অনাহারে দিন কাটাচ্ছে মজিবরের পরিবার

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি / ৩:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬,২০২০

ঢাকা চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত মজিবর রহমান পরিবারে অভাব যেন এখন নিত্য সঙ্গী। চকবাজার ট্রাজেডির এক বছর পার হলেও তার পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য জোটেনি বলে জানান স্ত্রী মাসুমা বেগম। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীকে হারিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে মজিবরের স্ত্রী ও সন্তানরা। নিহত মজিবরের গ্রামের বাড়ি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে।

নিহতের গ্রামের বাড়ি সন্তোষপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী তার স্বামী, ছেলে তার পিতাকে হারিয়ে পরিবারের সবাই শোকে মাতম। স্বামীকে হারানো বছর পার হলেও এখনও বুক বেঁধে আছেন সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে। স্ত্রী মাসুমা বেগম সাত বছরের পুত্র সন্তান সাকিবকে কোলে নিয়ে কান্নাকাটি করছেন।

দুই মেয়ে ডালিম ও মাকসুদা আক্তার মায়ের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পরে। তাদের সংসারে সুমন ও মামুন নামে আরও দুই ছেলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে বেছে নিয়েছে কর্মজীবন। বড় ছেলে সুমন বর্তমানে ওই চকবাজারে জুতা বানানোর একটি ক্যামিকেলের দোকানে ও মামুন একটি পলিথিনের কারখানায় চাকরি করে। যত সামান্য আয় দিয়ে ৬ জনের সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের।

নিহতের স্ত্রী মাসুমা বেগম জানান, গত বছর এই দিনে আমার স্বামী মজিবর রহমান ঢাকায় চক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে সমস্ত শরীর পুড়ে গিয়ে মারা যায়। পরের দিন খবর পেয়ে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল থেকে নিয়ে এসে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। ওই সময় সরকার থেকে এক লক্ষ টাকা প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে কোন আর্থিক সহায়তা পাইনি।

লাশ আনার সময় বিশ হাজার টাকা খরচ বাবদ আমার ভাসুরের কাছে দিয়েছিল এছাড়া আমরা আর কোন সরকারি সহায়তা পাইনি। এখন ছেলে-সন্তান নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লেখাপড়া বাদ দিয়ে দুই ছেলেকে দিতে হচ্ছে শ্রমিকের কাজে।

এদিকে ওই দিন আরও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন কাজী এনামুল হক অভি। তার গ্রামের বাড়ি ওই ইউনিয়নে রামপুর গ্রামে। সে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে বিবিএ পাশ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়া। বাবা-মাকে সে প্রায়ই বলত দেখ তোমাদের ছেলে একদিন বড় অফিসার পদে চাকরি করবে। কিন্তু সব স্বপ্ন গত বছর ওই রাতে ঢাকা চকবাজার ট্রাজেডির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে ভাতিজা জুলহাস কাজীর সঙ্গে শেষ দেখা করে দাঁতের চিকিৎসা করানোর জন্য চকবাজার গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরের দিন সকালে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে চাচাতো ভাইয়ের ছেলে রাজিব কাজী এনামুল হক অভির লাশ শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাদের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com