‘খালেদা জিয়া মানসিকভাবে ভালো বোধ করছেন’  

তোফাজ্জল হোসেন / ১০:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬,২০২০

রাজধানীর গুলশান দুই নাম্বারে বাসভবনে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আপনারা তাকে দেখছেন। তিনি খুবই অসুস্থ। পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে এখন মানসিকভাবে ভালো বোধ করছেন।

 

খালেদা জিয়া গত বুধবার বিকেলে ছয় মাসের জন্য কারামুক্তি পান। তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে গুলশানে তার বাসভবন ‘ফিরোজা’য়  নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তির পরপর তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

 সবকিছু পর্যাবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে খালেদা জিয়াকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

খালেদা জিয়াকে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করা হয়, তখন সেখানে সাংবাদিক ও নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের কারণে মহামারি চলছে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে এই রোগটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সকলকে তিন ফুট ?দুরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ তা শোনেনি। এমনকি সংবাদিকরাও।

খালেদা জিয়া এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইনের সময় শেষে মেডিক্যাল টিম পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। তবে এখন অন্যান্য সমস্যার জন্য যে চিকিৎসা প্রয়োজন সেগুলো করা হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রফেসর ডাক্তার এফ.এফ. রহমান, প্রফেসর ডাক্তার রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডাক্তার আব্দুল কদ্দুস, প্রফেসর ডাক্তার হাবিবুর রহমান, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডাক্তার এ.জেড. এম. জাহিদ হোসেন এই ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

খালেদা জিয়া বাসায় যাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান সাক্ষাৎ করেন।

পরে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের জানান, আগামী কয়েক দিন নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

এদিকে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা তদারকির দায়িত্ব নিয়েছেন তার পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান। বর্তমানে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন জোবাইদা। সেখান থেকেই খালেদা জিয়ার যাবতীয় খোঁজ-খবর রাখবেন তিনি। সেই সঙ্গে চিকিৎসার বিষয়টিও তদারকি করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসা দিলেও তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার বিষয়ে সব ধরনের দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে। বোর্ডের চিকিৎসকরা তার সঙ্গে সমন্বয় করেই চিকিৎসা দেবেন।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, বাড়ি ফেরার পরে সে (খালেদা জিয়া) মানসিকভাবে ভালো থাকলেও সুস্থ নেই। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, হাত নাড়াতে পারে না। আপাতত বাড়িতে যতটা সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হবে। একটু সুস্থ হয়ে উঠলে তার পছন্দমত হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে। সেই পর্যন্ত চিকিৎসার যাবতীয় দেখভাল করবে জোবায়দা রহমান।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদ- হয়। পরে হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদ-ের আদেশ দেন।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com