হারিয়ে যাচ্ছে পাখি

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান / ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪,২০২০

প্রকৃতি, পরিবেশ, বন তৈরি ও সম্প্রসারণের জন্য পাখি অপরিহার্য। পাখির বিকল্প নেই। পাখির অনুপস্থিতি যেখানে সেই প্রকৃতি মৃতপ্রায়। পাখির কিচিরমিচির ডাক, বৈচিত্র্যময় জীবন কার না পছন্দ। বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। সে কারণে এক সময় এ দেশে প্রচুর পাখি ছিল। কারণ এ রকম আবহাওয়া পাখির বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বিপদের আগাম বার্তা হলো, প্রকৃতিতে আগের মতো পাখি নেই। অসংখ্য পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। গত ১৫ বছরে অন্য প্রাণীর তুলনায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির হার সবচেয়ে বেশি। ৫৬৬ প্রজাতির পাখি ছিল। এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২০১৪-২০১৫ এর বন ও পরিবেশ বিভাগের তালিকায় এ তথ্য রয়েছে।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখির মধ্যে আছে দাগিডানা, সারল, ধূসর মেটে তিতির, বালিহাঁস, গোলাপি হাঁস, বড় হাড়গিলা, ধলাপেট বক, সাদাফোঁটা গগন রেড, রাজ শকুন, দাগি বুক টিয়াঠুঁটি, লাল মাথা টিয়াঠুঁটি, গাছ আচড়া, সবুজ ময়ূর ইত্যাদি। যে পাখিগুলো আগে খুব দেখা যেত। এখন কম দেখা যায় সেগুলো হলো দোয়েল, টিয়া, ময়না, বুলবুলি, চড়াই, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, কাঠঠোকরা, মাছরাঙ্গা, কোকিল, চন্দনা, সাদা বক, কালিম, ডানা ঘুরানি, বউ কথা কও, বাবুই ইত্যাদি।

প্রতিকূলতার মাঝেও সামান্য বন্য পাখি টিকে আছে। তবে তাও কতদিন থাকবে বলা মুশকিল। অসাধু মানুষ বন্য পাখি ধরছে। হাটবাজারে বন্য পাখি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর-১, কাফরুল, টঙ্গী হাটে প্রকাশ্যে বন্য পাখি বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রশাসন নীরব।

বন্যপাখি কখনই পোষ মানে না। ডিম বাচ্চা করবে না। পুষতে হলে বাজেরিগার, লাভ বার্ড, ফিঞ্চ ইত্যাদি বিদেশি পাখি খাঁচায় পোষা যেতে পারে। এসব পাখি খাঁচায় পোষা অপরাধ নয়। খাঁচায় থাকতে এরা পছন্দ করে। খাঁচায়ই এরা ডিম দেয়, বাচ্চা করে। এ পাখিগুলো আবার সহজলভ্য।

পাখি বন তৈরি করে। পাখি না থাকলে বন থাকবে না বলে জানান প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। গাছের বীজ নিয়ে পাখি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে। যেটা পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ পারে না। পাখির ফেলে দেওয়া বীজ থেকে হয় গাছ। গাছের পাতা খেয়ে থাকে পোকামাকড়। আবার পোকামাকড় খেয়ে গাছের পাতাকে রক্ষা করে পাখি। গাছের পাতায় গাছ খাদ্য তৈরি করে।

সৈয়দপুরের সেতুবন্ধনসহ কিছু সংগঠন রয়েছে। যারা গাছে কলস বা হাঁড়ি বেঁধে দেওয়ার কাজ করছে। যাতে পাখি নিরাপদে ডিম, বাচ্চা করতে পারে। এটা মহৎ উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বনের পাখি গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ এক সময় হারিয়ে যাচ্ছিল। সংখ্যা কমে গিয়েছিল খুব। তখন তারা দুটি পদ্ধতিতে পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচায়। এক. অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা। পাখির জন্য বাসা গাছে বেঁধে দেওয়া। দুই. বনের পাখিকে খাঁচার পাখিতে নিয়ে আসা। এ জন্য বিভিন্ন ধাপে ধাপে তারা কাজ করে। বাংলাদেশে এ দুটি পদ্ধতিই করা সম্ভব।

এ দেশে খাঁচা পাখির অনেক বড় বড় ব্রিডার আছেন। সরকার তাদের দায়িত্ব দিতে পারে। বিলুপ্তপ্রায় পাখিকে খাঁচায় ব্র্রিড (ডিম, বাচ্চা) করানোর। অন্যদিকে অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে হবে। গাছ লাগানোর কথা যুগ যুগ ধরে বলা হচ্ছে। হাজারো উদ্যোগ। কিন্তু বনভূমির পরিমাণ বাড়ছে না। গাছের সংখ্যা দিন দিন কমেই যাচ্ছে। অন্ধ আবেগ নয়। বাস্তবতা মাথায় রেখে বনের পাখি বাঁচাতে হবে। যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : বন, পরিবেশ ও পাখিবিষয়ক লেখক
safiq69@gmail.com

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com