৮০ ভাগ সংক্রমণই করোনা লক্ষণ ছাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯:০৫ অপরাহ্ণ, মে ২২,২০২০

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে গত ৯ মে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরেন এক নারী পোশাক শ্রমিক (২৫)। এলাকাবাসীর চাপে তাকে ১০ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ১১ মে তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট ‘করোনা পজিটিভ’আসে। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মনি শংকর পাইক বলেন, ‘এই নারীর মধ্যে করোনার উপসর্গ ছিল না। যেহেতু চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন, তাই হাসপাতালে রেখে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তার শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ প্রকাশ পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংশ্লিষ্ট যে চিকিৎসা বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে, সে ধরনের কোনো চিকিৎসা তাকে দিতে হয়নি। তবে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অনেক সান্ত¡না দেওয়ার পর তিনি এখন খানিকটা মানসিক চাঙ্গা আছেন। ফলোআপ নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। নেগেটিভ হলে আরেকবার ফলোআপ নমুনা পাঠানো হবে। তাতে নেগেটিভ এলে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, সংক্রমিত বেশিরভাগেরই কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। এই সংখ্যা অন্তত ৮০ ভাগ বা তারও বেশি। এদের বলা হয় এসিমটোমেটিক (লক্ষণ-উপসর্গহীন)।’

তিনি বলেন, ‘উপসর্গ না থাকায় পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় নেই, কে সংক্রমিত আর কে সংক্রমিত না। ফলে সংক্রমিত ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ মনে করে যেখানে-সেখানে যাচ্ছেন। যিনি তার সংস্পর্শে আসছেন তিনি সংক্রমিত হচ্ছেন। সেই সংক্রমিত ব্যক্তির দ্বারা আবার অন্যরা সংক্রমিত হচ্ছেন। এভাবে একজন থেকে আরেকজনে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এদের সুপার স্প্রেডার বলা হয়।’

ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘কোনো কন্টাক্ট ট্রেসিং নেই। শনাক্ত করে আলাদা করার সেই সময়ও পেরিয়ে গেছে। লকডাউনও সেভাবে নেই। এখন যদি সবারই টেস্ট করা হয়, তাহলে দেখা যাবে বেশিরভাগই পজিটিভ।’

অল্প সংখ্যক যাদের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে তাদের হয়তো অন্য কোনো রোগের কারণে প্রকাশ পাচ্ছে বলে মনে করেন ঢামেকের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান।

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ আবার অন্যরকম লক্ষণ নিয়ে আসছেন। যেমন- বমি বমি ভাব, বমি, মুখে স্বাদ নেই, ডায়রিয়া, দুর্বলতা। পরীক্ষা করে এমন অনেককেই করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ যে ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকা দরকার তা নেই, এটাকে বলা হয় এটিপিক্যাল সিম্পটম।’

এমন হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একেক দেশের ভৌগোলিক-প্রাকৃতিক ভিন্নতার কারণে সেখানে ভাইরাসেরও সেখানে জিনগত পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে লক্ষণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যেহেতু সংক্রমিতদের মধ্যে বেশিরভাগের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না, তাই মহামারির এই সময়ে যে কেউই মারা গেলে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে হবে। যদি পরীক্ষা করার সুযোগ না থাকে, তাহলে করোনায় মৃতদের দাফনের মতো সাবধানতা অবলম্বন করে দাফন করা উচিত। কারণ আমরা তো জানি না, কার কোভিড পজিটিভ আর কার নেগেটিভ।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মহামারির সময় কাউকেই অসংক্রমিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। যতক্ষণ না পরীক্ষা করিয়ে নেগেটিভ পাওয়া যায়।’

করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘শনাক্তকরণের বিষয়ে জোর দিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি আরো বেশি বিস্তৃত করা প্রয়োজন।’

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com