জামায়াতকে আশ্রয় দিয়েছেন মমতা : সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জামায়াতকে আশ্রয় দিয়েছেন মমতা : সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

ড. কাজল রশীদ শাহীন ৯:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৫, ২০১৮

print
জামায়াতকে আশ্রয় দিয়েছেন মমতা : সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত। উপমহাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ১৯৬৪ থেকে ২০০৩, প্রায় চার দশক কাজ করেছেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। এছাড়া বিভিন্ন সময় দায়িত্বে ছিলেন বম্বে ব্লিৎজ, দুবাই গালফ নিউজ, বিবিসি রেডিওতে। আনন্দবাজারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামকে প্রত্যক্ষ করেছেন খুব কাছ থেকে। পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত মুক্তিযুদ্ধের ‘বন্ধু-সমর্থক’ সম্মাননা। সাক্ষাৎকার গ্রহণে ড. কাজল রশীদ শাহীন

খোলা কাগজ : ঢাকার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নিবিড়। ১৯৭১-১৯৭৫ এখানে ছিলেন। এবার ঢাকায় কী উপলক্ষে আসা?
সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত : এবার ঢাকাতে এসেছি, কারণ বাংলাদেশ সরকার সাংবাদিকদের এখানে নিয়ে এসেছে। আমি বুড়ো মানুষ, আমাকে আগে কোনোদিন আনেনি। এবার নিয়ে এসেছে। সামনে বাংলাদেশে নির্বাচন। এখানে কি হচ্ছে, সে বিষয়ে বোঝা দরকার। আমরা কলকাতায় বসে এক রকম শুনি। এখানে আমার তো পুরনো পরিচিত লোকজন আছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মনে হলো...মনে হলো মানে আমি বোঝার চেষ্টা করলাম, এখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আসলে কি? কারা ক্ষমতায় আসতে পারে।

ওই যে বলছিলেন, কলকাতায় নানা রকম শুনি, সে বিষয়ে কিছু বলবেন...?
হ্যাঁ। শুনি। নানা রকম বিষয় শোনা যায়।

এখন তো এসে দেখলেন। শোনা আর দেখার ভেতর কতটা পার্থক্য পেলেন?
আমরা কলকাতায় ভুল শুনি।

কি ভুল শোনেন?
ভুল শুনি মানে, কলকাতায় এখানকার জামায়াতের লোকেরা আজকে সাত বছর ধরে...। লাখ লাখ জামায়াত সদস্য আছে আন্ডার দ্য প্রটেকশন অব প্রেজেন্ট ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্মেন্ট। তারা একেক সময়, তাদের সুবিধা মতোন, তাদের বন্ধুরা, বিদেশি রাষ্ট্র পাকিস্তান যা বলে, মমতা দিদিও তাই তাদের কথা বিশ্বাস করে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না। বিকজ, আই অ্যাম দ্য অনলি জার্নালিস্ট স্টিল লিভিং...আমি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কাজেই আমার নিজের একটা জানার আগ্রহ ছিল। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন অনেক সাংবাদিক নিয়ে এসেছে। আমি ওদের চিনি। ওরা তাদের মধ্যে আমাকেও ঢুকিয়ে দিয়েছে, এই হলো ঘটনা। আমার বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমি বুঝতে এসেছি। বহু লোকের সঙ্গে দেখা করেছি।

’৭১-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আপনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্যটা কেমন দেখছেন?
অনেক বদল হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম। তাদের জিল দেখে অবাক হতে হয়। বাংলাদেশের আজকের জেনারেশন সেই ত্যাগ-তিতিক্ষা দেখেনি। তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, বর্তমান প্রজন্মকে সেটা প্রচণ্ডভাবে জানানো দরকার। সেই দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের এবং বাংলাদেশের রুলিং পার্টির। পাকিস্তান যে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বিশ্বব্যাপী করে যাচ্ছে, তার ঢেউ গিয়ে কিন্তু কলকাতায় পড়ছে। কারণ, কলকাতার বর্তমান সরকারও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানে না। দলটির (তৃণমূল কংগ্রেস) নেত্রীও (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তা জানেন না; এমএলএ-মন্ত্রীরাও জানেন না-কি করে বাংলাদেশ হয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রোপাগান্ডাগুলো কি?
আমি ডিটেলস বলব না। জানতে পারছি, পাকিস্তান কলকাতায় বসে বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। এটা করে কি লাভ তা জানি না? কিন্তু সিপিএম বা কংগ্রেস আমলে তারা এই সাহস পায়নি; কিন্তু এখন পাচ্ছে। কেন পাচ্ছে, এখন আমি বলব না।

আপনার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল? নাকি এটা একটা ঘটনাক্রম?
আমি তো জার্নালিস্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি তো প্রত্যেকটা ফিল্ডে গেছি। আমি তো দেখেছি। আমি তখন আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি করতাম। বগুড়া, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা-এসব জায়গায় তো আমরা রিক্স নিয়ে গেছি। আমাদের ট্রেনিং হয়েছিল। যুদ্ধের কয়দিন তো আমরা ইউনিফর্ম পরে যুদ্ধ করেছি। খুলনায় যেদিন উইন করলাম, সেদিন তো মারা যেতে পারতাম। পাকিস্তানি ট্যাংক আমাদের ট্যাংকে আক্রমণ করল।
এরপর পাল্টা মার দিল ইন্ডিয়ান ট্যাংক। আমরা খুলনায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৩টা বেজে গেল। দেখলাম খুলনার মানুষ বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছে। মানুষ তো প্রস্তুত ছিল। সেদিন ১০ ডিসেম্বর। তখনো ঢাকা ফল করেনি। তাজউদ্দীন আহমদ, নজরুল ইসলাম সাহেবের নেতৃত্বে, ওখানে কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ওরা মিটিং করলেন। আমরা গেলাম। ব্রিজ ভেঙে গিয়েছিল, ইন্ডিয়ান আর্মি টেম্পোরারি ব্রিজ বানিয়ে দিয়ে আমাদের যশোরে নিয়ে গেল। যশোরে গিয়ে দেখলাম সাংঘাতিক অবস্থা। যারা ৯ মাস নির্যাতিত, নিপীড়িত ছিল, তারা সব রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে। আমাদের দেখে লোকে বুকে জড়িয়ে ধরছে, আমাদের খবরের কাগজের লোকদের নিয়ে গিয়ে খাওয়াচ্ছে। এসব আমরা দেখেছি। তাদের আনন্দটাও দেখেছি, তাদের ত্যাগটাও দেখেছি।

মুক্তিযুদ্ধের পর পঁচাত্তরে যে পটপরিবর্তন, সেটা তো আপনার জন্য বড় ধাক্কার বিষয় ছিল?
বড় ধাক্কা মানে, আমি তো ছিলাম। ’৭৪ সালে এখানে আমাদের অফিস ছিল। ’৭৪ সাল থেকেই আমরা কন্সপেরিসি (চক্রান্তের) বিষয়টা শুনেছি। আমরা অফিস বন্ধ করে কলকাতা চলে গেলাম। ’৭৫-র ধাক্কা তো বিরাট পাকিস্তানি চক্রান্ত, পাকিস্তান-আমেরিকার চক্রান্ত। পাকিস্তান ভেঙে যাক, আমেরিকা তা চায়নি। সেই আমেরিকা চার বন্ধুকে (জাতীয় চার নেতা) জেলে মারল। আইএসআই, ভুট্টো, জিয়াউল হক, ইয়াহিয়া খান- এদের হিসাব ছিল, ওই চারজনকে যদি আটকে রেখে মেরে ফেলা যায়, তাহলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যাবে।
এরকম সম্মিলিত ষড়যন্ত্র করেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় খন্দকার মোশতাক আহমেদ। সে তো চলে যাচ্ছিল আমেরিকায়। তাকে কলকাতা এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হলো। আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তিনি তিন-চারজন মিলে চলে যাচ্ছিলেন। তারা সেখানে গিয়ে বলবেন আমরা পাকিস্তান ভাঙতে চাইনি।...বিকজ অব হিউম্যানিটি অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড সিচুয়েশন এবং আমাদের দেশে এক কোটির ওপর লোক দাঁড়িয়ে আছে। তারা চাইছে স্বাধীন বাংলাদেশ। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চায়নি। যারা থাকতে চেয়েছে, তারাই হলো জামায়াত। তারাই এখন ওয়েস্ট বেঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।

জামায়াতের বিষয়টা কি অনুমান নাকি এটার প্রমাণ আছে?
অনুমান কেন করতে যাব? আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে। বাংলাদেশ গভর্মেন্ট জানে তো। আমরা জানি কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে।

সামনে নির্বাচন। আপনি কি ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে এসেছিলেন?
না। আমি আসিনি সেসময়। আমি এখানে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে ছিলাম।

ওই নির্বাচন নিয়েও তো নানা রকম প্রশ্ন আছে। আপনার কি মনে হয়, সেটা একতরফা ধরনের নির্বাচন ছিল?
ওই রকম ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন ইন্ডিয়াতেও আমি দেখিনি। আমি তো জেলায় জেলায় ঘুরেছি।

তাহলে এটাও কি প্রোপাগান্ডা?
সব প্রোপাগান্ডা। যা কিছু হচ্ছে আপনাদের বিরুদ্ধে সব প্রোপাগান্ডা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব ব্যক্তিগত আক্রমণ, সেগুলো পাকিস্তানি ও আমেরিকান প্রোপাগান্ডা। আমি সেটা লিখে যাচ্ছি। আপনাদের দেশের কাগজে আমি লিখেছি। আমি জানি, ন্যান্সি পাওয়েল (ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত) কি করেছিলেন। ওখানে কলকাতায় নর্টটন কি করেছিলেন। কলকাতায় বসে আমি সব জানি।
 
ভারত আমাদের মিত্রদেশ ছিল। ’৭১-এর সময় থেকে পরীক্ষিত মিত্রদেশ। কিন্তু সেই মিত্রদেশ বা মিত্রবাহিনীর ভূমিকা কি এখনো অক্ষুণ্ন আছে?
দেখুন, ৫০ বছর প্রায় হতে চলল। জেনারেশন গ্যাপ হয়ে গেছে। সেটার জন্য যে উদ্যোগটা নেওয়া দরকার, সেটা উভয় দেশের মধ্যে নেতাদের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হওয়া দরকার। ’৭১ সালে ২১ হাজার ইন্ডিয়ান সোলজার মারা গেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সবকিছু বদলে গেছিল। আমার মনে আছে, আমি তখন ছিলাম আমেরিকাতে। জাতিসংঘে ফারাক্কা নিয়ে নালিশ জানালো জিয়া।...আমরা পানি দিচ্ছি না। ইন্দিরা গান্ধী পাঠালেন বরকত আলী খান চৌধুরীকে। উনি সেখানে বললেন, আমরা রক্ত দিয়েছি, পানিও দেব।
তবে সেটা আমেরিকা থেকে নয়। সে জন্য আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। ঢাকা-দিল্লি-কলকাতায় আলোচনা হতে হবে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা-দিল্লি ফারাক্কা চুক্তি হলো। কিন্তু উনি (জিয়াউর রহমান) সেদিন নালিশ করে এসেছিলেন। আমি দেখেছি, উনি আরব ওয়ার্ল্ডের সব অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে ইনডিভিজ্যুয়ালি দেখা করে বলেছিলেন, এটা অন্যায় হচ্ছে। আরব ওয়ার্ল্ডের নেতারা বলেছিলেন (আমি সেখানে ছিলাম) আমরাই তো অবাক হয়ে যাচ্ছি। তিন বছর আগে তোমরা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করলে। আমরা বিরোধিতা করলাম। আর এমনকি ঘটনা ঘটল, তোমাদের বিরুদ্ধে নালিশ দিচ্ছে। আমেরিকা-পাকিস্তানের চাপে জিয়া সেটাও করেছে।

এখন তো প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বা জাতির জনকের কন্যা। এ সময়ে কি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়েছে?
নিশ্চয়ই। অনেক উন্নতি হয়েছে। যত বকেয়া চুক্তি ছিল পাকিস্তানের আমলে, ২০১১ সালে সব চুক্তি তো এখানে করতে এসেছিলেন ড. মনমোহন সিং। তাকে চুক্তিতে বাধা দিয়েছিল মমতা। কিন্তু সেই মমতাকে নিয়েই মোদি এলেন। কিন্তু মোদি কি সব চুক্তি করতে পারল? ওটা মমতার জেদ। ’১৪ সালের নির্বাচনের আগে যখন পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়া তিস্তা চুক্তি হওয়া দরকার বলে চিৎকার করল, পার্টিকুলারলি আনন্দবাজার পত্রিকা-তখন মমতার কেবিনেটের একজন মন্ত্রী, নর্থ বিহারে বাড়ি, তার পূর্বপুরুষরা রাজাকার ছিল, সে একটা টেলিভিশন ইন্টারভিউতে বলেছিল, আমরা কি হাসিনাকে জেতাবার জন্য তিস্তার পানি চুক্তি করব? সেটা আমি দেখেছিলাম।
দেখে আমি অন্য একটা চ্যানেলকে ফোন করে বললাম, তোমরা কালকে একটা প্রোগ্রাম করো। ওকেও ডাকো, আমিও যাব। আমি ওকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি কাকে জেতাতে চান? সে তা এড়িয়ে গিয়ে, আমার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করল।

...আপনি বলছেন, হাসিনাকে জেতাবার জন্য কি তিস্তার পানি আমরা দেব? কাকে জেতাতে চান? খালেদাকে?
সে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চেঁচামেচি করে, আমিও চেঁচামেচি করি। সে আমার কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। সেই মনোভাবটা কিন্তু বর্তমান রুলিং পার্টি বা পশ্চিমবঙ্গে আছে।
কেন আছে আমি জানি না। জানলেও আমি আপনাকে বলব না। তবে ছোট্ট একটা কারণ বলছি, সেখানে প্রচুর জামায়াতকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ? তাদের তো বিনা পয়সায় আশ্রয় দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার।...বাকিটা আপনারা বুঝে নিন।

তাহলে কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না?
পারে কি পারে না, দিল্লি ও কলকাতা...। সেটা যেহেতু গভীর রাজনীতির বিষয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। আমি এখানে কোনো কমেন্ট করব না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী একদম স্পষ্ট করে বলছেন, ভারতবিরোধী চক্রান্ত বা ভারতবিরোধী কোনো কিছু বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেওয়া হবে না।
কিন্তু আমরা দিচ্ছি। আমরা ইন্ডিয়ানরাও দিচ্ছি। ফর বিকজ অব মাইনরিটি ভোট, মুসলিম ভোট। এটা ভোটব্যাংকের ব্যাপার।

তাহলে আসামে যা হচ্ছে তাও কি ওয়ান কাইন্ড অব ভোটব্যাংক...?
তা ছাড়া আবার কি? আসামে তো বিজেপি ভোটে জিততে চায়। আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী যেগুলো করেন বা বলেন-সব তো ড্রামা।
কিছুদিন আগে বিজেপির নেতা আসামের ওদের সবাইকে বের করে দেওয়ার কথা বললেন।
রাবিশ। কেউ কাউকে বের করতে পারবে না। ও রাজনীতিতে বলতে হয় বলে।

পশ্চিমবঙ্গেরও একজন কিছুদিন আগে বললেন, ভারতের উচিত বাংলাদেশকে দখল করে নেওয়া?
পশ্চিমবঙ্গের কেউ বলেনি। দিল্লিরই একজন, বিজেপির সুব্রামানিয়াম স্বামী। সে মেন্টালি পাগল। তাকে আমরা চিনি সাতাত্তুর সাল থেকে।

খোলা কাগজ : আপনি তো দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার যে গতিপ্রকৃতি, এখন এসে কি দেখছেন?
সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত : আপনারা আপনাদের দেশকে যদি ভালোবাসেন, স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নতি চান, আমি মনে করি, আপনাদের সবারই উচিত, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকেই আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা। কারণ, আমি এদের সবাইকে চিনি, এদের ত্যাগ আমি দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। তার মেয়েকেও আমি চিনি।
আপনাদের বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন এখন। আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এদের মতো সিনিয়র লিডার আছেন। এরা সবসময়ই চায়, ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে। ভারত যদি এদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে ভারতেরই লাভ। আজকে পৃথিবীতে ভারতবর্ষের কোনো বন্ধু নাই। বিকজ অব ভারতের প্রেজেন্ট গভর্নমেন্ট পলিসি; অনলি বন্ধু আছে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ডে, যে কোনো ভোটাভুটির সময় বাংলাদেশ। ভারতের দরকার বাংলাদেশকে, কিন্তু বাংলাদেশকে ভারতের দরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে।