পাইকগাছার কাঁকড়া ও কুঁচে শিল্পে আকষ্মিক ছন্দপতন

শেখ নাদীর শাহ্, পাইকগাছা / ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩,২০২০

চীনের নভেল করোনা ভাইরাসে সেদেশে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কয়েক হাজার কাঁকড়া ও কুঁচে চাষীসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

উৎপাদনের এ ভরা মৌসুমে রপ্তানি বন্ধ থাকায় রীতিমত অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। প্রতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়ার চাহিদা ও দাম বেশী থাকায় সারা বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট চাষীরা খামারে কাঁকড়া মজুদ করে রাখেন। তবে চলতি বছর চাহিদার মৌসুমে আকষ্মিক চীনে করোনা ভাইরাস মহামারী রুপ নেওয়ায় চীনের সাথে আমদানী রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। যার কবলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় কাঁকড়া ও কুঁচে শিল্প। ফলে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এর সাথে জড়িতরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস আক্রমনের ফলে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি হচ্ছে না কাঁকড়া ও কুঁচে। ফলে কাঁকড়া ও কুঁচে আহরণ থেকে শুরু করে চাষী ও ব্যবসায়ীরা রীতিমত বিপাকে পড়েছেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, পাইকগাছার কুঁচে ও কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে আটকে গেছে কয়েক কোটি টাকা। একদিকে ব্যবসা বন্ধ, অন্যদিকে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিপো মালিকরা। অন্যদিকে মজুদকৃত কাঁকড়া-কুঁচে বিক্রি করতে না পারায় চরম হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত চীনের বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার তৈরী করতে না পারলে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে সম্ভাবনাময় কাঁকড়া ও কুঁচে শিল্পে।

জানা গেছে, দেশের উৎপাদিত কুঁচে ও কাঁকড়ার ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় চীন। বাকি ১০ শতাংশ রপ্তানি হয়, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে। আর উৎপাদিত কাঁকড়া ও কুঁচের সিংহভাগ উৎপাদন হয় সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায়।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি বন্ধ থাকায় আহরিত কুঁচে ও কাঁকড়া মরে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এদিকে ব্যবসা বন্ধ থাকায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পাওনা দিতে না পারছে না আড়ৎদাররা। সর্বপরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি করতে না পারায় সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাইকগাছা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লি: এর সভাপতি দেবব্রত দাশ দেবু বলেন, চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি না হলে পুঁজি হারিয়ে বেকার হবে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ছাড়া অন্য দেশে বাংলাদেশী কাঁকড়া ও কুঁচের নতুন বাজার সৃষ্টি জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশ জানান, পাইকগাছা উপজেলাতে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়, তার অধিকাংশ ঘেরেই কাঁকড়া পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রায় ২ শ’ হেক্টর জমিতে আলাদাভাবে কাঁকড়ার চাষ হয়। তবে দিন দিন কাঁকড়া চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, চলতি মৌসুমে পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্দ্ধারণ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ করোনা ভাইরাসের বিরুপ প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে চীনের বাইরে আন্তর্জাতিক আলাদা বা বিকল্প বাজার তৈরীতে সরকার কোন চিন্তা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মূলত সরকারের বানিজ্য মন্ত্রনালয় নির্দ্ধারণ করেন। সেটা সরকারের ব্যাপার। তবে এই মূহুর্তে তাদের কাছে কোন খবর নেই।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com