এ যেন আরেক নবীনবরণ

লাবু হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় / ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭,২০২১

রৌদ্রজ্বল সকাল। দেবদারু গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের আলোর লুকোচুরি চলছে। শহীদ শামসোজ্জোহা হলের মূল ফটকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন পরে দেখা হওয়ায় কুশল বিনিময় করছে একে অপরের সঙ্গে। প্রায় ১৯ মাস পরে হল প্রাঙ্গণে তাদের পদচারণা। কাগজপত্র জমা দিয়ে চিরচেনা হলে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। প্রবেশের সময় সবার হাতে হাতে দেওয়া হচ্ছে একটি করে লাল গোলাপ। গোলাপ ছাড়াও দেওয়া হচ্ছে একটি করে চকলেট এবং একটি মাস্ক। এ যেন আরেক নবীনবরণ। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কথা।

আজ রোববার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে এমনভাবেই বরণ করে নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সতেরটি আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে। হলের বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিকতার কার্ড এবং করোনা টিকার প্রমাণপত্রের দুটি ফটোকপি জমা দিয়ে হলে প্রবেশ করেছে।

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বিজয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের হল কর্তৃপক্ষ বরণ করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন পরে চিরচেনা হলে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কানিজ রাজিয়া কথা বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলে ফিরতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। হলের পরিচিত আপুদের সাথে দীর্ঘদিন পরে দেখা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সুজন সেন বলেন, সকাল থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের ফুল, চকলেট এবং মাস্ক দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। আমার হলের ৫৯৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় দুই'শ আবাসিক শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ করেছে। হলে প্রবেশের পরে শিক্ষার্থীরা রুমে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা দ্রুত সমাধানে আমরা তৎপর রয়েছি।

বেগম রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোবাররা সিদ্দিকা বলেন, শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই হলে প্রবেশ করছে৷ শিক্ষার্থীরাই হলের প্রাণ। তারা হলে ফেরাতে আমাদের নিজেরও ভালো লাগছে। শিক্ষার্থীদের রুম দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভিতরে ময়লা জমে থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি হলের আয়াদের বলে রাখছি শিক্ষার্থীদের রুম পরিষ্কারে সহযোগিতা করতে। এছাড়া যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা সচেষ্ট আছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. জুলকার নায়েন বলেন, সকাল থেকেই বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিটি হলে আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জোহা হলেও তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন রুম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য হল ক্যান্টিন চালু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে ডাইনিং চালু হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্যসহ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো পরিদর্শন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা মতো শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অন্তত এক ডোজ করোনা টিকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হলে প্রবেশ করেছে। যেসকল শিক্ষার্থী এর আগে টিকা নেয়নি আমরা তাদের জন্য টিএসসিসি'তে ২০ হাজার টিকার ব্যবস্থা করেছি।

ফলে শিক্ষার্থীরা সেখানে টিকা নিয়ে হলে প্রবেশ করতে পারছে। সেখানে দ্বিতীয় ডোজ টিকাও দেওয়া হচ্ছে। হল খোলার সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল কর্তৃপক্ষ এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করছি।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com