২২ বছরে হাবিপ্রবি

মিরাজুল আল মিশকাত / ২:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩,২০২০

করোনা শিক্ষার্থীদের ঘরে আটকে রেখেছে ঠিকই, তাই বলে কি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ কেড়ে নিতে পারবে? এর উত্তর খুঁজতে খুব বেশি কষ্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘুরলেই এর উত্তর মিলবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে ঘিরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফেসবুকে হাবিপ্রবির ছবি সৌরভ ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম সংগঠন হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক নির্মিত ডকুমেন্টারি হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে ঘিরে হাবিপ্রবি প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে।

১১ সেপ্টেম্বর ছিল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম জন্মদিন তথা হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। রংপুর বিভাগের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এটি। তেভাগা আন্দোলনের জনক ও দিনাজপুর অঞ্চলের জনদরদী কৃষকনেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে এই বিদ্যাপীঠের নামকরণ করা হয়। ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে হাবিপ্রবি। মাত্র একটি অনুষদ ও সামান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৪টি ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছে ৫টি একাডেমিক ভবন (একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণাধীন)। কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (এসি)সহ দুটি জামে মসজিদ। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্রধান প্রবেশপথ ও অত্যাধুনিক প্রশাসনিক ভবন। ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৫টি ছাত্র হল (একটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য) ও ৪টি ছাত্রী হল (একটি নির্মাণাধীন)।

প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন-১ এ পৃথক পৃথকভাবে রয়েছে আধুনিক সাজসজ্জা বিশিষ্ট দুটি ভিআইপি কনফারেন্স রুম, পাশাপাশি রয়েছে ৭০০ (নন এসি) ও ২৮০ আসন (এসি) বিশিষ্ট দুটি অডিটোরিয়াম। অতিথি আপ্যায়নের জন্য রয়েছে দুটি উন্নতমানের গেস্ট হাউস, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম কিংবা দিনাজপুরের মিনি চিড়িয়াখানা-খ্যাত উট পাখিসহ বিভিন্ন পশু-পাখির জন্য গবেষণা ফার্ম, যা দর্শনার্থীদের বিনোদনের খোরাক জোগায়।

ফিশারিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হ্যাচারি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রায় ১১ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য রয়েছে ৩১৪ জন উচ্চদক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষক, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় ২০০ জনের অধিক কর্মকর্তা এবং কয়েকশ’ কর্মচারী। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৪৫টি আবাসিক ইউনিট আছে, ক্যাম্পাসে আরও রয়েছে একটি শিশুপার্ক, পোস্ট অফিস, রূপালী ব্যাংক শাখা, মেঘনা ব্যাংক শাখা, শ্রমিক/আনসার ব্যারাক, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট (একাডেমিক কাজে) সুবিধা, নিজস্ব সার্বক্ষণিক বৈদ্যুতিক সুবিধাসহ পৃথক বৈদ্যুতিক লাইন ও সাবস্টেশন, বৃহৎ খেলার মাঠ, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।

বর্তমানে বড় বাস, মিনি বাস, এসি বাস, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপসহ প্রায় ৪০টি যানবাহন রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিআরটিসির বাসের অতিরিক্ত ট্রিপ হিসাবে করোনা পরবর্তি সময়ে যুক্ত হবার কথা রয়েছে। গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (আই.আর.টি.) সেন্টার। আরো আছে হাবিপ্রবি স্কুল, বার শয্যার একটি মেডিকেল সেন্টার, সঙ্গে বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারের বর্ধিতাংশের (পাঁচ তলা) কাজ শেষ পর্যায়ে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com