দ্বিধা

দেওয়ান শামসুর রকিব / ২:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮,২০২০

বিয়ের পরে শমিক এতটা বদলে যাবে ভাবেনি রিয়া। তাও ঘটনাটা বিয়ের পরদিন থেকে। রাতের সুখময় সময়টা ভেঙে গেল শমিকের ডাকে। তখন সকাল সাতটা বাজে।

-এই রিয়া, ওঠো। মা রান্নাঘরে কী করছে দেখো, মাকে সাহায্য করো। অনেকটা আদেশের সুরে কথাটি বলল শমিক। এই অবস্থায় রিয়া কী করবে বুঝতে পারছে না। সাধারণত নতুন বউকে প্রথম কদিন আদরে অ্যাপায়নে খাতির যত্নে রাখা হয়। মেয়ে হিসেবে জন্মেছে যখন, ঘরে কাজ যে করবে না তা তো নয়; নিজের সংসার তো নিজের মতো করেই সাজাবে, কাজও করবে কিন্তু এভাবে শমিক বলছে কেন? নিজে তো ঠিকই শুয়ে আছে? কাল রাতে কম তো ধকল যায়নি! বিকালে মেকওভার নিতে যাওয়া হল ধানমন্ডিতে।

প্রায় চার ঘণ্টা লেগে গেল সেখানেই। তারপর বাসায় আসা। শাড়ি গহনা পরতে আরও ঘণ্টা দুয়েক। বিকালে খালি একটা স্যান্ডুইচ খেয়েছিল। যথারীতি আটটায় কমিউনিটি সেন্টারে পৌঁছাতে হয়েছিল রাত আটটায়। অনেক বিয়েতে বর-কনে আসে ন’টা, সাড়ে ন’টায়! রিয়ার বাবা তা হতে দিলেন কই? রিয়াকে ঠিক আটটায় পৌঁছাতে হল। আর শমিকরা এল খুব দেরি করে! রাত দশটায় যখন এল তখন দ্বিতীয় ব্যাচের খাওয়া শেষ। কী আর করা লোকজনকে তো রাত দশটা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা যায় না। কিন্তু শমিক দেরি করার ছেলে না। যখন তারা ডেট করেছে বেশিরভাগ সময়ই শমিক আগে চলে এসেছিল। বিয়ের দিন দেরি করে আসছে দেখে রিয়া টেনশনে পড়ে গিয়েছিল!

বান্ধবী রিনাকে দিয়ে খোঁজ নিতে বাধ্য হয়েছিল রিয়া। তখনই রিনা বলেছিল, শমিক ভাই কেমনভাবে যেন কথা বলল, বুঝলাম না। দাদি বলেছিল- বোন, আগে কী হয়েছিল ভুলে যাও, বাসর রাতেই বুঝবা ছেলে কেমন? যাই হোক ভালোভাবে বিয়ে প্রক্রিয়াগুলো পালন করে যেমন বিয়ে পড়ানো, মালাবদল, মিষ্টি মুখ, আংটি পরানো, আয়না মুখ আর খাবার খেয়ে আসতে আসতে রাত সাড়ে বারোটা। মা আর ননদ বিদায় নিতে প্রায় দুটা বেজে গেল। তারপর দুজন দুজনকে একাকী পাওয়া। রিয়া ভাবছিল বাসর রাতটা দুজনে রাতভর গল্প করে কাটিয়ে দেবে। তা আর হল কই? শমিক হঠাৎই বলল, চলো, শুয়ে পড়ি। রিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই শমিক শুয়ে পড়ে রিয়াকে একটানে নিজের কাছে নিয়ে নিল।

তারপর বুনো মানুষের মতো রিয়াকে উপভোগ করল অনেকটা সময়জুড়ে। রিয়ার যে ভালো লাগেনি তা নয় কিন্তু এতটা উগ্রতা চায়নি রিয়া! ব্যথা আর শিহরিত সুখ দুটিই ছিল পুরো সময়জুড়ে। শাশুড়ির সঙ্গে রান্নার কাজে সহযোগিতা দিয়ে শুরু, এর কিছুদিন পর পুরোপুরি বাড়ির কাজ রিয়াকেই সামলাতে হয়েছে। শমিক মূলত মা অন্তপ্রাণ ছেলে। মায়ের যত্নে এদিক সেদিক হলে যে শমিককে রিয়া দেখেছে, সে অন্য শমিক। একদিন হাতও তুলেছিল। রফিক আজাদের “মাধবী এসেই বলে : ‘যাই’” কবিতা পাঠেই রিয়াকে জয় করেছিল শমিক। খুব যে কবিতা শুনত রিয়া তা নয়, শমিক যখন লাইনগুলো প্রথম শোনাল রিয়া একটা স্বপ্নের মধ্যে চলে গিয়েছিল। স্বপ্ন থেকে ঘোর, ঘোর থেকে পাগলামি।

২.
শমিকের মা বসে আছে একপাশে। বিপরীত পাশের চেয়ারে রিয়া। এক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে শমিক। বউটি স্পট ডেথ। বাঁচানো যায়নি শমিকের ছেলেকেও। আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শমিক। গাড়িটি শ্রমিকই চালাচ্ছিল। বিপরীত পাশ থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ। দোষ অনেকটা শমিকের যতদূর জানা গেছে। এলকোহল পাওয়া গেছে টেস্টে। শমিকের মায়ের একটি চাওয়া রিয়া যদি শমিককে মাফ করতে পারে তাহলে এ যাত্রায় শমিক বেঁচে যেতে পারে। এত কান্না দেখে রিয়া খুশি হতে পারত কিন্তু খুশি হতে পারছে কই? এত সহজে কি ক্ষমা করা যায়? রিয়ার মনে অনেকে প্রশ্ন আর সেরকমভাবে অনেক দ্বিধা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com