ঐক্যফ্রন্ট পাকিস্তানপন্থীদের মোর্চা : হাসানুল হক ইনু

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

ঐক্যফ্রন্ট পাকিস্তানপন্থীদের মোর্চা : হাসানুল হক ইনু

ড. কাজল রশীদ শাহীন ১০:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

print
ঐক্যফ্রন্ট পাকিস্তানপন্থীদের মোর্চা : হাসানুল হক ইনু

হাসানুল হক ইনু তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতাসহ বর্তমান রাজনীতির ভেতর বাইরের বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ড. কাজল রশীদ শাহীন

খোলা কাগজ : নির্বাচনের তফসিল নতুন করে ঘোষণা হলো। সাত দিন পিছিয়ে গেল ভোট। এ নিয়ে আপনার অভিমত কি?
হাসানুল হক ইনু : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখানে আমাদের কোনো পরামর্শ বা মতামত নেই। আমরা যেটা পরামর্শ দিয়েছি সেটা হলো, সাংবিধানিকভাবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করবেন। আমরা চাই সাংবিধানিক সময়কালের ভেতরেই নির্বাচন শেষ করে পরবর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। এ পরামর্শের বাইরে অন্য কোনো পরামর্শ নেই।

জাসদের লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। সমাজতন্ত্রের সেই সংগ্রাম কি হোঁচট খেয়েছে?
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র তথা সমাজতন্ত্রের সংগ্রামটা হোঁচট খায়, যখন সামরিক হস্তক্ষেপ হয়। এ সংগ্রাম হোঁচট খায় যখন সন্ত্রাসী, জঙ্গিরা রাজনৈতিক মহলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হোঁচট খায় যখন সংবিধানটাকেই বানচাল করে দেওয়া হয়। এরকম একটা অবস্থায় আমাদের লড়াইটা এগিয়ে নিতে হয়। সুতরাং আজকে আমরা মনে করি না, সামরিক শাসনবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী, জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী যে লড়াই তা থমকে গেছে। লক্ষ্য করলে দেখবেন শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও নারীর- সংগ্রামগুলো এখানে জোরদার হয়েছে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে নারী, গরিব, শ্রমিকের সংগ্রাম যে পর্যায় ছিল, তাদের সংগঠন যে পর্যায়ে ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত তারা। অনেক বেশি সংগঠিত এখন শ্রমিক ও  কর্মচারীরা। তাদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার আরও শক্তিশালী হয়েছে। ন্যূনতম মজুরির বিধানটা চালু হয়েছে অনেক সেক্টরে। তাদের অধিকারটা নিশ্চিত হয়েছে। আইনের বদল হয়েছে। পঁচাত্তর-পরবর্তী যে সংগ্রাম, সামরিক শাসনবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রামের ছাতার তলেই কিন্তু শ্রমজীবীদের সংগ্রাম এগিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের যে অর্থনৈতিক চাপ, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা সেটাকেও কিন্তু মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফে পরামর্শের বাইরে নিজের শক্তিতে অর্থনীতি পরিচালনা করছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু, সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আমাদের যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি সেখানে সমাজতন্ত্র রয়েছে। কিন্তু সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের পথে রাষ্ট্রের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়...  
এক্ষেত্রে রাষ্ট্র কিছুই করছে না, এ কথাটা ঠিক না। গত ১০ বছরে যদি মুহিত সাহেবের (অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত) বাজেট দেখেন, তাহলে দেখবেন, দরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠী, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধাসহ অসচ্ছল জনগোষ্ঠী- তাদের জন্য যে ভূমিকাটা রাষ্ট্র নিচ্ছে, সেই ভূমিকাটা আগে কেউ এভাবে নেয়নি। একইভাবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পক্ষে রাষ্ট্র যে অবস্থান নিয়েছে, অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রামে যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এসব কিছুই কিন্তু এই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমরা সেই সামরিক শাসনের অনূসৃত, তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতি থেকে সরে এসে, সংবিধানে বর্ণিত সমাজতন্ত্রসহ যে চার নীতি, সেই চার নীতির আলোকে অর্থনীতিটা আবার ঢেলে সাজাচ্ছি।

জাসদ ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল। গত ১০ বছরে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন। জোটের রাজনীতির আলাদা একটা সমীকরণ আছে। এ কারণে কি সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা অবহেলিত হচ্ছে?   
আমরা যারা জোটের রাজনীতির সঙ্গে আছি, সেখানে সবকিছু আমাদের খেয়ালখুশি মতো হবে না। তবে শ্রমজীবীদের বিষয়গুলো আমলে আনা সম্ভব হয়েছে আমাদের পক্ষে। পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনাও হচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় করা হয়েছে। আইন-কানুন বদল করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একটা ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে, খুব সংক্ষেপে যদি আমি বলি, একদিকে জঙ্গি-সন্ত্রাসকে ধ্বংস করার সংগ্রাম চলছে, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রাম চলছে; আরেকদিকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সংগ্রাম চলছে। এর পাশাপাশি আমরা জাসদ, আমাদের শরিক ১৪ দলের  ভেতরে  থেকেও, ধারাবাহিকভাবে শ্রমিক, নারী, কৃষক, যুবা ও পেশাজীবীদের সংগ্রামকে সমর্থন দিচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকার অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। নারী নীতি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এটা যথেষ্ট না। আমরা বাদবাকিটা করার চেষ্টা করব। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে আর জঙ্গি-সন্ত্রাস হবে না।  আমরা যদি নিশ্চিত করতে পারি, বাংলাদেশে আর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না, আর অস্বাভাবিক সরকার আসবে না, আর রাজাকার-সমর্থিত সরকার আসবে না, আর জঙ্গি-সন্ত্রাস হবে না তাহলে আগামীদিনের সংগ্রামটা হবে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রাম, সুশাসনের জন্য সংগ্রাম, বৈষম্য থেকে মুক্তির সংগ্রাম। সুুতরাং আমি মনে করি ’১৮ সালের এ নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যদি আমরা রাজাকার সমর্থিত রাজনীতি, মানে বিএনপিকে যদি রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, রাজাকারমুক্ত একটা শান্তির দেশের দিকে ধাবিত হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া জোরদার হবে। অস্বাভাবিক সরকার আসার সম্ভাবনা দূরীভূত হবে। সন্ত্রাস আর হবে না। এ পরিস্থিতিতে ‘১৮-এর পরে কোন সংগ্রামটা জোরদার হবে? সংগ্রামটা জোরদার হবে সুশাসনের জন্য, বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। এ সংগ্রাম হবে দারিদ্র্য উচ্ছেদের সংগ্রাম। দুর্নীতি মুক্তির সংগ্রাম। দুর্নীতি, বৈষম্য ও সুশাসন- এ তিনের সংগ্রামটা সামনে চলে আসবে। আর এ সংগ্রামটা সামনে আসা মানেই আবার সমাজতন্ত্রের সংগ্রামটা জোরদার হওয়া। সুতরাং সেদিক থেকে আমি মনে করি না, আমরা লক্ষ্য থেকে বাইরে আছি। আমরা সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা হাতে নিয়েই লড়ছি। সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রাম, রাজাকার, জঙ্গি, জামায়াতবিরোধী যে সংগ্রামটা আমরা চালাচ্ছি, সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা হাতে নিয়েই আমরা লড়ছি। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডাকে নিচে ফেলে দিয়ে, এ সংগ্রামটা চলছে না।

২০১৮ সালের যে নির্বাচন সেখানে লড়াই হচ্ছে দুটো দলের ভেতরে বা দুটো পক্ষের ভেতরে। একটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি।
না না। এখানে দুই দলের নির্বাচন হচ্ছে না।

দুটো পক্ষের কথা বলছি...
এখানে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র, প্রগতির শক্তি একটা পক্ষে। আর বিএনপির নেতৃত্বে তাবৎ রাজাকার-জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক ও পাকিস্তানপন্থীদের মহল একদিকে। এই দুই পক্ষের লড়াই হচ্ছে। এটা যুদ্ধ। এই দুপক্ষের লড়াইয়ে কিছু ব্যক্তি, ড. কামাল হোসেনের মতো কিছু লোক, যারা মাঝখান দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর হেঁটেছে, যারা প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা রাখেনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য, তারা এখন ভোট করছে নির্বাচন আর গণতন্ত্রের নামে! বিএনপির সঙ্গে কোলাকুলি করাটা হচ্ছে রাজনৈতিক একটা সুবিধাবাদী আচরণ। এ আচরণের সঙ্গে কোনো নীতি-নৈতিকতার বালাই নেই। সুতরাং আমি বলব, এখানে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে কিছু সুবিধাবাদী লোকের সমাহার, মিলন হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে। এ ঐক্যফ্রন্ট আসলে পাকিস্তানপন্থী। ঐক্যফ্রন্ট মূলত স্বাধীনতাবিরোধীদের মোর্চা। রাজাকার, জঙ্গি, জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধী চক্র এবং খুনিদের পক্ষ নিয়েছে তারা। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বে এবং চিহ্নিত খুনিদের নেতৃত্বে কোনো সুশাসন হবে না। কোনো সুশাসনের প্রসারও ঘটবে না। সুতরাং আমরা যে এখানে বহু কষ্টে সংবিধানের পথে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার যে রাজনীতি করছি; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সঠিক ইতিহাস চর্চার পথে যে বাংলাদেশ হাঁটছে, বিশ্বের বুকে উন্নয়নের পথে যে হাঁটছে, এ পুরো প্রক্রিয়াটা বাধাগ্রস্ত হবে যদি তথাকথিত ঐক্যফ্রন্ট এখানে ক্ষমতায় আসে।

তাহলে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসাটা কি খুব জরুরি ছিল। আপনার কি মনে হয়?
সংলাপ তো রাজনীতির দৈনন্দিন ব্যাপার। তারা কথা বলতে চেয়েছে। কিন্তু তারা কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি। তাদের যে দাবি, সেটাই হচ্ছে অস্বাভাবিক। তারা সংবিধানের ভেতরে কোনো দাবি সাজাতে পারেনি। কোনো দাবি তারা কাঠামো দিয়ে, আইন দিয়ে সাজাতে পারেনি। মুখে ফাঁকা বুলি দিয়েছে। নির্দলীয় সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া কি, সময় কাঠামো কি?- এগুলোর কিছুই বলতে পারেনি। তারা নির্বাচনটাকে ব্যবহার করতে চাইছে, কতিপয় চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, খুনিদের মুক্ত করার জন্য, রাজনীতিতে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য। বেগম খালেদা জিয়া মানে গণতন্ত্র- এ কথা যখন তারা বলে, তখন বাংলাদেশে তাদের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের বদলে রাজাকারতন্ত্রই কায়েম হবে, জামায়াতীতন্ত্র কায়েম হবে। যে রকম ২০০১-০৬ পর্যন্ত হয়েছিল। এখানে তাদের কোনো অনুতাপ নেই, অনুশোচনা নেই। সুতরাং তারা যে কথাগুলো বলছেন সেগুলো আসলে সম্পূর্ণ ক্ষমতার খেলা। নিছক ক্ষমতার খেলা তো বাংলাদেশকে মঙ্গল দেয়নি।

আগামী নির্বাচনে জামায়াত কিন্তু আবার ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগটা পাচ্ছে। তাহলে...?
জামায়াত নিবন্ধিত দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। জামায়াতপন্থীরা একজন নাগরিক হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ সাজাপ্রাপ্ত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথটি আইনগতভাবে আটকানো যায় না। আমার কথা হচ্ছে, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য হোক, প্রকাশ্যেই জামায়াত নিবন্ধন হারিয়েছে।

কিন্তু দল হিসেবেও তো জামায়াত নিষিদ্ধ করার সুযোগ ছিল? সরকার সে ক্ষেত্রে তো কোনো...
এ বিষয়ে তো আইনগত পদক্ষেপ আছে। মামলা আছে বলে আমরা তাই প্রশাসনিক পদক্ষেপটা নিইনি। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে অপেক্ষা করছি। আদালতের ওপরই আমরা এটা ছেড়ে দিয়েছি। নিবন্ধন হারিয়েছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিবন্ধন হারানোর পরও জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেয়নি বিএনপি। এখানে বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পরিষ্কার। সেখানে কোনো রাখঢাক নেই তাদের। প্রকাশ্যে জামায়াতের সঙ্গেই আছে বিএনপি। আর ঐক্য করছে কামাল হোসেন সাহেবদের সঙ্গে। তাহলে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের যে জোট, সেখানেই তো আসন ভাগাভাগি হবে। সুতরাং শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে তো কোনো লাভ নেই। ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি, জামায়াত ও কতিপয় নিষ্ক্রিয় দলছুট ব্যক্তিদের মোর্চা।
 
সংলাপের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। এ সংলাপের মধ্য দিয়ে তাহলে কি এ বিষয়টা প্রতিষ্ঠিত হলো, খালেদা জিয়াই আলোচনার রাজনীতিতে সমস্যা।
না। খালেদা জিয়া কোনো সমস্যা নন। খালেদা জিয়া থাকতেও তার সঙ্গে আমাদের দল আলোচনা করেছে। খালেদা জিয়া নিজে যখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন (২০০৯-১৪), উনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। সুতরাং খালেদা জিয়া কোনো সমস্যা না। ব্যক্তি নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। সংলাপ খালেদা জিয়া থাকলেও হবে, না থাকলেও হবে। সেটা বড় কথা না, সংলাপ কেন হবে সেটা হলো বড় কথা।

আপনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। সাম্প্রতিককালে হেফাজতের সঙ্গে যা হলো, এটাকে আপনি কীভাবে দেখবেন?
হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশ সরকার কওমি মাদ্রাসার যে বোর্ড তৈরি করেছিল সেই বোর্ডের সঙ্গে একটা সমঝোতা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছেলেমেয়েদের সামগ্রিক মূল শিক্ষা ধারার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত তারা গ্রহণ করেছে। সুতরাং সেই দিক থেকে হেফাজতে ইসলাম একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের কোনো রাজনৈতিক চুক্তি হয়নি। কওমি মাদ্রাসার বোর্ডের সঙ্গে হয়েছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীকে যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, সেটা কওমি মাদ্রাসার যে কর্তৃপক্ষ, যে কমিটি ছিল, সেই কমিটির পক্ষ থেকে  দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। হেফাজতের যে দাবি-দাওয়া আছে, তারা সেটা নিয়ে তাদের মতো কাজ করে। সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এখানে কেবল কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে ব্যাপারটা ঘটেছে। এখানে আল্লামা শফি সাহেব, উনি হেফাজতের নেতা, কিন্তু ঘটনাচক্রে উনি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের প্রধান। সেই হিসেবে উনি কওমি মাদ্রাসার প্রধান থাকা অবস্থায় হেফাজতের নামে এ বিভ্রান্তিটা চালানো হচ্ছে। আসলে হেফাজত হেফাজতের জায়গায় আছে। ১৪ দল ১৪ দলের জায়গায় আছে। ১৪ দলের যে রাজনৈতিক লক্ষ্য, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেই লক্ষ্যের ভেতরই আছে।     

(শেষ পর্ব আগামীকাল)