লালমনিরহাটে ৮০ চিকিৎসকেই ভরসা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি / ৭:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬,২০২০

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় মাত্র ৮০ জন চিকিৎসকই ভরসা লালমনিরহাটে। নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং আশঙ্কাজনক রোগীর জন্য আইসিইউ। গতকাল বুধবার করোনা মোকাবিলায় লালমনিরহাটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায়।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায় বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যুদ্ধ করছেন বিশ্বের চিকিৎসকরা। দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। লালমনিরহাটে গতকাল বিকেল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৭৯ জনের মধ্যে ১৬ জন মেয়াদ শেষ করেছেন। তারা সবাই সুস্থ্য রয়েছেন।

জেলার পাঁচটি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভার মানুষদের করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৭৪৫ জন কর্মী। এর মধ্যে চিকিৎসক ৮০ ও নার্স ১৬০ জন। এছাড়াও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন ১৩৪ জন বিভিন্ন পদের স্টাফ, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী/পরিদর্শক ১৯৫ জন ও কমিউনিটি হেল্থ প্রোভাইডার ১৭৬ জন।

এসব কর্মীকে কয়েকটি স্তরে বিভাজন করে টিমওয়ার্ক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দহগ্রাম ১০ শয্যা হাসপাতাল ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের অতিরিক্ত রোগীর ভিড় সামলাতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে অস্থায়ী করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট শহরের জন্য রেলওয়ে হাসপাতালের ১৬টি বেড এবং সদর হাসপাতালের সাতটি এবং বাকি চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ৪-৫টি করে আইসোলেশন বেড বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে।

করোনা আক্রান্ত রোগী বিপদজনক পর্যায়ে গেলে তার সেবা প্রদান করতে আইসিইউ বেড প্রয়োজন হবে, যা এ জেলায় একটিও নেই। এমন পর্যায়ে গেলে সেই সব রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, করোনা রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসক টিমের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। মজুদ থাকা এসব সরঞ্জাম মাত্র দুইদিন ব্যবহার হলেই শেষ হবে। তৃতীয় দিনে সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে না এসব সরঞ্জামে। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে মন্ত্রণালয়ে জরুরি চাহিদা পাঠানো হচ্ছে। এছাড়াও রোগী পরিবহনে হালকা চাপ সামলানোর মত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে চাপ বেড়ে গেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন নেওয়া হবে।

সব তৈরি হলেও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম না পেলে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হবে। তাই দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদানে সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে সাহস ও ধৈর্য নিয়ে চিকিৎসা বিভাগকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

 

 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com