মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে...

আবু আফজাল সালেহ / ১:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১,২০২০

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এখানে আমাদের অহংকার মিশে আছে। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের আমের বাগানে। তখন এ জায়গার নাম ছিল বৈদ্যনাথতলা। ব্রিটিশ থেকে মুক্তিলাভের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুর মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছরে বাঙালি মুক্তিকামীদের বিভিন্ন আন্দোলন ও পাকিস্থান কর্তৃক শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস স্মরণ করে ২৩টি স্তম্ভ দিয়ে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বিখ্যাত স্থপতি তানভীর কবির এটির নকশা প্রণয়ন করেন। ২৩টি স্তম্ভের প্রথমটির উচ্চতা ৯ ফুট ৯ ইঞ্চি। যা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা বলে। এখানকার ১১টি সিঁড়ি যুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের কথা বলা হয়েছে। ৩ ফুট বেদিতে অসংখ্য পাথর রয়েছে; যা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের কথা স্মরণ করা হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণ করে লাল বেদি আছে সম্মুখভাগে।

এখানে মুজিবনগর কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে পরবর্তীকালে। কমপ্লেক্সের ভেতর বাংলাদেশের বিশাল এক মানচিত্র রয়েছে। মানচিত্রে এগারোটি সেক্টরের অবস্থান ও সংক্ষিপ্ত ঘটনা ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মানচিত্রের নিচে বঙ্গোপসাগরের ছবিও আছে। এখানে যুদ্ধের বিভিন্ন ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছে। মানচিত্রের চারপাশে উঁচু করে কয়েক ধাপে ‘করিডোর’ আছে।

আছে অনেক উঁচুতে বেশ কয়েকটি ‘ওয়াচ টাওয়ার’। উঁচু থেকে মানচিত্র দেখতে খুব ভালো লাগে। মুজিবনগরের বিভিন্ন স্থাপনা, আমবাগান, ফুলবাগান আর চারপাশের পরিবেশ দেখতে খুব ভালো লাগবে। আমবাগানের শেষে ভারত সীমান্তে যেতে পারবে। জিরো পয়েন্টে কিছু জিনিসপত্র, ভ্রমণস্মারক কেনা যায়।

কমপ্লেক্সের বাইরে পাকিস্তানি কর্তৃক শোষণ-নির্যাতনের, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ইতিহাস সৃষ্টিকারী অমর ভাষণ, পাকিস্তানি কর্তৃক বাংলাদেশের নারী নির্যাতন-অগ্নিসংযোগ, পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণের বিভিন্ন বিষয় ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আছে ফুলের বাগান, অফিস আদালত, সীমিত আকারের থাকার ব্যবস্থা। এখানে এলে ঘুরতে ঘুরতে বা দেখতে দেখতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগের ও পরের ইতিহাস অজান্তেই জানা হয়ে যাবে।

এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে একটি জাদুঘর আছে। বিভিন্ন চিত্র ও বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও শহীদদের ভাস্কর্য আছে এর ভেতর। মানচিত্রের দক্ষিণ দিকেই এ জাদুঘর। মুজিবনগর সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহের ‘আটকবর’। মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারের সহযোগিতায় আট বীর বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাক-পিশাচরা। আট শহীদের কবর ও যুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে একটা মিউজিয়ামও আছে।
abuafzalsaleh@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com