বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটা জীবন্ত : অগ্নি রায়

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটা জীবন্ত : অগ্নি রায়

ড. কাজল রশীদ শাহীন ৯:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৮

print
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটা জীবন্ত : অগ্নি রায়

অগ্নি রায় তুখোড় সাংবাদিক ও কবি। গদ্য, পদ্য ও সাংবাদিকতা-তিন মাধ্যমেই তিনি উচ্চকিত। আনন্দবাজারের কাজের সূত্রে দেড় দশক ধরে আছেন দিল্লি। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সম্প্রতি ঢাকা এলে মুখোমুখি হন খোলা কাগজ-এর। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতিসহ বিবিধ বিষয়ে নিজস্ব মতামত শুনিয়েছেন ড. কাজল রশীদ শাহীনকে

খোলা কাগজ : আপনার বাংলাদেশে আসা প্রসঙ্গে একটু বলেন? এবার কি উদ্দেশে আসা?
অগ্নি রায় : প্রত্যেক বছর দুবার করে বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এখানে নিয়ে আসে। ঢাকাতে ও ঢাকার বাইরে একটা জেলা বা শহরে নিয়ে যান। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দেখান আর সরকারের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, সেরকম দুই থেকে তিনজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করান।
উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলত দুটি। একটা হচ্ছে, বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের কাছে তুলে ধরা। আরেকটা হচ্ছে, নিজেদের যদি কোনো বার্তা দেওয়ার থাকে, সেটাকে দেওয়া। এবারের সফরটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে এই কারণে, যেহেতু সামনে নির্বাচন এবং এটা সরকার বদলানোর একটা ব্যাপার। আমিও এই সুযোগটা নিয়েছি, দেখতে চাইছি এলে কি হয়? এই যেমন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, আরও পাঁচটা লোকের সঙ্গে কথা হবে।

এটা কি আপনার অফিশিয়াল ট্যুর?
আমাকে সরাসরি অফিস থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে পাঠিয়েছে, তা নয়। ব্যাপারটা এরকম, বাংলাদেশ সরকার তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আমাদের অফিসকে রিকোয়েস্ট করেছে, সেই রিকোয়েস্টে সাড়া দিয়ে, তাদের আতিথ্যে, অফিস আমাকে পাঠিয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশে এসেছেন?
অসংখ্যবার। সিলেটে গেছি। ঢাকায় বহু আসছি।

সেগুলো কি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত?
না, ব্যক্তিগত না। আমরা অফিস থেকেই এসেছি বেশিরভাগ সময়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে, বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও এসেছি। অফিস থেকেও অনেকবার পাঠিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন, তখনো এসেছি। স্থল সীমান্ত চুক্তিটা যখন হলো, তখনো এসেছি। তো সরকারিভাবে আমার আসা দুবার। এর আগে আরেকবার এসেছিলাম। আমাদের সঙ্গে প্রায় চল্লিশের ওপরে সাংবাদিক এসেছেন। কেউ ইথিওপিয়া থেকে, কেউ তুরস্ক থেকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে, জাপান থেকে, শ্রীলঙ্কা থেকে, ওমান থেকে, সৌদি আরব থেকে। সরকার বছরে দুবার এটা করে থাকে।

এবারে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
বাংলাদেশকে জানা বা বোঝার জন্য একটা ট্যুরে এসে আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা কিছু হয় না। সত্যি কথা বলতে কি, বাংলাদেশ আমার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে। তাই একটা ট্যুর সেখানে কিছু নয়। এবারে আমার দেখার কৌতূহল যেটা ছিল, ভোটের আগে কীভাবে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। এখন তো অক্টোবর (সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময়) মাস, বোধহয় জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের আগেই ভোটটা হয়ে যাবে। ভোটের হাওয়া এখনো সেভাবে যে উঠে গেছে তা মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশ ভীষণভাবে রাজনৈতিক দেশ। প্রত্যেকটা লোক রাজনীতি সচেতন; সে চাওয়ালা হোক আর রিকশাওয়ালা হোক। শিক্ষক, অধ্যাপক, কর্মী, ডাক্তার-কেউই বাদ যায় না। এটা অনেকটা একটা চাল টিপে ভাত বোঝার মতো ব্যাপার। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কথা বললে বোঝা যায়। কিন্তু এ ধরনের সরকারি সফরে যেটা সে সুযোগটা কম থাকে। কারণ ওরা আমাকে যেখানে নিয়ে যান, সেখানেই আমাকে যেতে হচ্ছে।

এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে কি প্রকৃত চিত্রটা পান?
দেখার চোখ থাকলে প্রকৃত চিত্রটা দেখা সম্ভব। এমনকি যদি আপনি এখানে ঝিঙে পটল বেচতেও আসেন। ওই বাজারের মধ্যে কি কথা হচ্ছে আপনি জেনে নিতে পারবেন। সেভাবে চিন্তা করলে অবশ্যই সম্ভব। আর সাংবাদিকতাটা আমার দ্বিতীয় কাজ, প্রথম কাজ কবিতা লেখা। সাহিত্যটা আমার জীবনে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তো এই বাংলা ভাষা, যে ভাষায় আমি কাজ করি, সেখানে ঝাড় দিতে এলেও আমার কাজে দেবে বলে আমি মনে করি।

প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার বাংলাদেশটা কেমন?
এতদিন ধরে আসা-যাওয়ার সুবাদে বাংলাদেশে আপনাদের মতো প্রচুর বন্ধুবান্ধব হয়ে গেছে। বাংলায় লিখি, আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখি, বাংলাদেশটা কাভার করছি ২০০২ সাল থেকে। আমি বলব বাংলাদেশের মানুষ, সাংবাদিকরা ভীষণ উষ্ণ। তারা যোগাযোগ রাখেন, আমিও যোগাযোগ রাখি। কয়েকজন মন্ত্রী আছেন, ফোন করলে যারা কথা বলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের খবর এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেখা যায়, কিছু হলে জানা যায়। আমিও বাংলাদেশের মনস্তত্ত্বটা বারবার এসে ঝালিয়ে নিই।
 
সেটা কি পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার কারণে?
ওই যে বললাম, আমি বাংলাদেশটা কাভার করি। একজন রিপোর্টার হিসেবে বাংলাদেশটা আমার বিট, বিদেশ মন্ত্রক আমার বিট। বাংলাদেশও সেটার মধ্যে পড়ে। এটা করছি প্রায় ১৬ বছর হয়ে গেল। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১৬ বার বাংলাদেশে এসেছি। তার কারণে এখানে অন্তত ১৬০টা বন্ধু হয়েছে, তাদের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক। বছরে তাদের সঙ্গে একবার বা দুবার দেখা হচ্ছে।

আপনার ১৬ বছরের চেনা বাংলাদেশ। এই ১৬ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে বলে আপনার মনে হয়? সম্পর্কের টানাপড়েনটা আপনি খেয়াল করছেন?
সম্পর্কটা আসলে সব সময় টানাপড়েনের ভেতরই থাকে, এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা। প্রতিদিন গাঢ় কিছু হয় না। আজ গাঢ় হলো, কাল একটু ফিকে হবে। সম্পর্কের অনেকগুলো সেট থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যেও তো থাকে। প্রতিবেশীর সঙ্গেও থাকে। আজ একটু ঝগড়া হবে, কাল আবার একটু ভাব হবে, পরশু আরেকটু ভাব হবে। তার পরদিন মারামারি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কটা খুব জীবন্ত।
তবে সাংবাদিক হিসেবে যেটা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি তা হলো, খালেদা জিয়া সরকারের সময় আমাদের কাছে বাংলাদেশের দরজা বন্ধ ছিল। মানে, ঢাকা আসা দূরস্থান। আমরা চাণক্যপুরীতে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে বছরে একদিনের বেশি যেতাম না। বলা ভালো, যেতে পারতাম না, কোনো যোগসূত্র ছিল না। একদিন যেতাম, যেদিন বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একটা মিটিং হতো।

পতাকা বৈঠক?
না, পতাকা বৈঠক নয়। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে মিনিস্ট্রি লেভেলে মিটিং হতো। সেটা হতো, সাউথ ব্লকে বা নর্থ ব্লকে। তারপর একটা সংবাদ সম্মেলন হতো। ওখানে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির কর্মকর্তাদের দেখতে পেতাম আমরা। নিয়মানুযায়ী, সেই মিটিংয়ের পরে একটা ব্রিফিং হতো। সেই ব্রিফিংটাতে বাংলাদেশ বলত, ভারতের মাটিতে আমাদের এই এই জঙ্গিগোষ্ঠী আছে। ভারত বলত, বাংলাদেশের মাটিতে আমাদের এই এই জঙ্গিগোষ্ঠী আছে। দুটির লিস্ট করে দিত, ব্যাপারটা ওখানেই শেষ। আবার এক বছর পর। কিন্তু এই যে ঢাকায় আসার ভিসা পাওয়া, বাংলাদেশে ভিজিট, এসবের প্রশ্নই ছিল না। আমি তো তখন জুনিয়র, অনেক তাবড় তাবড় সাংবাদিককেও সে সময় আমি কোনোদিন ঢাকার টিকিট কাটতে দেখিনি। কিন্তু শেখ হাসিনা আসার পরে, সম্পর্কের এই জীবন্ত দিকটা আমরা টের পেতে শুরু করলাম।

বিএনপির সময় বিএসএফ-বিডিআর বৈঠক আর এখনকার যে বৈঠক-এই দুটির মধ্যে মিল-অমিল কতটুকু? এ ধরনের বৈঠকে এখন থাকেন?
স্বাভাবিকভাবেই এখন ওই বৈঠকটার গুরুত্ব কম। তখন যেহেতু আর কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না ফলে ওই একটা যোগাযোগই অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেত। ধরুন, পাশাপাশি থাকি অথচ আমার সঙ্গে আপনার মুখ দেখাদেখি হয় না। অতঃপর হঠাৎ যদি একদিন আমরা দেখা করি, সেটা বিরাট ব্যাপার হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন চায়ের দোকানে বসে আড্ডা মারি বা আমার বাড়ির ছেলেটা আপনার বাড়ির ছেলেটার সঙ্গে কথা বলে, আমার বাবা আপনার বাবার সঙ্গে কথা বলে, আমার মা আপনার মায়ের সঙ্গে যাত্রা দেখতে যায় তাহলে কি একটা দেখার আলাদা করে কোনো গুরুত্ব থাকে? নিশ্চয়ই থাকে না। এখন বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রকম বৈঠক হয়। শীর্ষ স্তর থেকে একদম নিচু পর্যন্ত। এমন একটা মাস নেই, যে মাসে একজন বা দুজন বড় কর্তা, কেবিনেট সদস্য দিল্লি আসছেন না। বরঞ্চ দিল্লি থেকে বাংলাদেশে আসা মন্ত্রী সংখ্যা বোধহয় একটু কম। ভারত একটু বড় দেশ বলে হয়তো একটা দাদাগিরি ভাব থাকতে পারে। তাদের ব্যস্ততাও তুলনামূলক বেশি। কিন্তু আমলা তো আসতেই থাকছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এখানে যিনি গত তিন বছর ছিলেন, বা তার আগে তিন বছর যিনি ছিলেন, পঙ্কজ শরণ ও শ্রিংলা, দুজনেই কম্পিটেন্ট। অত্যন্ত দক্ষ অফিসার। এরাই কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপকার। একটা মন্ত্রী আসার থেকে এরা কম কাজ করছেন না। এরা প্রায়ই দিল্লি যান, গিয়ে ব্রিফ করেন। পলিটিক্যাল ডিরেকশনটা নিয়ে চলে আসেন। পলিটিক্যাল ডিরেকশন অবশ্য খুব কিছু না, বাংলাদেশকে সাহায্য করা। কারণ বাংলাদেশে শেখ হাসিনা আসার পর তো ভারতের জন্য অনেক কিছু করেছেন উনি।

আগ্রহটা দুদেশেরই নাকি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেশি?
না না। একদমই না। আমার মনে হয় উভয়ের, দ্বিপক্ষীয়। এখানে ভারতের স্বার্থটা বিরাট। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত একটা অগ্নিবলয়ের ভেতর বসে আছে। ভূকৌশলগতভাবে এমন একটা জায়গায় বাংলাদেশের অবস্থান, যাকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে অনেক কিছু করে দেওয়া যায়। তো সেই জায়গায় বসে থেকে বাংলাদেশ ঘোষণা করছে, শুধু ঘোষণা করছে না, মোটামুটি কাজও করে দেখাচ্ছে, আমাদের মাটিতে ভারতবিরোধী কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এই সেদিনও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আবারও একই কথা বললেন, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং এখানে বসে ভারতবিরোধী কোনো কিছু হবে না। এই যে অবস্থানটা, এই অবস্থানটা তো ভারতের কাছে বিরাট ব্যাপার। যেখানে কাশ্মিরে প্রতিদিন মুণ্ডু কেটে পাঠিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানি আর্মি। তাই আমি বলব, বাংলাদেশে ভারতের ইন্টারেস্ট আরও বেশি আছে।
 
ভারত প্রশ্নে বাংলাদেশ উদার। কিন্তু আমাদের এখানে পাবলিক পারসেপশন আছে, রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতকে সেভাবে পাশে পাওয়া যায়নি।
এই পারসেপশনটা মিথ্যা নয়। আমরা ওখানে বসেও এটা টের পেয়েছি। কিছুদিন আগে আমাদের দূতাবাসে কয়েকজনের মধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার মনে হয়, প্রতিক্রিয়াটাতে আমাদের একটু সময় লেগে গেছে। মানে যে সময়টায় আমাদের ঘুম ভেঙে ওঠা উচিত ছিল, সে সময় ঘুমটা ভাঙেনি। পরিস্থিতিটাকে বিচার করতে বোধহয় দেরি হয়ে গেছে।
কূটনীতিতে এটা হয়ে থাকে, টাইমিংয়ে একটু দেরি হয়ে যায়। একটু আগে হয়ে যায় আবার পরেও হয়ে যায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, সেটা শুধরে নেওয়া গেল কি না। মোদি সরকার পরিস্থিতিটাকে অনেটাই শুধরে নিয়েছেন বলে আমি মনে করি। রোহিঙ্গা নিয়ে ভারতের এখনকার যে অবস্থান, সেটা তো সম্পূর্ণ বাংলাদেশের পাশে থাকা অবস্থান। আপনারা জানেন কি না জানি না, রাখাইনের জন্য এখন অনেক কিছু করছে ভারত। শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে একটা হসপিটাল তৈরির কথা আছে। তাদের জন্য একটা বড় কলোনি তৈরি করে দেবে ভারত।
আমরাও চাইছি, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার বাংলাদেশ থেকে সুন্দরভাবে রোহিঙ্গারা যেন আস্তে আস্তে ফিরে যেতে পারে। হ্যাঁ, এটা আরও আগে থেকে করলে আরও প্রেসার দেওয়া যেত। এখানটায় একটা সমালোচনার জায়গা থাকে, দেরি হয়ে গেছে। যাই হোক, এই আমি এলাম, দেখলাম, রোহিঙ্গা ইস্যুটা বাংলাদেশে একটা ক্ষোভের কারণ হয়ে আছে। আগুনের মতো বাড়ছে জিনিসটা। একটা পরিবেশের ব্যাপার তো আছে। ডি ফরেস্টেশনের ব্যাপার আছে। জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সারা পৃথিবী থেকে সাহায্য আসছে। তার্কি থেকে আসছে, ভারত পাঠাচ্ছে, আমেরিকা পাঠাচ্ছে। এর কারণে ওখানকার স্থানীয় মানুষ ভাবছে, আমরা কিছুই পাই না, ঠিকমতো দানা-পানি জোটাতে পারি না, অথচ এরা বসে বসে কত জিনিস পাচ্ছে। এভাবে জনবিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমি তো ভারত সরকারের কেউ নই। আমি একজন সাংবাদিক। আমার কাজ ভারত সরকার যেটা করছে সেটা দেখা, লেখা এবং সমালোচনা করা। আমি আশা করতে চাই, ভারত ডেফিনেটলি আরও বেশি করে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলবে। এ ক্ষেত্রে ত্রাণ দেওয়া তো একটা টেম্পোরারি সমাধান। কিন্তু আসল সমাধানটা করতে তো মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
মিয়ানমারকে নিজে বোঝানো একটা দিক, আরেকটা দিক হচ্ছে এ ইস্যুতে আরও অনেক দেশকে একসঙ্গে করানো। সেটাও কিন্তু ভারতের করানোর একটা জায়গা আছে, অন্তত সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে। পশ্চিমা বিশ্বে ভারতের একটা ভাবমূর্তি আছে-এত পুরনো গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ, মালটিপার্টির রাজনীতি। এই ভাবমূর্তি নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। এ ছাড়া শরণার্থী প্রসঙ্গে ভারতের একটি উজ্জ্বল অতীত আছে। ভারতের কথার একটা মান্যতা আছে। তাই এই ইস্যুটা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আরও বেশি করে তুলে ধরা উচিত। নিঃসন্দেহে ভারত এটা করতে পারে এবং করা উচিত বলে আমার মনে করি।

(আগামীকাল পড়ুন দ্বিতীয় কিস্তি)