শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবক

আরিফ সাওন / ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬,২০২১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে লেখাপড়া। ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা বলছেন- পরীক্ষামূলক হলেও কিছু দিনের জন্য খুলে দেখা দরকার। সমস্যা হলে না হয় আবার বন্ধ করে দেওয়া যাবে।

সম্প্রতি ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘স্কুলের কার্যক্রম আরও এক বছর ব্যহত হলে সেই ক্ষতির ভার শিশুরা বইতে পারবে না। আমরা যেহেতু কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করেছি এবং বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তাই স্কুলগুলো খোলা রাখতে বা খোলার পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেওয়া উচিত হবেনা।’

মিতু নামের এক অবিভাবক বলেন, ‘স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিশুদের লেখাপড়া কম হবে এটাই স্বাভাবিক। শিশু অনলাইন ক্লাসে তো সরাসরি ক্লাসের মত এতো বোঝে না।’

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল আরাফ বলেন, ‘স্কুল কলেজ বন্ধ প্রায় এক বছরে হতে চলল। এখন শিক্ষার্থীদের জন্য যতই অনলাইন কার্যক্রম করা হোক; অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হোক, আমরা আসলে অনলাইনের সঙ্গে তেমনটা অভ্যস্ত না। অনলাইনে যতই আমাদের স্কুল পরীক্ষা নিচ্ছে, মডেল টেস্ট নিচ্ছে, সিটি পরীক্ষা নিচ্ছে, রেগুলার ক্লাস করাচ্ছে, রিভিশন ক্লাস করাচ্ছে- তারপরও স্কুলে গেলে আমাদের লেখাপড়ায় যে পরিমাণ অ্যাফোর্ট থাকত, ঠিক ওই রকম অ্যাফোর্ট অনলাইনে হচ্ছে না। আমাদের এখন এসএসসির আর ১৮ দিনের মতো আছে। অনলাইনে এসএসসি বলতে কিছু আছে, সেটা এখনো আমাদের মাথায় আসেনি। এ কারণে কিছু দিনের জন্য স্কুল খোলা উচিত। যদি পরে দেখা যায় যে অবস্থা খারাপ হচ্ছে, করোনা বেড়ে যাচ্ছে, তাহলে তখন না হয় আবার বন্ধ করে দেওয়া যাবে।’

শুধু শিশুরাই নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রায় সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীই মানসিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাজধানীর একটি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে ভালো হয়। এভাবে কী লেখাপড়া হয়? কারো কারো নাম মাত্র লেখাপড়া হলেও অনেকেরই বন্ধ লেখাপড়া।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা থাকছে না। বাড়ছে ইন্টারনেটে আসক্তি। মানসিকভাবেও তাদের ওপর একটা প্রভাপ পড়ছে।

মিতু নামের ওই অবিভাবক বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের ডিসিপ্লিন ঠিক থাকছে না। আমার মেয়েটা এখন ঘুম থেকে দেরিতে উঠছে। বেশি রাত করে ঘুমাচ্ছে। স্কুলে যেতে পারে না। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। মন খারাপ থাকে। সারাক্ষণ বাসায় থাকলে ইন্টারনেট বা টিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। আমার মেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে মোবাইল ধরে, টিভি দেখে। তবে নেশা তো আছে।’

ইউনিসেফের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, ‘সমবয়সীদের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগাযোগের অভাব এবং চলাফেরা কমে যাওয়ায় শিশুরা শারীরিক সুস্থতা হারাচ্ছে এবং তাদের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। যদি আরও একবছর শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে প্রজন্মান্তরে তার ফল ভোগ করতে হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে। শ্রেণি কক্ষে পঠন-পাঠনের আদর্শ বিকল্প নেই।’

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মন পড়ার টেবিলে নেই। তারা এখন কেউ ফেসবুক নিয়ে আছে, কেউ গেম, কেউবা অন্যভাবে সময় ব্যয় করছে। এইচএসসিতে অটো পাস দেওয়ার পরে অন্য শিক্ষার্থীরাও হাল ছেড়ে দিয়েছে।’

বিকল্পভাবে হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্ধ না রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধরেন- ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন, আর নবম দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাকি তিন দিন ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।’

গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই বন্ধ কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়। এদিকে ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার ফের ছুটি বাড়িয়ে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।

উইনিসেফ বলছে- শিশুদের ওপর স্কুল বন্ধের বিরূপ প্রভাবের বিষয়ে অভূতপূর্ব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এবং স্কুলগুলো মহামারীর চালিকাশক্তি নয় বলে জোরালো প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এমন মাত্রা বিগত অনেক বছরেও বাড়েনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com