কালিপদ স্যার

অলোক আচার্য / ১:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫,২০২০

কালিপদ স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয় ক্লাস সিক্সে ওঠার সময় থেকে। অবশ্য বড় ভাইদের কাছে আগে থেকেই কালিপদ স্যার সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছিলাম। স্যার ছিলেন অঙ্ক শিক্ষক। তার ক্লাস মানে কঠিন ব্যাপার। সবাই ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত। তার ক্লাসে পড়া না হওয়া মানে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। বেতের পাশাপাশি আরও অনেক রকম শাস্তি ছিল। কারও কারও আবার এর থেকেও বেশি কিছু হয়ে যেত। এই তো সেদিন ক্লাসের মোটাসোটা ভীতু টাইপের ফরহাদ যা তা কা- করে ফেলল। তাই নিয়ে গোটা স্কুলে হাসাহাসি। বেচারা সপ্তাহখানেক স্কুলে আসেনি।

ঘটনা হলো, সেদিন বীজগণিতের সূত্র মুখস্থ করতে দিয়েছিল কালিপদ স্যার। ক্লাসে এসেই টেবিলের ওপর তার স্পেশাল বেত দিয়ে শব্দ করলেন। স্যারের স্পেশাল বেত মানে দুইটা বেত লাল সুতা দিয়ে প্যাঁচানো। মনে হয় মাঝে মধ্যে তেল দেওয়া হত। তো সেই শব্দে ক্লাসে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। আমি সেদিন বসেছি মাঝামাঝি বেঞ্চে। স্যারের হাত থেকে বাঁচার কৌশল এটা। প্রথম দিকে মার একটু জোরে হত। ধীরে ধীরে সেই স্পিড কমতে থাকত। তাই আমার বসার স্থান ছিল মাঝ থেকে শেষ দিকের বেঞ্চে। আমার সঙ্গে ফরহাদও বসত। আমি জানতাম ফরহাদের সূত্রগুলো মুখস্থ হয়নি। ওর হাত পা কাঁপছিল। স্যার সেদিন প্রথম বেঞ্চ থেকে পড়া না ধরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন। সোজা ফরহাদের সামনে দাঁড়ালেন। ফরহাদ ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছিল না। তারপর একসময় নাকে দুর্গন্ধ এসে লাগল। নিচে তাকিয়ে দেখলাম ফরহাদ প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে। স্যার নাকে হাত দিয়ে সরে গেলেন। মুখে বললেন, বেয়াদব ছেলে! ইয়ে করে ভেবেছিস পার পেয়ে যাবি? এই অবস্থায়ই তোকে সূত্র বলতে হবে। না পারলে চামড়া খসিয়ে ফেলব।

সেদিন আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। তবে ঘটেনি। তারপর থেকে ফরহাদের নাম হয়ে গেল প্যান্ট ভেজা বাবু। তো কালীপদ স্যারের একটা অভ্যাস ছিল। ছাত্রদের দিয়ে বাজারের যাবতীয় জিনিসপত্র বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া। আমাকেও মাঝে মধ্যেই এই কাজ করতে হত। অনেক কৌশল করেও তা এড়াতে পারতাম না। তবে দুটো ঘটনা ঘটার পর থেকে স্যার আর আমাকে দিয়ে কাজ করাতেন না। একদিন স্যার হাট থেকে তরমুজ কিনে আমার হাতে দিয়ে বললেন, যা বাড়ি নিয়ে যা। তরমুজ নিয়ে সোজা আমার বাড়িতে চলে এলাম। তারপর বন্ধুরা মিলে কেটেকুটে খেলাম। এদিকে স্যার তো বাড়িতে গিয়ে তরমুজ না পেয়ে রেগে গেলেন।
কাঁপতে কাঁপতে আমার বাড়িতে এলেন। ডাক শুনে মা-বাবাও বের হয়ে এল। হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, আমার তরমুজ কোথায় রেখেছিস?
মিনমিন করে বললাম, তরমুজ তো স্যার খেয়ে ফেলেছি।
বলিস কী!

স্যার, আপনিই তো বললেন, বাড়ি নিয়ে যা। আমি তো বুঝিনি আপনার বাড়ির কথা বলেছেন!
স্যার প্রচণ্ড রেগে গেলেও আমার যুক্তির কাছে কিছু বলতেও পারলেন না। শুধু গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন। আরেকদিন সকালে ব্যাগভর্তি বাজার করে আমার হাতে দিয়ে বললেন, আমার বাড়িতে দিয়ে আয়।

আমার তো তখন একটাই চিন্তা, কীভাবে স্যারকে জব্দ করা যায়। বাজার নিয়ে হাঁটতে থাকলাম। একসময় একটা বড় পুকুরের ধারে এসে পড়লাম। তারপর ইচ্ছা করেই ব্যাগটা ফেলে দিলাম পুকুরের জলে। তারপর পুকুর থেকে কিছুটা কাদামাটি গায়ে মেখে স্যারের কাছে ফিরে গেলাম। সেদিন স্যারের ব্যাগের মধ্যে ছিল কই মাছ। স্যার পুকুর থেকে কিছু তরকারি উদ্ধার করতে পারলেও মাছ আর পেলেন না। এরপর থেকে স্যার তার কাছে আমাকে অন্তত ডাকেননি!

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com