ছাত্রলীগ হবে ইতিবাচকতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর : গোলাম রাব্বানী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ছাত্রলীগ হবে ইতিবাচকতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর : গোলাম রাব্বানী

হাসান ওয়ালী ৯:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

print
ছাত্রলীগ হবে ইতিবাচকতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর : গোলাম রাব্বানী

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের বিগত কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে না থেকেও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছিলেন আলোচনায়। সম্প্রতি গোলাম রাব্বানী কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান ওয়ালী

খোলা কাগজ : ছাত্রলীগের মতো বড় ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা কেমন ছিল?
গোলাম রাব্বানী :
আমার বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপরে। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনে যখন তিনি হাত দিয়েছেন তখন দেশসেরারাই নেতৃত্বে আসবেন। তিনি যখন বললেন, তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে না, সঠিক সিলেকশনের মধ্য দিয়েই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, তখন থেকে আমার আর ভয় ছিল না। শেষ পর্যন্ত নানা ঘটনার মধ্য দিয়েও তিনি এ পদে আমাকে বেছে নিয়েছেন।

আপনি যে সিস্টেমের বিপক্ষে ছিলেন বিগত কমিটিতে, একেবারে শেষ সময় পর্যন্ত তো আপনাকে বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে...
রাজনীতিকদের চলার পথ মসৃণ হয় না। দেশের জন্য কাজ করতে গেলে সবসময় বাধা আসবেই। সব বাধা অতিক্রম করার মানসিকতা নিয়েই আমি এসেছি। এ কারণে কোনো বাধাই বাধা মনে হয়নি। আর আমার অনুপ্রেরণার আঁধার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাবা-মা, ভাই-স্বজন হারিয়েও তিনি দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হয়ে যদি এতটুকু বন্ধুরতার পথ পাড়ি না দিতে পারি, তাহলে কীসের আদর্শিক কর্মী হলাম?

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন সময়ে ইতিবাচক পরিকল্পনার কথা বলেছেন। দায়িত্ব সমবণ্টনের কথা বলেছেন। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে কী ভাবছেন?
আমি সবসময় বিশ্বাস করি বিকেন্দ্রীকরণে। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হতো আগে। কিন্তু আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষম বণ্টননীতিতে সারা দেশে উন্নয়ন করছেন। আমরা ছাত্রলীগ সে আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে কাজ করার সুযোগ দিতে চাই।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধু সভাপতি-সেক্রেটারিকেন্দ্রিক হবে না। কমিটির প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব থাকবে এবং তারা কাজ করার সুযোগ পাবে। আগামীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে প্রতিটি এলাকায় ছাত্রলীগের কমিটি করার ক্ষেত্রে ওই এলাকার সন্তান যিনি কেন্দ্রে থাকবেন তার লিখিত সুপারিশ লাগবে। এতে করে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের এলাকায় মূল্যায়ন থাকবে। ছাত্রলীগ পজিটিভ এবং মননশীল ছাত্ররাজনীতি করবে। ছাত্রলীগের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনবে।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে নাগাদ গঠিত হবে?
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ইনশাআল্লাহ এ মাসেই হয়ে যাবে। আমরা বসেছি, খসড়া করা হয়েছে, কমিটি প্রণয়নের কাজ শেষদিকে।

নেতৃত্ব নির্বাচনে কী কী যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হবে?
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাদের যেভাবে নির্বাচিত করেছেন ঠিক একই প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগ নেতাদের নির্বাচন করছি আমরা। অর্থাৎ ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, ছাত্র সম্পৃক্ততা, অতীতের রেকর্ড সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সম্ভাব্য শ্রেষ্ঠদের নিয়ে আমরা কমিটি করব।

দেশে ইতোমধ্যেই নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনের একেবারেই আগমুহূর্তে নতুন কমিটি নিয়ে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ছাত্রলীগ কতটুকু প্রস্তুত?
ছাত্রলীগ সবসময়ই প্রস্তুত। এবার যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসবে তারা আগে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা নেতৃত্ব বাছাই করছি যোগ্যতা বিবেচনা করে। সুতরাং এবারের কমিটি শক্তিশালী হবে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের থাকবে।

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হচ্ছে। বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে ছাত্রলীগকে...
সারা দেশে প্রতিটি স্থানে ছাত্রলীগ হবে ইতিবাচকতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর-এটিই আমাদের স্লোগান।
আর এই কমিটি যেহেতু শেখ হাসিনা সরাসরি দিয়েছেন সুতরাং আমরা কোনো ভালো কাজ করলে যেমন তার মুখ উজ্জ্বল হবে, ঠিক একইভাবে আমরা কোনো ভুল করলে সরাসরি নেত্রীর দিকে আঙ্গুল যাবে। আমরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পুরস্কার দেব প্রতি মাসে। বেস্ট ইউনিট অব দ্য মান্থ এবং বেস্ট অ্যাক্টিভিস্ট অব দ্য মান্থ ঘোষণা করব। তিনবার যে ইউনিট বেস্ট হবে তাদের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

খোলা কাগজ : সম্প্রতি ডাকসু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচন চায়। খুব তাড়াতাড়ি ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা কি দেখেন?
গোলাম রাব্বানী : দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন হয় না। দীর্ঘদিন একটা অচলাবস্থা ছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে ডাকসু নির্বাচনের পথ খুলেছে। আমরাও চাই ছাত্রদের অধিকারের কথা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বলুক। আমরা চাই শুধু ছাত্রলীগের নেতা নয়, সমগ্র ছাত্র সমাজের নেতা হতে।
অবশ্যই ডাকসুর বিকল্প নেই। শুধু ডাকসু না, সারা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ছাড়া সব প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন নিয়েই আমরা ডাকসু নির্বাচন চাই। এবং ডাকসু নির্বাচনে ভিপি-জিএসসহ পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ছাত্রলীগকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই।