Warning: mysql_fetch_array() expects parameter 1 to be resource, boolean given in /home/www/kholakagojbd.com/popular.php on line 70
একে একে নিভছে দেউটি : - Poriborton

একে একে নিভছে দেউটি

বাতিঘর ডেস্ক / ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০১,২০২১

মৃত্যুর মিছিলে একের পর এক যুক্ত হচ্ছেন রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা, যা বেদনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতো মহামারী করোনায় সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন দেশের নামি-দামি ও খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে চলে গেলেন কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ব্যাংকিং সেক্টরের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এবং জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক এটিএম শামসুজ্জামান। এই তিন গুণীজনকে নিয়ে আজকের আয়োজন। 

সৈয়দ আবুল মকসুদ

সৈয়দ আবুল মকসুদ ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও লেখক। তিনি তার গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের জন্য সুপরিচিত। তার প্রবন্ধসমূহ দেশের রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী ও কর্ম নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। পাশাপাশি কাব্যচর্চাও করেছেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশের উপর। জার্নাল অব জার্মানি তার লেখা ভ্রমণকাহিনী। বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

সৈয়দ আবুল মকসুদ ২৩ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও মা সালেহা বেগম। তার জন্মের দুই বছর পর ১৯৪৮ সালের ২০ নভেম্বর তার মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ধনুষ্টঙ্কারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মায়ের মৃত্যুর পর তার বিমাতা বেগম রোকেয়া আখতার তাকে সন্তান স্নেহে লালনপালন করেন। তিনিও ১৯৮০ সালে মারা যান। তার বাবা কাব্যচর্চা করতেন। তাই শৈশব থেকে তিনি দেশি বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকা পড়ার সুযোগ পান।

শিক্ষাজীবন
আবুল মকসুদের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় তাদের বাড়ির নাপিত লোকনাথ শীলের কাছে। তিনি তাকে ‘বর্ণবোধ’ ও ‘আদর্শলিপি’র পাঠ দিতেন। এরপর তিনি পড়েন তাদের ডাক্তার নিবারণচন্দ্র সাহা পোদ্দারের কাছে। তিনি সপ্তাহে তিন-চার দিন তাকে পড়াতেন। তিনি ঝিটকা আনন্দমোহন হাই স্কুলে একেবারে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ পড়াশুনা করেন।

কর্মজীবন
তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে। পরে সাপ্তাহিক ‘জনতা’য় কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায় যোগ দেন। ২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার সম্পাদকীয় বিভাগের চাকরি ছেড়ে দেন। পরবর্তীসময়ে তিনি দৈনিক প্রথম আলোর একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন। এই দৈনিকে ‘সহজিয়া কড়চা’ এবং ‘বাঘা তেঁতুল’ শিরোনামে তিনি সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে কলাম লিখতেন।

সাহিত্যিক জীবন
সৈয়দ আবুল মকসুদের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ষাটের দশকে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ দিয়ে। তখন তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন। ১৯৮১ সালে তার কবিতার বই বিকেলবেলা প্রকাশিত হয়। ১৯৮৭ সালে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দারা শিকোহ ও অন্যান্য কবিতা প্রকাশিত হয়। মানবাধিকার, পরিবেশ, সমাজ ও প্রেম নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিকধর্মী গবেষকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রমুখ প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন। এছাড়া তৎকালীন সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। স্মৃতিতে ওয়ালীউল্লাহ গ্রন্থে তিনি তাকে চিনতেন এবং জানতেন এমন সব মানুষদের কাছ থেকে নানা উপাদান সংগ্রহ করেছেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে এবং পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।

পারিবারিক জীবন
আবুল মকসুদের স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তাদের দুই সন্তান। মেয়ে জিহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করে ব্যাংকে চাকরি করছেন। ছেলে নাসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স এবং মাস্টার্স করে দুই বছর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে চাকরি করছেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা একাডেমি পুরস্কার-১৯৯৫ (সামগ্রিক অবদান)
প্রথম আলো বর্ষসেরা বই (১৪২২)

মৃত্যু
সৈয়দ আবুল মকসুদ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com