তুফানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

বগুড়া প্রতিনিধি / ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৯,২০১৯

বগুড়ায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে বিচারের নামে মা-সহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনার মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিক শুনানির পর এ আদেশ দেন। চার্জশিট দাখিলের দু’বছর পর এই অভিযোগ গঠন করা হলো। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন আদালতের এপিপি আসলাম আঙ্গুর।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন- পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, তুফান সরকারের স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, শাশুড়ি লাভলি রহমান রুমি, আত্মীয় আঞ্জুয়ারা বেগম, তুফানের ক্যাডার মেহেদী হাসান রূপম, সামিউল হক শিমুল, আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজম দিপু, এমারত আলম খান ওরফে জিতু মিয়া ও নাপিত জীবন রবি দাস যতীন। তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এ মামলা থেকে।

২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এসএসসি পাস করা ওই কিশোরীকে (১৭) ভালো কলেজে ভর্তির কথা বলে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর চামড়া গুদাম লেনের বাড়িতে নিয়ে যান তুফান। তাকে সেখানে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর কিশোরীকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়ানো হয়। ঘটনাটি তুফানের স্ত্রী আশা জানতে পারলে তিনি তার বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা ওই কিশোরী ও তার মাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন।

পরে ২৮ জুলাই আশার নির্দেশে আসামি মুন্না, আতিক, দিপু, রুপম ও শিমুলের সহযোগিতায় মা ও মেয়েকে তুলে নিয়ে রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে আনা হয়। এরপর মা ও মেয়েকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। আশা ও রুমকির নির্দেশে ক্যাডাররা কিশোরীর পুনরায় শ্লীলতাহানি করে। নির্যাতনের পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। এরপর নাপিত যতীনকে ডেকে এনে কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। সব শেষে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়া শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। তুফানকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার ও কাউন্সিলর রুমকিকে পৌরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে একজনকে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে। ১২ জনের মধ্যে শুরু থেকেই আসামি আঞ্জুয়ারা বেগম পলাতক রয়েছেন। ধর্ষণ মামলায় তুফান সরকার ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া সংক্রান্ত দ-বিধির মামলায় শিমুল জেলে রয়েছেন। শিমুল ৭ নভেম্বর জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করেন। জামিনে রয়েছেন অন্য ১০ জন।

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com