলে হচ্ছে না, কথাটা সঠিক নয়। বরঞ্চ শেখ হাসিনার আমলে শ্রমজীবীদের জন্য অনেক আইনকানুনের ব্যবস্থা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে নারী শ্রমিকরা নিরাপদ থাকে, মজুরি ঠিকমতো পায়, যাতায়াতের জন্য সাহায্য করা যায়। শ্রমিকদের দিবাকেন্দ্র, শিশু দিবাকেন্দ্র-এসব করা হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়ন ল’ কার্যকর করার পর বার্গেনিং এজেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, দরকষাকষি হচ্ছে।

পাকিস্তান আমলে শ্রমিক আন্দোলন পরিধির বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনেও ভূমিকা রাখত। এ জন্য সে সময়ের শ্রমিক আন্দোলন বেশি দৃশ্যমান ছিল।

তখনকার শ্রমিকরা একদিকে আদমজীর সঙ্গে লড়াই করছে, আরেকদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করছে। সুতরাং তখন পাকিস্তানবিরোধী লড়াইটা, স্বশাসনবিরোধী লড়াইটা সামনে চলে আসত। সে জন্য আমরা খবরেও বেশি বেশি দেখতাম। মনে রাখতে হবে, এখন সামরিক শাসন নাই। যখন সামরিক শাসন ছিল অর্থাৎ ’৮০-র দশকে শ্রমিকরা সামনে ছিল। শ্রমিকদের ঐক্যজোট বিশাল ভূমিকা রাখত। পেশাজীবী ঐক্যজোট বিশাল ভূমিকা রাখত। এখন যেহেতু গণতান্ত্রিক আবহে কাজ হচ্ছে, তাই শ্রমজীবী মানুষ কিংবা তাদের পক্ষ হয়ে পেশাজীবীরা তেমন কোনো দেনদরবারে নাই। সালিশের ভেতর দিয়ে সবকিছু নিষ্পত্তি হচ্ছে, হরতাল-মিছিল করতে হচ্ছে না তাদের।

১৪ দল বা জোটের কাছে আপনারা এবার কেমন আসন প্রত্যাশা করছেন?
গতবার আমরা যা পেয়েছি, তার চেয়ে একটু বাড়িয়ে চাইব আর কি।

গতবার তো আপনাদের পাঁচটা আসন ছিল?
এবার একটু বাড়বে। কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু চাইব না। তারাও অস্বাভাবিক কিছু দেবে না।

আমরা জানি, জাসদের কেন্দ্রে আপনার অবস্থান। কিন্তু এরপরও আমরা জাসদে বিভক্তি দেখছি। প্রধানমন্ত্রীও চান, আপনারা এক হয়ে যান। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? 

বিভক্তি তো আমি স্বীকার করি না। কারণ, বিভক্তি হলে আপনারা দেখতেন সেটা। জাসদ যারা ত্যাগ করেছে, তারা সারা দেশে দৃশ্যমান কোনো কিছুই করতে পারেনি। সুতরাং হয় তারা দলে ফেরত আসবেন এবং কাজ করবেন, আর নয় তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরা গড়ে নেবেন।

কুষ্টিয়াবাসী দীর্ঘদিন কোনো মন্ত্রী পায়নি। আপনাকে দিয়ে সেই খরা দূর হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে আপনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন। আবার ক্ষমতায় এলে কুষ্টিয়াবাসীকে কী দিতে চান?
রাজনৈতিকভাবে আমরা কুষ্টিয়া একটা অঞ্চলের প্রতিনিধি, এমপি। সেখানে আরও তিনজন এমপি আছে। কুষ্টিয়ার সমস্যা ছিল মূলত তিনটি। এক নম্বরে ছিল সন্ত্রাস, ভয়াবহ সন্ত্রাসের জনপদ ছিল কুষ্টিয়া। মানুষ সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকত। দ্বিতীয়ত বিদ্যুৎহীনতা। ৭০ ভাগ মানুষই অন্ধকারে ডুবে থাকত। তৃতীয়ত অনুন্নয় তথা রাস্তাঘাট নাই, কাদা। সেদিক থেকে কিছুদিন আগেও কুষ্টিয়া ছিল কাদা, সন্ত্রাস আর অন্ধকারে জনপদ। আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়ায় এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। কুষ্টিয়ায় যে উন্নয়নটা গত দশ বছরে হয়েছে, সেটা স্বীকার করতে হবে। কাদা থেকে বেশিরভাগ মানুষই এখন পাকার মধ্যে হাঁটছে।

১২ মাইল রাস্তার যে দুরবস্থাটা ছিল...
ওটা তো সাময়িক ব্যাপার। ১২ মাইল থেকে মহাসড়কগুলো আবার চকচকে করে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করার ফলে কুষ্টিয়া এখন শান্তির জনপদ। রাত ১১টা পর্যন্ত বাজারঘাট খোলা থাকে। মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আজকের কুষ্টিয়া সন্ত্রাসমুক্ত, কাদামুক্ত, অন্ধকারমুক্ত। এরপরও প্রশ্ন থাকতে পারে ভবিষ্যতে কুষ্টিয়ার কি হবে? আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ বছরে ভেড়ামারা একটা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ৩৬০ মেগাওয়াট, ১১০ মেগাওয়াট অটবি, আগের ৬০ মেগাওয়াট; এর বাইরে ৫০০ ৫০০ করে ১০০০ ভারত থেকে ভেড়ামারাতে নামছে এবং সেখান থেকে সারা দেশে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভেড়ামারা থেকে পুরো বাংলাদেশকে দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আমি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সদয় হয়ে ভেড়ামারার জিকে প্রজেক্ট ও ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৫০০ একরের অধিক জায়গায় একটা অর্থনৈতিক জোন (ইপিজেড) তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার কাজ চলছে। শিল্পায়নের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর বাইরে হরিপুর সেতু হয়ে গেছে। কুষ্টিয়া বাইপাস সড়ক হয়েছে, যা খুবই জরুরি ছিল। কারণ কুষ্টিয়ার ওপর লালন সেতু দিয়ে দক্ষিণবঙ্গে যায়, এখন এই বাইপাস হয়ে যাওয়াতে এটা বিশাল একটা ভূমিকা রাখবে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হয়েছে। বেতার কেন্দ্র করার জন্য ত্রিমোহনীর কাছে একটা জায়গা ঠিক করা হয়েছে, শিগগিরই স্থাপনার কাজ শুরু হবে। আধুনিক তথ্য ভবন তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে তথ্য কমপ্লেক্স হবে।

এ ছাড়া পুরনো যে ঐতিহ্যগুলো, কাঙাল হরিনাথ, বাঘা যতীন, শিলাইদহের কুঠিবাড়ি-এগুলো পুনর্গঠন ও সংস্কার করা হয়েছে। নতুন নতুন জাদুঘর স্থাপনা করা হয়েছে। গত ১০ বছরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন-মৃত্যুদিন, লালন ফকিরের জন্মদিন-মৃত্যুদিন পালন করাসহ মহাসমারোহে সব ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের একটা উৎসব চলেছে কুষ্টিয়ায়। তার বাইরে পদ্মার মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য সেই দৌলতপুরের ফিলিপনগর, মহিষকুণ্ডি থেকে শুরু করে কয়েকশ কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ১০ বছরে এই অঞ্চলের কৃষি খাতে একটা অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আমার এলাকা মিরপুর থেকে এখন ধান রপ্তানি হয়। আমাদের মিরপুরে গবাদিপশুর উৎপাদন বেড়েছে। প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার গরু-মহিষ ঢাকা বা অন্য মার্কেটে দিয়ে থাকি। গবাদিপশু পালন, মাছের চাষ, ধান চাষে এই অঞ্চল একটা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।

কুষ্টিয়া হচ্ছে সেই জনপদ যেখানে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার হচ্ছে সাড়ে ৩ পার্সেন্ট, অন্যদিকে সারা বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২২ পার্সেন্ট। সারা দেশে হতদরিদ্র হচ্ছে প্রায় ১২-১৩ পার্সেন্ট, আমার কুষ্টিয়ায় সেটা দেড় পার্সেন্ট। আমি মনে করি, এই ১০ বছরে কুষ্টিয়া সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী অর্থনীতির জেলা হিসেবে গড়ে উঠেছে। এ আগামী পাঁচ বছর তো আলোতে ঘুমাতে হবে। ঘরে ঘরে এখন বিদ্যুৎ বাল্ব আছে। আমি কুষ্টিয়াবাসীর উদ্দেশে বলব, আগামী পাঁচ বছর যদি আলোতে ঘুমাতে চান, আগামী পাঁচ বছর যদি চকচকে পাকা রাস্তায় চলতে চান, যদি শান্তির জনপদে বসবাস করতে চান তাহলে শেখ হাসিনার বিকল্প নাই। মহাজোটের এমপিদের বিকল্প নাই। আমি বলব, শেখ হাসিনা হচ্ছেন সেই বাবুর্চি, যিনি রান্নাবান্না করে খাইয়ে-দাইয়ে সার্টিফিকেট পেয়ে গেছেন, উনি ভালো রান্না করতে পারেন। উনি রাস্তা দিতে পারেন, বিদ্যুৎ দিতে পারেন, উন্নয়ন করতে পারেন, ভালো বীজ তৈরি করতে পারেন। তো আপনারা পুরাতন বাবুর্চির হাতের রান্নাবান্নাই খান, নতুন বাবুর্চির রান্না চেখে দেখার দরকার নেই।

কুষ্টিয়াকে তো সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হতো। এটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ব্যাপারে আপনি কি...?
আমি দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা করছি, কুষ্টিয়াকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হোক। আগামী পাঁচ বছরও আমি চেষ্টা করব। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আরিচা-দৌলতদিয়ায় একটা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করা। যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে এটার জন্যও আগামী পাঁচ বছর চেষ্টা করব। আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি, বেসরকারি পর্যায়ে কুষ্টিয়াতে রবীন্দ্রমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং কুষ্টিয়ার শিক্ষার প্রসারের জন্য এই রবীন্দ্রমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কেমন?
এটা তো একটা চমৎকার চ্যালেঞ্জ। যখন দেশে গণতন্ত্র নির্মাণ হচ্ছে, তখন তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমের যে ব্যবস্থাপনা, সেটা নিঃসন্দেহে বিরাট চ্যালেঞ্জের একটা কাজ। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সমাজের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণটা এখনো চলছে। আমার দায়িত্ব পালনের আগে গণমাধ্যমের কোনো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ছিল না, গণমাধ্যম এমনিই চলত। আমাদের দেশে এখন গণমাধ্যমের অভূতপূর্ব বিকাশ চলছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া চলে আসছে। অনলাইন মিডিয়া চলে আসছে। এরকম একটা অবস্থায় এই ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ। এর আগে কেউ এটা ভাবতেই পারেনি। আমার সৌভাগ্য, গণমাধ্যমের অভূতপূর্ব বিকাশ ও প্রসারের এই সময় ব্যবস্থাপনার কিছু কাজ আমি করে যেতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতের ইতিহাস তার মূল্যায়ন করবে।

ইতোমধ্যেই সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এবং অনলাইন মিডিয়াগুলোর রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম কতদূর হলো?
নবম ওয়েজ বোর্ড এবং গণমাধ্যমকর্মী আইনে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিকরা তাদের একটা সুপারিশ দিলেই আমরা কাজ শুরু করব। অনলাইন মিডিয়াগুলোর রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে যে উদ্যোগটা নিয়েছিলাম, সেটি প্রাথমিক উদ্যোগ। এ ব্যাপারে আমাদের তথ্য অধিদপ্তরে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২২শর বেশি অনলাইন পত্রিকা এখানে তাদের তথ্য দিয়ে জমা দিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। আমার বিশ্বাস, যে সম্প্রচার আইনটা আমরা তৈরি করতে যাচ্ছি, সে আইন আসলে তথ্য কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আপনার কি নিজে থেকে কিছু বলার আছে?
কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে আর জঙ্গি-সন্ত্রাসীর দেশ না, বাংলাদেশ আর অস্বাভাবিক সরকারের দেশ না, রাজাকার সমর্থিত সাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ না। এ তিনটা রাজনৈতিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সামনের দিকে যাবে। আর এ তিনটা যদি আমরা নিষ্পত্তি করতে চাই তাহলে আগামী নির্বাচনে রাজাকার, জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক চক্র ও তার সমর্থিত বিএনপি-জামায়াত চক্রকে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রাখতে হবে। সেটাই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য মঙ্গলজনক।

প্রশ্ন : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসানুল হক ইনু : খোলা কাগজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।