‘দেবী’ রাষ্ট্রীয় অনুদানে ভৌতিক চলচ্চিত্র!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘দেবী’ রাষ্ট্রীয় অনুদানে ভৌতিক চলচ্চিত্র!

উমর ফারুক ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

print
‘দেবী’ রাষ্ট্রীয় অনুদানে ভৌতিক চলচ্চিত্র!

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত বহুলপরিচিত ও সাড়া জাগানো চরিত্র মিসির আলী। মিসির আলী হুমায়ূন আহমেদের এক অনন্য সৃষ্টি। হুমায়ূন আহমেদ যেমন জনপ্রিয় তার সৃষ্ট চরিত্র মিসির আলীও তেমনি জনপ্রিয়। মিসির আলীকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবী’ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ও সরকারি অনুদানে নির্মিত। দেবী অথবা মিসির আলীর জন্য প্রেক্ষাগৃহগুলোর দোতলায় বেশ কদিন ধরে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না দেবীর। তার অবশ্য যৌক্তিক কিছু কারণও আছে।

২৭ অক্টোবর ২০১৮ স্ত্রী, সন্তান ও সহকর্মী ড. তুহিন ওয়াদুদসহ রংপুরের শাপলা প্রেক্ষাগৃহে সময়ের আগেই পৌঁছে গেলাম। বেলা ৩টার শো। অগ্রিম টিকিট থাকায় সারিতে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়লো না। উদ্দেশ্য দেবী উপভোগ। প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ মন্দ নয়। একে একে দ্বিতীয়তলা প্রায় পূর্ণ হয়ে এলো। কোনো কোনো মেয়ে একা একা অথবা বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে দেবী উপভোগ করতে এলো। বোরকা পরা মেয়েদেরও দল বেঁধে আসতে দেখা গেল। মনটা ভরে উঠলো। সত্যিই দেশটা এগিয়েছে। অনেকটা এগিয়েছে। সিনেমার একপর্যায়ে আমার ভেতরটা শেষ দৃশ্যের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু শেষ দৃশ্যে গিয়ে মনে হলো, এ যেন কেবলই সময় ও অর্থের অপচয়! মনে হলো, একটি ভৌতিক চলচ্চিত্রের জন্য এতটা সময় নষ্ট না করলেও বোধ করি ভালো করতাম। দেবীর পরিসমাপ্তিতে বিজ্ঞানের পরাজয় হলো। জিতে গেল জল্পনা-কল্পনা। বারবার মনে হতে লাগলো, রহস্য ভেদ করতে না পারা গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ বর্তমান বিজ্ঞাননির্ভর সময়ের জন্য কতটা শোভন ও প্রত্যাশিত?
এটা মানতেই হবে, দেবী একটি অসাধারণ জনপ্রিয় একটি উপন্যাস। এর সাহিত্যমান অবিসংবাদিতভাবে উন্নত। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, দেবী কী একটি চলচ্চিত্র বিনির্মাণের গল্প হিসেবে বর্তমান সময়ের জন্য উপযুক্ত? একটি চলচ্চিত্র ও বইয়ের মধ্যে অনেকটা পার্থক্য থাকে। থাকতে হয়। একটি চলচ্চিত্র সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষ উপভোগ করে। সমাজ তথা একজন মানুষের ওপর একটি চলচ্চিত্রের প্রভাব কখনো কখনো তাৎক্ষণিক ও সাময়িক। কিন্তু একটি বইয়ের প্রভাব অনেকাংশেই দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী। ফলে কোনো একটি বই পাঠকপ্রিয়তা পেতে পারে, অসাধারণ সাহিত্যমানসম্পন্ন হতে পারে কিন্তু সেই গল্পের চলচ্চিত্রমান আলাদাভাবে বিবেচিত হতে হবে। অতএব সব গল্প/উপন্যাস চলচ্চিত্র হিসেবে বিনির্মাণের জন্য যথেষ্ট উপযোগী নয় অথবা নাও হতে পারে। কথাটা যতই নির্মম ও নিষ্ঠুর হোক এটাই প্রকৃত সত্য। এবং এ নির্মম সত্য যে কোনো প্রখ্যাত লেখকের জন্যও সমরূপ প্রযোজ্য।
আমাদের একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে, থাকা উচিত। এ উচিত কাজটি সরকারি ও বেসরকারি সবার জন্যই প্রযোজ্য। তবে নিক্তির পাল্লায় সরকারের জন্য এ দায়টা হয়তো একটু বেশি। ফলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো কাজ হওয়া মানে আমরা তার মধ্যে গণমানুষের জন্য সুফল খুঁজে বেড়াই। সরকারের দায় ও দায়িত্বের গন্ধ খুঁজে বেড়াই। যেহেতু দেবী চলচ্চিত্রটি সরকারি অনুদানে নির্মিত, সেহেতু এ চলচ্চিত্র উপভোগ করে একজন দর্শক নিঃসন্দেহে কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবেন। কী উদ্দেশ্যে এ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে? কী এর শিক্ষা? এ চলচ্চিত্রের মূল দর্শনটা কী? এর ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র কীভাবে উপকৃত হবে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে তা হলো, কী পেলাম? সময় ও অর্থ ধ্বংস করলাম না তো? প্রশ্নগুলো খুব স্বাভাবিক, বরং এর উত্তরগুলো খুঁজে না পাওয়াটাই বেশি অস্বাভাবিক।
আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এখন বিজ্ঞানের যুগে বাস করছি। বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গঠনে এগিয়ে চলেছি। যখন আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছি, তখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ভৌতিক ছবি বড্ড বেশি বেমানান। যখন আমাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তখন ভৌতিক ছবিতে পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিতভাবে এক নির্মম রসিকতা মাত্র। একথা বলতেই হবে, একজন কামার, কুমার ও কৃষকের করের অর্থ ভৌতিক চলচ্চিত্র বিনির্মাণে ব্যয় করা ভালো দেখায় না। আমরা এখনো সেই অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। তার চেয়ে বড় কথা, এর ফলে আমাদের সমগ্র জাতি, আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আমাদের আগামী প্রজন্ম নিশ্চিতভাবে বিপদগ্রস্ত হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ভৌতিক চলচ্চিত্র বেসরকারিভাবে নির্মিত হতে পারে, কিন্তু সরকারিভাবে কখনোই নয়। সরকার সব সিনেমা বানাতে পারে না বা পৃষ্ঠপোষকতা দিতেও পারে না। একথা সত্য, বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি বর্তমানে ভৌতিক চলচ্চিত্র বানাচ্ছে, তা বাজারজাত করছে এবং মোটা অঙ্কের মুনাফার মুখও দেখছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, এ কাজ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হতে পারে না। এটি কোনোভাবেই সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এটি সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের একটি অপকৌশল হতে পারে মাত্র।
হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় লেখকদের একজন। তার লেখা বই পড়েই আমি বড় হয়েছি। তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গণমানুষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারা একজন লেখক ও পরিচালক। আমার খুব মনে আছে, তার নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’-এ বাকের ভাইয়ের ফাঁসির বিরোধিতা করে রাজপথে মিছিল হয়েছিল। নাটকের পাণ্ডুলিপি পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার লেখা ‘দেয়াল’ উপন্যাস গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় শেখ রাসেলের মৃত্যুর বর্ণনা ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খন্দকার মোশতাকের ভূমিকার অংশটুকু বিতর্কের জন্ম দেয়।
এক সময় তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এ বিষয়ে ২০১২ সালের মে মাসে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ একজন জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা কোনো আদেশ দিয়ে তাকে বিব্রত করতে চাই না। তবে নতুন প্রজন্ম ভুল ইতিহাস জানুক, সেটাও আমরা চাই না।’ আদালতের এ পরামর্শে পরিবর্তিত আকারে প্রকাশিত হয় ‘দেয়াল’। ফলে চাইলে যে দেবীও পরিবর্তন করা যেত তা কিন্তু নয়। অংশীজনের অনুমতিক্রমে উপসংহারটা পরিবর্তন করা যেত। তাতে পুরো চলচ্চিত্রের মানটা আরও বাড়তো। সরকারের অনুদানও আজ প্রশ্নবিদ্ধ হতো না। আমাদের মনে রাখতে হবে, হুমায়ূন আহমেদ অনেক চলচ্চিত্র বিনির্মাণ করেছেন তবে দেবীকে তিনি চলচ্চিত্র হিসেবে বেছে নেননি। বোধহয় তার কারণ তিনি নিজেই জানতেন, দেবী চলচ্চিত্র হিসেবে খুব বেশি সর্বজন গ্রহণযোগ্য হবে না।
দেবী চলচ্চিত্রটি যেহেতু সরকারি অনুদানে নির্মিত সেহেতু আমাদের জানা দরকার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান কি ও তা কার জন্য? দেবী কী অনুদানের যোগ্য? সাধারণত জাতীয় ঐতিহ্য ও আদর্শ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনা সমৃদ্ধ, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জীবন ও সমাজধর্মী বিষয় বা ঐতিহাসিক ঘটনা অথবা অন্য যে কোনো বিষয়ের ওপর শিল্পমান সমৃদ্ধ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ চলচ্চিত্র কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ে? ‘জাতীয় ঐতিহ্য ও আদর্শ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনা সমৃদ্ধ, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জীবন ও সমাজধর্মী বিষয় বা ঐতিহাসিক ঘটনা’-এর কোনোটির সঙ্গে কি দেবী সম্পর্কিত? বাকি থাকে ‘অন্য যে কোনো বিষয়ের ওপর শিল্পমান সমৃদ্ধ’। তাহলে কি দেবী এ শেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? কিন্তু একথাও সত্য, দেবী অনেকাংশেই শিল্প মানসম্পন্ন সফল ভৌতিক ছবিও নয়। যে মিসির আলীকে নিয়ে এত আয়োজন, সেই মিসির আলীর চরিত্রও আমাদের পুরোপুরি স্পর্শ করেনি। ফলে এ চলচ্চিত্রে অনুদান প্রত্যাহারের ব্যাপারে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আপাতত প্রতীয়মান।
সে দিন দেবী চলচ্চিত্র উপভোগ করে এসে ফেসবুকে একটি অভিমত প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত পড়েছে। আমার মতামতের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক জিনাত শারমিন। সেই মতামতে তার সঙ্গে বিতর্কের একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হলো। যে বিতর্ক এ লেখার বিরোধীদের একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।

ফেসবুকে দেবী সম্পর্কিত আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি : ‘বিজ্ঞাননির্ভর সময়ে, রহস্য ভেদ করতে না পারা গল্পনির্ভর (হোক তা যে কোনো লেখকের) ‘দেবী’ চলচ্চিত্র অপ্রত্যাশিত। গণমানুষ বিপদগ্রস্ত হবে।’
জিনাত শারমিন : সবিনয়ে বলছি স্যার, মানতে পারলাম না।
আত্মপক্ষ সমর্থন : আপা সিনেমার একটা দায়বদ্ধতা থাকতে হয়, শিক্ষা থাকতে হয়। এ সিনেমায় সেটা নেই। জল্পনা-কল্পনার বিজয় নিঃসন্দেহে আমাদের প্রান্তিক মানুষকে পশ্চাদগামী করবে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন ও এ ছবির ছাড়পত্র নিঃসন্দেহে সাংঘর্ষিক।
জিনাত শারমিন : উমর ফারুক স্যার, এ সিনেমা নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। আমি বইটা, বইয়ের লেখক ও তার চরিত্রগুলো নিয়ে বিশেষভাবে আবেগায়িত। আবেগের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের কোনো প্রভাব নেই বলেই বিশ্বাস করি। আর একটু অন্যভাবেও কিন্তু দেবীকে দেখা যায়। এ দেবী নারীর এক অদম্য শক্তি, যে শক্তি দিয়ে আজন্ম নারী নিজেকে রক্ষা করে বা রক্ষা করার চেষ্টা করে। বাকি গল্প শুধু গল্পকে রহস্যময় আবহ দেওয়ার চেষ্টা। বিজ্ঞান বুঝলেই কি হবে স্যার আমাদের অল্প কিছু সাহিত্য নিয়েও ভাবতে হবে। আর স্যার, সিনেমা তো সিনেমাই। সিনেমায় তো টম ক্রুজও কত্ত ওপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কিছু হয় না।
আত্মপক্ষ সমর্থন : আপা, সাহিত্য কিন্তু শুধু সাহিত্য নয়, এর যে অংশটুকু প্রায়োগিক নয় সেটুকু বর্জিত হবেই। আপা মানতেই হবে এ ছবিতে কোনো শিক্ষা নেই, গ্রহণযোগ্য কোনো দর্শনও নেই। যাই হোক দ্বিমত থাকবেই, ভিন্নমত থাকবেই। ভিন্নমতের মানুষই আমার কাছে বেশি সম্মানের। তবে আমি মনে করি এ ছবির ছাড়পত্র বাতিল হওয়া উচিত।
জিনাত শারমিন : ভাই আবারও বলছি, ছবি নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। আপনার পোস্টে লেখক শব্দটা না থাকলে মনে হয় কিছু লিখতামই না। তবে অতিপ্রাকৃত গল্প সাহিত্যের একটি অংশ। সেটা বাতিল করা যায় না বলে মনে হয়। আর পরিচালক লেখকের লেখার বাইরে একটুও যাননি। সে ক্ষেত্রে বইটা বাতিল করা হবে?
আত্মপক্ষ সমর্থন : আপা বই পড়ে সমাজের শিক্ষিত মানুষ, কিন্তু একটি সিনেমা দেখে সমাজের উঁচু থেকে নিচুতলা, সব স্তরের মানুষ। রিকশাওয়ালা, কামার, কুমার, জেলে, সবাই। ফলে সব গল্পই সিনেমার উপযোগী নয়। আমরা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা অস্বীকার করে কেবল ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় একজন জনপ্রিয় লেখকের জনপ্রিয়তাকে ব্যবসায়িক তুলাদণ্ডে মাপতে তার গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতে পারি না। বইটার প্রসঙ্গ শুধু এজন্যই এসেছে। দেবী লেখনী হিসেবে চমৎকার, তবে এ গল্প সিনেমা হিসেবে একেবারে অগ্রহণযোগ্য।
জিনাত শারমিন : আমার মনে হয় স্যার এ ছবি সবাই দেখবে না। যারা দেখবে তাদের সিনেমা নিয়ে মোটামুটি ধারণা আছে। এটাকে তারা একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবেই নেবে। তাতে দর্শকের বিজ্ঞানমুখী স্বভাবের এতটুকু পরিবর্তন হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। জরিপ করা যেতে পারে। মুভি ভালো নাও লাগতে পারে, তবে আমি এর ক্ষতিকারক দিক দেখি না। ভিন্নমত আমার আপনার। খারাপ না।
আত্মপক্ষ সমর্থন : আপা দয়া করে একটু বলবেন, এ ছবির শিক্ষাটা কী? দর্শনটা কী? রাষ্ট্র কী চাইলেই যেখানে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে, যা সবার জন্য নয়? আর বিতর্কে জড়াবো না। অনেক মতামত দিয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা।
জিনাত শারমিন : বিতর্ক হচ্ছিল নাকি! কি যে বলেন! মতামত দিইনি। দ্বিমত দিয়েছি। মিসির আলীকে দেখতে গিয়েছিলাম স্যার। এত কিছু ভাবি নাই। যাই হোক ভিন্নমতের সবাইকে সম্মান করি না আমি। আপনাকে করি। ভালো থাকুন।
আত্মপক্ষ সমর্থন : এত কিছু ভেবে আমাকে একটু জানাবেন প্লিজ। আপনার অবস্থান আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
জিনাত শারমিন : অবস্থান জানিয়েছি তো স্যার। তবে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের ব্যাপারটা গুরুত্ব বহন করে। এ জায়গায় আপনার সঙ্গে একমত।
জিনাত শারমিন আপা ভৌতিক চলচ্চিত্র নির্মাণে রাষ্ট্রের অনুদানের বিরোধিতার বিষয়ে একমত পোষণ করলেন। সম্ভবত অধিকাংশ মানুষও সেটি করবেন। যারা প্রকৃত অর্থে হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসেন, বোধ করি তারাও দেবী নির্মাণে সরকারি অনুদানের বিরোধিতা করবেন। কারণ এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ তার যথার্থ প্রাপ্য পেয়েছেন কিনা সেটি এখন আর প্রশ্নের অতীত নয়। তা ছাড়া দেবী চলচ্চিত্র কোনরূপ সামাজিক দায়িত্বই পালন করেনি। বরং আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তায় ভূতপ্রেতকে উসকে দিয়েছে, জল্পনা-কল্পনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারি অনুদানে ভৌতিক চলচ্চিত্র হতে পারে না। কখনোই হতে পারে না।
এটি নিছক রাষ্ট্রের অর্থ ধ্বংস আর আমাদের সময় নষ্ট।

উমর ফারুক : শিক্ষক, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
faruque1712@gmail.com