সংলাপ শেখ হাসিনার উদারতার ফসল : মোল্লা মো. আবু কাওছার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সংলাপ শেখ হাসিনার উদারতার ফসল : মোল্লা মো. আবু কাওছার

ড. কাজল রশীদ শাহীন ৯:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

print
সংলাপ শেখ হাসিনার উদারতার ফসল : মোল্লা মো. আবু কাওছার

অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। সহ-সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও সভাপতি, বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পদপ্রার্থী। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ড. কাজল রশীদ শাহীন

খোলা কাগজ : দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। এবার আপনি নিশ্চয়ই ইলেকশন করবেন?
মোল্লা মো. আবু কাওছার :  নির্বাচন সামনে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক দল। সেই দলের একটি সহযোগী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে আমি নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী। যদি মনোনয়ন পাই তবে নির্বাচন করব।

কোন জায়গা থেকে করবেন?
আমি ঢাকা-৮ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, মন্ত্রিপাড়া) এলাকায় বসবাস করি। আমার মতে, এখানে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। যদি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিবেচনা করেন, তাহলে এখান থেকেই নির্বাচন করতে পারি। কারণ এই এলাকায় দীর্ঘ ৪০ বছর বসবাস করছি। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এই রাজপথ, মাঠ, মহল্লায় আমার দীর্ঘদিনের পদচারণা। মানুষের সঙ্গে ভালো-মন্দ মিলিয়ে আমার সম্বন্ধ আছে। সারা দিনের অধিকাংশ সময় আমি এখানে থাকি। যদি মনোনয়ন দেওয়া হয়, এখান থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।

আপনি তো ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ। আপনাদের সময়ের ছাত্রলীগ আর এখনকার ছাত্রলীগের মধ্যে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য কেমন দেখেন?
পরিস্থিতিটা তো পুরোপুরি ভিন্ন। পঁচাত্তরোত্তর বাংলাদেশে তখন আমাদের অনেক কিছু মোকাবেলা করতে হয়েছে। শুধু কি জিয়া-এরশাদ, বিভিন্ন সময় নিজ দলের নেতাকর্মীদের বেইমানি, বিশ্বাসঘাতকতাও মোকাবেলা করতে হয়েছে। আমাদের কাজ করতে হয়েছে একটা বিরুদ্ধ সমাজে, যখন জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবকিছুই ছিল তৎকালীন স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষুর নিচে। সেসব মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন তো দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। সে হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দায়িত্ব পালন করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। এখন তো ছাত্রলীগকে মিছিল-মিটিং করতে গেলে পুলিশ কিংবা আর্মি ফেস করতে হয় না...

একটা সহায়ক পরিবেশের ভেতর দিয়ে...
অবশ্যই সহায়ক পরিবেশ আছে। অন্যদিকে দেশের অবস্থাও এখন আর আগের সেই জায়গায় নেই। এখন তো ক্যাম্পাসগুলোতে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। হানাহানি, মারামারি এ ধরনের কোনো কিছু নেই।

বঙ্গবন্ধুকে আপনি দেখেছেন?
হ্যাঁ, দেখেছি। তবে সান্নিধ্য পাওয়ার মতো কিছু হয়নি। আমি তখন একেবারে বাচ্চা। আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি ক্লাস সিক্স-সেভেনে। কিন্তু আমার একটা বিরাট ইতিহাস আছে, সেটা বললে অন্যরকম লাগবে। সেটা বলব না।

সংক্ষিপ্ত করে...
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু দেশে আসার পর, যে গাড়িতে স্টেডিয়াম থেকে কলেজ মাঠে গিয়েছিলেন আমি সেই গাড়ির পেছনে পাদানিতে উঠেছি। জায়গাটা একবারে সামান্য, সর্বোচ্চ দুই ইঞ্চির মতো জায়গা। সেখানে আমরা তিনজন উঠেছি। আমার খালি পা, পরনে হাফপ্যান্ট, গেঞ্জি। আমাদের কেউ কিছু বলেনি। কিছুদূর যাওয়ার পর পড়ে গেলাম। ওটা আমার জীবনের বিরাট একটা ব্যাপার। ওই একবারই আমি বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে দেখেছি।

মনে করা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেমন হবে?
আমরা চাইব সব দল, যারা বাংলাদেশে পক্ষের শক্তি, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। গণতন্ত্রকে যারা লালন-পালন করতে চায়, সবাই অংশগ্রহণ করবে। সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে। আর ২০১৪ সালের নির্বাচন হয়েছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য। ওই নির্বাচন না করলে, বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন কিছু হতো। যারা বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি, যারা এ দেশের উন্নয়নকে ধারণ করতে পারেন না তারা নতুন খেলায় মেতে উঠত। এখনো এমন একটা খেলা চলছে।

উন্নয়ন তো অবশ্যই হয়েছে কিন্তু সুশাসনের ব্যাপারটা...
সুশাসনের জন্য প্রথম পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের মতো আগামীতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হবে। সে জন্য শেখ হাসিনাকে সময় দিতে হবে। শেখ হাসিনার মতো মানুষকেই সময় দিতে হবে। আমার-আপনার মতো মানুষকে সময় দিলে বাংলাদেশের কিছুই হবে না। আমরা তো সব ভীতু, লোভী। একজন সাহসী মানুষকে সময় দিতে হবে। একজন কমিটেড মানুষকে সময় দিতে হবে।
বাংলাদেশের সেই কমিটেড মানুষ হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সারা পৃথিবীর বড় বড় দেশের হর্তাকর্তারা শেখ হাসিনাকে রক্তচক্ষু দেখিয়েছেন, শেখ হাসিনা কাউকেই ভয় পান নাই। দেশের প্রশ্নে আপস করেননি। করলে ২০০১ সালেও ক্ষমতায় থাকতে পারতেন।
শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমার দেশের ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ হোক তারপর আপনাকে দেব। বাংলাদেশে কার ক্ষমতা আছে এটা বলার? সব তো পা চাটা কুকুরের মতো। এখানে ওখানে গিয়ে মানুষের অনুগ্রহের জন্য ঘুরে বেড়ায়। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে কোনো দয়া গ্রহণ করেন না।
আমরা যারা কর্মী, আমাদের অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে। শেখ হাসিনার কোনো ভুল নেই। মানুষকে ভালোবাসার প্রশ্নে, দেশের জন্য কমিটমেন্টের প্রশ্নে শেখ হাসিনার কোনো দুর্বলতা নেই। উনি দেশের মানুষকে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ভালোবাসেন। এই ভালোবাসার প্রশ্নে কোনো খুঁত নেই।

আরেকটু গণতন্ত্র, আরেকটু বাকস্বাধীনতা...
বাকস্বাধীনতা আছে। এই যে আপনি আসছেন, কথা বলছেন, আর কী চান? আপনারা তো লাইন ধরে পত্রপত্রিকা বাড়াচ্ছেন, ৫০টা টেলিভিশন। কী বলা হয় না টেলিভিশনগুলোতে! আমাদের সম্বন্ধে, শেখ হাসিনা সম্বন্ধে ফেসবুক, টেলিভিশনে কি না বলা হয়! আর কত স্বাধীনতা চান? ক্ষমতার স্বাধীনতা চান, সেটা তো বাংলাদেশের মানুষের কাছে। ভোটে দাঁড়ান, দেখেন মানুষ আপনাকে ক্ষমতা দেয় কি না। এই যে আলোচনার জন্য যারা গেলেন, তাদের তো ওয়ান পার্সেন্ট ভোট নাই। অথচ তারা নিজেদের বিরাট বড় হোমরাচোমরা মনে করেন। কোনো এলাকার চেয়ারম্যান হওয়ারও যোগ্যতা নাই। দেশের জন্য কী করেছেন ড. কামালরা?

চলমান সংলাপ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
আমি মনে করি, সংলাপ শেখ হাসিনার উদারতার ফসল। সংলাপে কি ফল আসবে আমি জানি না। আমি বলি, এটা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উদারতা। উনি সবাইকে ডেকে কথা বলে দেশকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চান। শেখ হাসিনা দেশের ভালো চান বলেই মনে করেছেন, সবার সঙ্গে কথা বলি। নির্বাচনে সবাই আসুক। কিন্তু খালেদা জিয়ার তো জেল হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলেও তাকে আনতে পারবেন না। তারেক জিয়া তো পলাতক, খুনি। সে তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ঢুকতে পারবে না। দেশ এবং বিদেশে সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ। যে দেশে থাকে ওই দেশের মানুষও তাকে নিয়ে বিপদে আছে। সে আন্তর্জাতিক মাফিয়া, দেশের জন্য ক্যানসারস্বরূপ।

অনেকে বলেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের ভেতরেই নানা গ্রুপ তৈরি হয়েছে?
এটা স্বাভাবিক, যেহেতু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছে।

ব্যাপারটা আপনারা দলের পক্ষ থেকে কীভাবে দেখেন?
কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে আমাদের নেতাদের মধ্যে। আমার সঙ্গে আরেক নেতার সম্বন্ধ এটা নিয়েও ঝামেলা। আমি এমপি হব নাকি আরেকজন হবে, আমি চেয়ারম্যান হব নাকি আরেকজন চেয়ারম্যান হবে? আমি প্রেসিডেন্ট হব নাকি আরেকজন প্রেসিডেন্ট হবে? তবে সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে। তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। মানুষ শেখ হাসিনাকে চায় বলেই, ২০১৪ সালে এত জ্বালাও-পোড়াওয়ের পরও ভোটকেন্দ্রে গেছে ভোট দিতে। এত আগুনসন্ত্রাস হওয়ার পরও মানুষ বেরিয়ে এসেছে রাস্তায়। মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপিকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নাই। ওই দলের সাপোর্টাররা কখনো বলবে না এই শেখ হাসিনার জন্য আমরা ভালো আছি।

আপনাদের যে মহাজোট, এই জোটের ভেতরে ঐক্যটা কেমন? কেন্দ্রে যেরকম একাত্ম দেখতে পাই, তৃণমূলে খোঁজখবর নিলে দেখা যায়, কোথাও কোথাও সাংঘর্ষিক অবস্থানে আছে?
আমি অন্য দলের কথাটা বলব না। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে, এই জোটের মূল চালিকাশক্তি, হৃৎপিণ্ড। পুরো জোটেই আমাদের কর্মীবাহিনী ম্যাক্সিমাম। এর বাইরে যারা যারা আছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মীসমর্থক নেই। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশে জোট একটা কালচারের মতো, সেই কারণেই এই জোট, মহাজোট দরকার।
এটা নির্বাচনের একটা টেকনিকও বটে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, উনি এটা নির্ধারণ করেছেন, সামনেও করবেন। কীভাবে করলে, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারব, সেটাও তিনি ঠিক করবেন। আমরা অনেক কাজ করেছি। আবার আমাদের অনেক কাজ এখনো বাকি আছে। আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কোনোটা অর্ধেক হয়েছে, কোনোটা ফোরটি পার্সেন্ট হয়েছে, কোনোটা থার্টি পার্সেন্ট হয়েছে। কোনোটা আবার মাত্র শুরু হয়েছে। দেশকে আমরা যে জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, সেটা দুই বছরের কাজ না।
জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাভাবনা হচ্ছে, ১০০ বছরের চিন্তাভাবনা। নিকট ভবিষ্যৎ হচ্ছে, ’৪১ সালের চিন্তাভাবনা। সেই চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সময় দিতে হবে। নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য যা করা দরকার, সেই টেকনিক অবলম্বন করতে হবে। জোটটা তো একটি নির্বাচনী জোট, তারা তো আওয়ামী লীগার হয়ে যায়নি। নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য এটা একটা কৌশল মাত্র। কৌশলের একটা অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা যাকে যেখানে ভালো মনে করবেন, সেখানে তাকে মনোনয়ন  দেবেন। যাকে যেখানকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তার পক্ষে থাকব।

আপনি তো স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সংগঠনের অর্জন কেমন?
আমাদের সংগঠন সারা বাংলাদেশে কমিটেড ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের একটি সংগঠন। সৎ, শিক্ষিত নেতাকর্মী এখানে আছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা, সেন্ট্রাল থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে, সৎ, পরিচ্ছন্ন। আমরা কমিটেড টু শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের লিডার। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। বিগত ১০ বছর জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়। এই ১০ বছরে আমি এই সংগঠনের সভাপতি আছি। আগে ভারপ্রাপ্ত ছিলাম। ’১২ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হয়েছি। আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার বা আওয়ামী লীগ কেউ-ই বিব্রত হন নাই।

স্বেচ্ছাসেবক লীগকে কোথায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে রাখেন?
যত সময় যাবে, আরও ভালো হবে। এখানে ছাত্রলীগের সব নেতারা নেতা হচ্ছেন। ভবিষ্যতে যারাই আসবেন, আমরা নিয়ে নেব। আমার যতক্ষণ সুযোগ থাকবে, আমি ছাত্র নেতৃত্বকে নিয়ে আসব।

আপনি তো ফুলটাইম রাজনীতি করেন?
মোটামুটি।

এর বাইরে আপনার কোনো শখ আছে?
আছে। আমি তো স্পোর্টসে আছি। আমি বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট।

সেই জায়গাটিতে অর্জন কেমন?
ভালো। রোয়িং তো বাংলাদেশের মানুষ চিনতই না। এখন মোটামুটি চেনে। আমি এটার দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করছি রোয়িংকে একটি পপুলার গেমে পরিণত করার জন্য। যাতে ন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল একটা ফ্লেভার থাকে। এখানে পরিশ্রম করতে হয়। অনেক আর্থিক বিষয়ও আছে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আপনার পোস্টারিং দেখলাম।  
আমি তো পার্টির প্রেসিডেন্ট।

ধানমন্ডি এলাকাতেও বোধহয় কিছু পোস্টারিং হয়েছে?
হ্যাঁ, শুধু ঢাকা শহরে না, সারা বাংলাদেশে আমার পোস্টার। বিদেশেও আছে। বিদেশেও অনেক জায়গায় দেখতে পাবেন।

একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে জনগণের কি প্রত্যাশা থাকে?
নেতারা মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে থাকবেন, মানুষের ভালো-মন্দের সঙ্গে থাকবেন। ভালোটার সঙ্গে যেমন থাকবেন, মন্দের সময়, দুঃখের সময়, শোকের সময় তার পাশে দাঁড়াবেন। মানুষের বিপদ-আপদে পাশে আসবেন। এটা হলো একজন রাজনৈতিক নেতার প্রথম কাজ। আর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সামনে নেতা একজন আশ্রয়, ছায়া, সহযোগী, সহযোদ্ধা, সহকর্মী। তাদের দিকে মমতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

খোলা কাগজ :  আপনার নিজের থেকে কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।
মোল্লা মো. আবু কাওছার : স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি সেই আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করব। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে আমি চেষ্টা করব। অনেকেই এটা বলতে চান, কিন্তু এটা আমি আন্তরিকতার সঙ্গেই বলছি।
আমি আমার ব্যক্তিজীবনে, আচার-আচরণ চলাফেরা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্য কখনো অভিশাপ হব না। আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করব। আমার কর্মকাণ্ডে তার কোনো ভোট নষ্ট হবে না।