ব্যালাড অব এ সোলজার

শাহীন রহমান / ১:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭,২০১৯

সৈনিকতা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মহত্তম পেশাগুলোর একটি। কারণ একজন সৈনিক শুধু তার নিজের নয়, জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী।

একজন আদর্শনিষ্ঠ সৈনিক যে কতটা মানবিক বোধ ও অনুভূতিসম্পন্ন, সজীব, প্রাণোচ্ছল হতে পারে তার প্রকৃষ্ট রূপায়ন দেখা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত রাশিয়ান চলচ্চিত্র ব্যালাড অব এ সোলজার-এ। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সমাজে একজন ১৯ বছর বয়সী সাধারণ সৈনিকের জীবনের কয়েক দিনের ঘটনা নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালে।

গিওর্গি চুখারাই পরিচালিত ব্যালাড অব এ সোলজার চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নে নয় সারা পৃথিবীতে সারা ফেলে। দর্শকরা পেয়ে যায় চলচ্চিত্র মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার অনবদ্য এক সৃষ্টি। এই সৃষ্টি যাকে ঘিরে তার নাম আলিউশা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার নতুন সমাজের লাখ লাখ তরুণ প্রাণের প্রতিনিধি গিওর্গি চুখারায়ের এই আলিউশা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় কাহিনী আবর্তিত হলেও ৮৯ মিনিটের এই সিনেমাটির কেন্দ্রীয় বিষয়টি হলো চিরকালীন মানবীয় সুখ, দুঃখ, প্রেম, বাৎসল্যের অনুভূতি। এ কারণেই এটি আমাদের চারপাশের খুব সাধারণ মানুষের জীবনের অসাধারণ শিল্পীত প্রকাশ।

শুরুতেই আমরা দেখতে পায় আলিউশার মা গ্রামের একমাত্র রাস্তায় (যে রাস্তাটি গিয়ে মিশেছে বড় রাস্তাতে; যে রাস্তা ধরে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়) দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে দিগন্ত রেখার দিকে অপলকে চেয়ে আছে। প্রতীক্ষা করে আছে কখন সে পথ ধরে আবার তার ছেলে ফিরে আসবে? কিন্তু মায়ের প্রিয় ছেলে আলিউশা আর ফিরে আসে না।

মা ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায়, আর ক্যামেরা চলতে থাকে গ্রামের চলমান পথ ধরে; নেপথ্যে কণ্ঠস্বর বলতে থাকে সদ্য কৈশোর পেরুনো পরিচিত এক সৈনিকের জীবনগাথা। ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করতে করতে নাৎসি বাহিনীর ট্যাঙ্কের সামনে একা পড়ে যায় আলিউশা। জীবন বাঁচাতে পেছনে ছুটতে থাকে, ট্যাঙ্ক তার পিছু ধাওয়া করে। একসময় বাঙ্কারে পড়ে যায় সে। মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মাথা সক্রিয় হয়ে ওঠে তার। পাশে পড়ে থাকা মর্টার থেকে সেল নিক্ষেপ করে ট্যাঙ্কের নিচের জোড়ায়। থামিয়ে দেয় নাৎসি বাহিনীর যন্ত্রদানবকে।

এভাবে ধ্বংস করে আরেকটি ট্যাঙ্ক। যুদ্ধের ময়দানে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও থামে না তার কৈশোরের চপলতা, সরলতা। এই ঘটনা আলিউশার সৈনিক জীবনের বড় এক প্রাপ্তি। তাকে বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়। বাড়তি পাওনা হিসেবে মায়ের সঙ্গে দেখা করার এক সপ্তাহের ছুটি পায়। ফ্রন্ট থেকে শত শত মাইল দূরের গ্রামে একা বাস করা মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য শুরু হয় আলিউশার যাত্রা।

দীর্ঘ এই যাত্রাপথে গতিশীল কাহিনীর মধ্য দিয়ে বলশেভিক বিপ্লোবোত্তর সোভিয়েত রাশিয়ার জাগরিত সমাজ এবং নাৎসিদের আগ্রাসী যুদ্ধে বিধ্বস্ত জীবনের কোলাজ খণ্ড, খণ্ডভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধে সদ্য পা হারানো যুবক যে তার স্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসে, উদ্বাস্তু মেয়ে সুরা, ইউক্রেনীয় পরিবারের ফুলের মতো তরুণীটি- সবার কাহিনীর মধ্য দিয়ে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রূপান্তরিত একটি সমাজের মানুষের অসম্ভব মনোবল, ধৈর্য্য, সাহস, বীরত্ব ফুটে ওঠে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
উপদেষ্টা সম্পাদক : মোশতাক আহমেদ রুহী

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: kholakagojnews7@gmail.com
            kholakagojadvt@gmail.com