ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
বাঁচায় নদী বাঁচাও নদী
তুহিন ওয়াদুদ
Published : 2018-05-16 19:17:00
বাঁচায় নদী বাঁচাও নদী

বাংলাদেশে নদনদীর সংখ্যা এখনো সহস্রাধিক। এর মধ্যে শতাধিক নদী আছে আন্তর্জাতিক। যদিও আমরা বলে থাকি আমাদের আন্তর্জাতিক নদীর সংখ্যা ৫৭টি। এই ৫৭টির মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা ৫৪টি।

৫৪টির মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে মাত্র ১টি নদী। অন্য ৫৩টি নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। ৫৭টি নদীর অন্য ৩টি নদী মিয়ামারের সঙ্গে। আমাদের প্রধান প্রধান নদীগুলোর উৎস ভারতে। ভারত সরকার তাদের দেশে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে আসা ভারতের নদীর পানি কৃত্রিম খাল খনন করে তাদের দেশের বিভিন্ন প্রদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
ভারত যদি স্বীকৃত ৫৩ নদীসহ অন্য আরও প্রায় পঞ্চাধিক নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার করে তাহলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির হাহাকার দেখা দেবে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ সংকটে পড়বে তা থেকে হয়তো উত্তরণ সম্ভব হবে না। পানি একতরফা প্রত্যাহার করলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয় তার একটির প্রমাণ আমরা এর মধ্যে পেয়েছি। সেটি হচ্ছে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কোনোরূপ শলাপরামর্শ না করেই তিস্তার পানি প্রত্যাহার করেছে।
এর ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরতে বসেছে। একটি নদীর মৃত্যু মানে শুধু একটি নদীর পানিপ্রবাহ শুকিয়ে যাওয়া নয়। একটি নদীর সঙ্গে সেই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষি, অথনীতি সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে। সেজন্য ভাটিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ভারত থেকে নেমে আসা অভিন্ন নদীতে অভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারকে প্রধান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের আয়োজনে আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন হয়।
বাংলাদেশ তখন স্বাক্ষর করেছিল। এই কনভেনশনে ভারত ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করেনি। কনভেনশনটির নিয়ম অনুযায়ী ৩৫টি দেশ অনুসমর্থন করলে তা আইনে পরিণত হবে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৩৪টি দেশ অনুসমর্থন করেছিল। জাতিসংঘে পানির জন্য আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রয়োজনীতা বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জন্যই বেশি জরুরি। ১৯৯৭ সালের কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত অনুসমর্থন করেনি।
২০১৪ সালে ৩৫তম দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম অনুসমর্থন করেছে। কনভেনশনটির নিয়ম অনুযায়ী ৩৫তম দেশের অনুসমর্থনের অব্যবহিত ৯০দিন পর তা আইনে পরিণত হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট সেই কনভেনশনটি আইনে পরিণত হয়েছে। রিভারাইন পিপল থেকে ১৭ আগস্ট নদী অধিকার দিবস ঘোষণা করেছি। প্রতিবছর এখন ১৭ আগস্ট নদী অধিকার দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এখন বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা। যদি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন নদীতে অভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘে আইনি প্রতিকার চাইতে হবে।
জাতিসংঘ প্রণীত আইন অনুযায়ী উজানের দেশ যদি অভিন্ন নদীতে যে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তাহলে তার কারণে ভাটির দেশে কী কী ক্ষতির শিকার হতে পারে তা নিয়ে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা করেই উজানের দেশ নদীতে প্রকল্প গ্রহণ করবে। যে কোনো প্রকল্পেই ভাটির দেশেরও অধিকার থাকে। ভাটির দেশে যদি কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে উজানের দেশকে। উভয় দেশের সম্মতিতেই উজানের দেশ প্রকল্প গ্রহণ করতে পারবে।
বাংলাদেশের উজানের দেশ ভারত তিস্তা নদীতে অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সঙ্ড়ে এ নিয়ে কোনো আলোচনাই করেনি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারতের গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশেরও অধিকার জন্মায়। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষতিপূরণ দাবি করারও সুযোগ আছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশ। উজানে আছে ভারত। পানির প্রশ্নে ভারত সাম্রাজ্যবাদীর পরিচয় বহন করছে। অন্যদিকে ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীতে অভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কোনো বিকল্প আমাদের দেশের নেই। সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রণীত আইনটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।
বাংলাদেশ কী এক অজ্ঞাত কারণে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে অনুসমর্থন করেনি। ভারত থেকে পানি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের যতটা গুরুত্ব দেওয়া জরুরি ততটা গুরুত্ব দিতেও দেখা যচ্ছে না। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনও অনেকটাই যেন অকার্যকর। বছরে চারবার করে সভা হওয়ার কথা থাকলেও, চার বছরেও একবার সভা হয় কিনা সন্দেহ। বাংলাদেশের একটি বিষয় সব সময়ই মনে রাখতে হবে, আমরা ভাটিতে আছি। কোনো আইন না থাকলে কিংবা না মানলে ভারতের কিছুই আসে যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের ভষিষ্যৎ নির্ভর করছে এ আইন মানা না মানার মধ্যে। আমরা বিশ্বে নিজেদের সভ্য জাতি মনে করব, আর ভৌগোলিক সীমারেখার নামে বিশ্বমানবতার চরম লঙ্ঘন করব এটা কিছুতেই হতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি- যে কোনো উপায়ে অভিন্ন নদীতে অভিন্ন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

তুহিন ওয়াদুদ : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ ও পরিচালক, রিভারাইন পিপল




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. আহসান হাবীব
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
ড. কাজল রশীদ শাহীন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : editorkholakagoj@gmail.com    kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by Poriborton IT Team. Email : rafiur@poriborton.com
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();