এক লাফ দুই লাভ সংলাপ

অয়েজুল হক / ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫,২০২০

ইরম সাহেবের একমাত্র মেয়ে কিরণ ফকিরের গাঁজাখোর ছেলে হিরণের সঙ্গে ভেগে গেছে। কিছু একটা হচ্ছে। মেয়ের লাফালাফি দেখে ইরম সাহেব অনুমান করেছিলেন। কিন্তু লাফ যে লাভ সেটা বুঝতে পারেননি। লাভ লস যাই করুক ফকিরের ছেলের সঙ্গে! এটা মানতে পারছেন না ইরম সাহেব। কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসা, তারপর হাউমাউ করে কান্না অতঃপর মুখে যা আসে তাই বলা। বউ স্বামীকে সান্ত¡না দেন, যা হওয়ার হয়েই তো গেছে।

-তাই বলে ফকিরের ছেলে!
-ফকির বংশ, অরিজিনাল ফকির তো না।
-ধুর, বাজে কথা বাদ দাও। তোমার লাই পেয়েই আজ এ অবস্থা।
-হ্যাঁ, আর কিরণ ফকির যে তোমার বাল্য বন্ধু...।
-বন্ধু তো কী হয়েছে?
-তার দোহাই দিয়েই তো ছেলেটা আসত। এখন যত দোষ আমার..?
বউয়ের খিটখিটে মেজাজে থেমে যান ইরম সাহেব। তার বউ একটা বাজে মহিলা। কথাটা ভেতরে উঁকি দিলেও প্রকাশ করতে পারেন না। চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে নালিশ দেবেন। সে রাতে বালিশে মাথা না দিয়ে নালিশ নিয়ে ছুটে যান। চেয়ারম্যান সাহেব সবকিছু শুনে গম্ভীর ভাব নিয়ে বলেন, সংলাপের বিকল্প নেই। ইরম সাহেবের অবশ্য দ্বিমত নেই। সংলাপেই বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়। যদি তা চলমান থাকে। বছরের পর বছর বাস রেল গাড়ির মতো কিলবিল করে চলা। চেয়ারম্যান সাহেব কিরণ ফকিরকে ফোন দিতেই বলে, কার সঙ্গে কীসের সংলাপ? আমি কি রাজনীতি করি, না নেতা!
চেয়ারম্যান সাহেব নরম সুরে বলেন, কিরণ সংলাপে বরফ গলে।
-বরফ গললেই তো সমস্যা। টেলিভিশনে দেখেন না, এন্টার্কটিকায় বরফ গলছে, ডুবে যাবে দুনিয়া। উষ্ণ হবে পৃথিবী। মরবে মানুষ।
-সংলাপে আগুন নেভে।
-আবার ভুল বলেন স্যার। এই যে ক্যালিফোর্নিয়ায় আগুন জ্বলে। সংলাপ দিয়ে পারবেন নেভাতে!
চেয়ারম্যান সাহেব নিজেই এবার আগুন হয়ে যান। ধপ করে জ্বলে ওঠেন- এই ব্যাটা ছাগল, পাছায় বাড়ি পড়ার আগে ভালো হবি বলে মনে হয় না।
উল্টাপাল্টা কথা বলা কিরণ ফকির মুহূর্তেই বদলে যায়। বিনয়ী সুরে বলে, কী যে বলেন, আপনি হলেন আমাদের নেতা। আপনি যা বলেন তাই হবে।
কথা অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে দীর্ঘ সংলাপে ইরম সাহেব ও কিরণ ফকির সমঝোতায় পৌঁছে। দীর্ঘ সংলাপের পর চেয়ারম্যান সাহেব ঘটনার সুরাহা করেন। ছেলে ভালো হয়ে যাবে, বাড়ি ফিরে আসবে। মেয়ের নামে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যংকে রাখা হবে মর্মে কিরণ ফকিরের অঙ্গীকারনামা। সব মিটমাটের পর খোশগল্প পর্ব। গ্রুপ গ্রুপ গল্প। বাল্যবন্ধু ইরম আর কিরণ এখন বেয়াই। দুজনই স্ব স্ব জ্ঞান গরিমায় মহাপ-িত। ইরম সাহেব হাসি মাখা কণ্ঠে বলেন, বেয়াই, একটা জিনিস খেয়াল করেছ?
-কী?
-সবকিছুর পরও সংলাপের আবেদন কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। দিন দিন মানুষের চিন্তা-চেতনা বিকশিত হচ্ছে।
কিরণ ফকির চুপ হয়ে যান। বিকশিত শব্দটা তার কলিজায় আঘাত করে। একমাত্র ছেলেটা বিকশিত হয়েই তার মানসম্মান ডুবিয়েছে। সঙ্গে কড়ি কড়ি টাকা।
আবার কথা বলেন ইরম সাহেব- সামনের মাসে কিন্তু ডিজে পার্টি হবে।
-ডিজে পার্টি সে আবার কোন দল?
-ড্যান্স জাতীয় পার্টি।
-মানে!
-এজন্যই তো ফকির। তা তোমার বুদ্ধি কার কার কাছে বিক্রি করে ফকির হইলে! সামান্য জিনিস বোঝো না। ডি তে ড্যান্স, জে তে জাতীয়। পার্টি তো বুঝই।
-ডিজে পার্টি হবে?
-হ্যাঁ।
-জিতবে! কীভাবে, কবে?
-ইস, দুটো ঠ্যাং আর একটা লেজ থাকলে তোমাকে গাধা হিসাবে চালিয়ে দেওয়া যেত।
নতুন বেয়াই বলে চুপ করে যান কিরণ। মনে মনে ভাবেন, অপমান! ছেলেটাকে কোনোভাবে বাগে আনতে পারলে কোনো লাফ আর সংলাপে কাজ হবে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com