ডেঙ্গু জ্বরের পাঁচালী

শ্রীমহেশ্চন্দ্র দাস / ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩,২০১৯

সংগ্রহ ও ভূমিকা: কাজল রশীদ শাহীন
ডেঙ্গুর দিনগুলোতে, ডেঙ্গুর আগমন-বিস্তার কখন কীভাবে হলো, আলোচনা যখন সর্বজনে, তখন সন্ধান মিলেছে কৌতূহলোদ্দীপক একটি বইয়ের। এরই মধ্যে প্রায় সবাই অবগত হয়েছেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার একদা আক্রান্ত হয়েছিলেন ডেঙ্গু জ্বরে। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন বারো। প্রশান্তকুমার পাল আমাদের আরও জানাচ্ছেন, সেই সময় ডেঙ্গুর প্রতাপ কলকাতা ও তার আশপাশে বেড়ে যাওয়ায় ঠাকুর পরিবারকে জোড়াসাঁকো ছেড়ে উঠতে হয়েছিল পানিহাটির বাগান বাড়িতে।
ডেঙ্গুর প্রতাপ সেই সময় বাস্তবিকই যে বেড়ে যায় আমাদের সংগ্রহে আসা ১৪৭ বছরের পুরনো ছোট্ট একটি পুস্তিকা, হাজির করেছে সেই সাক্ষ্য। পুঁথির ভঙ্গিতে লেখা বইটির মধ্যে জারি রয়েছে ডেঙ্গুর লোমহর্ষক বাস্তবতা। ‘ডেঙ্গু জ্বরের পাঁচালী’ প্রণীত শ্রীমহেশ্চন্দ্র দাস। বঙ্গাব্দ ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে পুঁথিটি প্রকাশ করেছে আই, সি, চন্দ্র এ- ব্রাদার। মুদ্রাকর শ্রী অধর চন্দ্র চক্রবর্ত্তী। মূল্য এক আনা।
ব্রিটিশ লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত বইটির একটি তথ্য দাবি রাখে সবিশেষ চিন্তার। বর্তমানের ডেঙ্গুতে মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী আক্রান্তের খবর এখনো অজ্ঞাত। কিন্তু পুঁথিটিতে উল্লেখ রয়েছে, গরু, ঘোড়া মরার খবর। ‘কত মরে গরু ঘোড়া, ভাসছে সব যোড়া যোড়া, পশু পক্ষ আদি কোরে। ওগো শত শত নর, গেল যম ঘর, মহেশ্চন্দ্র দাসে বলে॥’
বইটির অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘বলে ভাই একি কাণ্ড জগৎ যুড়ে হোল। কেহ কেহ ব্ল্যাক ফিবরেতে প্রাণে মলো॥’ ‘মন্দকর্ম্ম কল্লে পরে, ডেঙ্গু ধরিবে তাহারে’ ১৮৭২ সালে প্রকাশিত বইটিতে যে বানানরীতি রয়েছে, আমরা সেটাই রেখেছি অচেনা, অজানা লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনার্থে।
ঋণ : আরস্তু খান লেনিন ও আরিফুর
রহমান আরিফ।

এবার পৃথিবী গেল রসাতলে। ধরণী কেবল ভাসছে জলে॥ ওগো অকস্মাৎ বিধি, দিলেন কি ব্যাধি, মরিতেছে ডেঙ্গু জ্বরানলে। কত মরে গরু ঘোড়া, ভাসছে সব যোড়া যোড়া, পশু পক্ষ আদি কোরে। ওগো শত শত নর, গেল যমঘর, মহেশ্চন্দ্র চন্দ্র দাসে বলে॥

হেরি ঘোর কলিকাল, হর্ষ কলি মহীপাল, সংবাদ জানাচ্ছে সহোরেতে। বলে শুন সব প্রজাগণ, করি এই বিজ্ঞাপন, জানাই সকলের নিকটেতে॥ যে করিবে ধর্ম্ম ভয়, তার দুঃখ অতিশয়, এই দণ্ডে দণ্ড দিব তার। কিবা রাজা, কিবা প্রজা, সকলে পাইবে সাজা, এই আইন করিনু প্রচার। এত বলি ধ্বজা নিয়ে, দিল রাজা উড়াইয়ে, কলির রাজ্যেতে ডঙ্কা হয়। কিবা নর কিবা নারী, কিবা ছুঁড়ি কিবা বুড়ি, সকলেতে আনন্দ হৃদয়॥ হেরিয়া কলির ধ্বজা, সকলেতে কচ্ছে মজা, ধর্ম্ব কর্ম্ব সব ভুলে যাচ্ছে। জাতি ভেদ নাহি কার, সব করে একাকার, এক সানকে অন্ন সবে খাচ্ছে॥ চাপিয়া চৌঘুড়ী গাড়ি, কেহ উইলসনের বাড়ি, খানা খাচ্ছেন বসি চেয়ার পেতে।

নাহি কিছু বাছে তার, বিফ খাচ্ছেন চমৎকার, ডিসে রাখি করিয়া কাঁটাতে॥ কালির ইয়ং বেঙ্গল, নাহি মানের কালা-কাল, স্কুলেতে পড়ি পাতদুই তিন বই। নাহি মানে ধর্ম্মভয়, ইংরাজিতে কথা কয়, পিসিকে বলেন, রসমই॥ মামাকে বলেন দাদা, প্রাণটা যখন হয় সাদা, কত রঙ্গের কথা তখন হয়। মুখে সদা করেন নুট, খান সদা বিস্কুট, ইয়ার পেলে আনন্দ হৃদয়॥ কলির রাজ্য এইরূপ, ঘটে অঘটন রূপ, হেরি কলি প্রফুল্ল অন্তর। অশ্বোপরে আরোহণ, কলিরাজা হর্ষ মন, মৃগয়াতে চলে একেশ্বর।

হেন কালের ধর্ম্মরাজ, ধরিয়া গো-রূপ সাজ, রাজপথে দা-াইয়া রয়। কলিরাজা ততক্ষণ, ধর্ম্মে কহে বিবরণ, হাসি হাসি ধর্ম্ম প্রতি কয়॥ কহ ধর্ম্ম মহারাজ এখন কেন হেন সাজ, অতিশয় দরিদ্রের বেশ। নাহি আর সে সব বল, খাচ্ছো এখন লোনা জল, শরীর এখন অস্তিময় শেষ॥ ধর্ম্ম কন কলিরাজ, নাহি কিছু বাস লাজ, তিনযুগ রাজ্য আমি করি। এখন হয়েছে শেষ দশা, এজন্য এখানে বসা, কিন্তু সকলেরে তুচ্ছ করি॥ যদি আমি করি মনে, গিয়া মরুত ভুবনে, সকলেরে হরিমন্ত্র দিব। তোমার রাজ্য ডুবাব জলে, হরিমন্ত্র দিব বলে, তবে আমি ধর্ম্ম নাম ধরিব॥ তোমাতে আমাতে কলিরায়, অনেক তফাৎ হব প্রায়, মনে বুঝে দেখহ এক্ষণে॥

তুমি সালিক আমি শুক, তুমি চরণ আমি মুখ, তুমি চণ্ডাল আমি নৃপবর। আমি সিংহ তুমি গাধা কি কহিব কলি দাদা, এক খেদে খেদিত অন্তর॥ তোমার এখন অধিকার, নাহিক এখন আমার ভার, তবু সবে মান্য করে মোরে। চারিযুগ আমার মান্য, সকলের কাছে ধন্য বৃদ্ধলোকে মান্যমান করে॥ কলি বলে নবডঙ্কা, এখন তোমার নাহি শঙ্কা, যাহো দেখি মরুতভূমে একবার। দেখি কেমন ধর্ম্মরায়, মান্য করে নরে তোমায়, ফিরে আসা হবে তব ভার॥ এইরূপ দুইজন, করি কথোপকথন, ধর্ম্ম হয়ে বৃদ্ধক ব্রাক্ষণ। হস্তে করি আশাবাড়ী, চলিলেন তাড়াতাড়ি, মরুত ভুবনে ততক্ষণ॥ প্রথমেতে ধর্ম্মরায়, এক জমিদারেরর গৃহে যায়, হরিনাম করি বীনায় তান। শুদ্ধসত্ত হয়ে মন, ধর্ম্বরাজ ততক্ষণ, শ্রীহরি নামের গীত গায়॥
রাগিনী আলিয়া। তাল জৎ।

মন ভাব সেই কমলাকান্তেরে। ভব পারে যেতে হবে, সঙ্গে কেহ নাহি যাবে, সব পড়ে রবে, মাটির দেহ মাটি হবে পরে॥ দারা সুত যত, বন্ধু আর বান্ধব, কেহ কারু নয় মনেতে ভাব, নয়ন মুদিলে হইবে শব সার করে সেই শ্রীচরণরে॥

সেই জমিদার হন খ্রীষ্টান, নাহি তার ধর্ম্মজ্ঞান হরিনাম শুনে অঙ্গ জ্বলে। বলে কোথাকার তুই বিটলে বামন, দুখুরবেলা এলি এখন, এত বলি মারিবারে চলে॥ পায়ে তথা অপমান, ধর্ম্মরাজ অন্তর্ধ্যান, অন্য গৃহে যান ভিক্ষা আশে। ঘরে ঘরে মুরগী জবাই, জবাইগৃহ নাহিক কামাই, হেরি ধর্ম্ম পলান তরাসে॥ হেনকালে যত ছেলে, ধর্ম্মে মাচ্ছে ইট ফেলে, কেহ দিচ্ছে ধুলা গায়ে তার। কেহ ঝুলি ধরে টানে, ধুলা দেয় কোনজনে, কেহ বলে বামন পলারে এবার॥ হেরি ধর্ম্ম এরূপ আচার, বলে কলির এই ব্যবহার, মিছে আর কেন ঘুরে মরি। যে খাইলাম আমি মার, অন্য হলে যেত যমদ্বার, ধর্ম্ম বোলে তাই আমি তরি॥ ভাবিতে ভাবিতে ধর্ম্ম, শরীরেতে বহে ঘর্ম্ম, মহাক্রোধ উপস্থিত হয়। সেই ধর্ম্ম পড়ি ভূমে, জন্মিল একদৈত্য ক্রমে, তিন মাথা ছয় চক্ষু তায়॥ ধর্ম্মের নিকটে কয়, কি করিব মহাশয়, কি কারণে সৃজিলে আমারে॥ পৃথিবী দিব রসাতল, কিবা সাগরের জল, গণ্ডুষেতে খাব একে বারে॥

শুনি ধর্ম্ম কন কথা, রাখহো মম বারতা, মরুতভূমে করহ গমন। তব নাম ডেঙ্গু জ্বর, রাখিলাম অতঃপর, শুন ওহে জ্বর বিচক্ষণ॥ এক নাম হলো ব্লাক ফিবর, যাহ যথায় কলির নর, অঙ্গ চাপি ধর একবারে। চব্বিশ ঘণ্টা অধিকার, লবে তারে যমদ্বার, যেন, ডাক্তার বৈদ্য কিছু কোর্ত্তে নারে॥ শুনি জ্বর হর্ষমতি, চলিলেন শীঘ্রগতি, পৃথিবীতে প্রবেশ করিল। অঙ্গে আসি চেপে পড়ে, নড়িতে চড়িতে নারে, কম্প শীত তাহারে ধরিল॥ হাত পা বেদনা হয়, জল দাও জল দাও কয়, মুখ বেতার হয় বিলক্ষণ। অম্বলেতে হয় রুচি, সদাই থাকেন অশুচি কেহ বলেন দেহ আস্রর মোরে। যতক্ষণ বেঁচে রই, পাকা অস্রর খেয়ে লই, কখন যাইব যমঘরে॥ বড় মানুষ আছে যারা, ডাক্তার, বৈদ্য আনে তারা, ডাক্তারবাবু আগে টিপেন হাত। জীব মেল একবার হেরি জিহ্বা কি প্রকার, জিহ্বা দেখি ভাবেন পশ্চাৎ লিখে ঔষধ তদন্তর, বলে ফি দেও আমার অতঃপর, বিলম্ব নাহিক সয় আর। বলি টাকা লয়ে হাতে, রাখিয়া উল্ট ট্যাকেতে, গতি করেন পবন সঞ্চার বৈদ্যেতে চিকিৎসা করে, আগে নাড়ি দেখি পরে, আদা পানের সত্ত দেন তায়। দেন অষ্টাদশন বিধি বলে ইহার হবে বিধি, বলে দাস্ত হোলে ভাল প্রায়॥

‘কত শত ইংরাজেরে, ধোচ্ছে সব ডেঙ্গু জ্বরে, ব্লাক ফিবরে মরে কোন জন। সহোরেতে হাহাকার, মুখে বাক্য নাহি কার, গড়াগড়ি পাড়ে জনে জন। কেহ পঙ্গু বাত জ্বরে, পড়ি সব ঘরে ঘরে, ইচ্ছা করে খেতে তরমুজ সসা। কত্তা যারা বিচক্ষণ, করি তারা নিবারণ, খেতে দেয় খই আর বাতাসা॥ কেহ অজ্ঞান হয়ে রয়, ডাকিলে না কথা কয়, দেখি পিতা মাতা ভাবে মনে। স্মরণ কচ্ছে বোলে হরি, বলে এই দায়ে তেতরি, ক্ষমা কর আমারনন্দনে॥ ডেঙ্গু জ্বরে কাতর হয়ে পড়িয়াছে শয্যালয়ে, অঙ্গ হয়েছে কালির বরণ॥

মুখে বলছে গেলেম গেলেম, এইবার বুঝি প্রাণে মলেম, আর বাঁচনেতে কিবা সুখ। যদি অনুকূল হয়ে কাল, লয়ে যান ধরে কাল, কালাকাল হোলে ঘুচে দুঃখ॥ এইরূপ পরস্পর, ডেঙ্গুতে হয়ে কাতর হাহাকার কচ্ছে সকলেতে। হাম হয়েছে চমৎকার কাল কাল গাত্রে কার, লাল মনোহর কার গায়েতে॥ হেরি এরূপ পিকবর, ভ্রমিতেছে পরস্পর, হাহাকার হোচ্ছে সর্ব্বস্থান। নাহি সেরূপ কলরব, নিরবে রয়েছে সব, শব প্রায় হয়ে আছে প্রাণ॥ নবীনা নামে বিরহিনী, সবলে আছেন তিনি, ডেঙ্গুতে তার কিছু কর্ত্তে নারে। সবাকারে দেয় প্রবোধ, বলে মলো কি আপদ, এখনকার লোক তিলে তাল করে॥ ওলো প্রবীণা শুয়ে কেন, মৃত্যু প্রায় আছিস যেন, আমারতো ভাই ধরেছিল জ্বর। কবিরাজ ডাক্তার দেখাই নাই, দিবা নিশি বেড়িয়ে বেড়াই, পলাল জ্বর তিন দিনের পর॥ এখন গায়ে এম্নি হয়েছে বল, পৃথিবী দিতে পারি রসাতল, তলাতল একদিনে ভ্রমণ করি। যদি আমি পাখা পেতেম, চন্দ্র সূর্য্য ধরে আনিতেন, পাখা নাই তাই ঐ দুঃখে মরি॥

প্রবীণা কয় ওরে বাছা, এখন তোদের বয়েস কাঁচা, জল চিবিয়ে খাস এখন তোরা মানিস্নাকো কোন পথ, যেন ঐরাবত, প্রবীণ হয়েছি এখন মোরা॥ কখন ঘোনাবে কাল, না মানিবে কালাকাল, কেশে ধরি লয়ে নিজালয় আছি গঙ্গার মড়া হয়ে, দাহ কোল্লেই যায় ফুরায়ে, এ দুঃখ নির্ব্বাণ তখন হয়॥ বল দেখিলো ও নবীনে বেড়িয়ে এলি সর্ব্বস্থানে, কোনখানে দেখ্লিলো আমোদ। ঘুরে এলি পাড়া পাড়া, গীত বাদ্যের দেখ্লি সাড়া, কোথায় কিবা হয়েছে প্রমোদ। নবীনা কহে ওগো দিদি, সর্ব্বস্থানে ঘটেছে ব্যাধি, নিরবে রয়েছে সর্ব্বজন। ঘুরে এনু পাড়া পাড়া, কার মুখে নাহি সাড়া, ঘটিয়াছে এই অঘটন॥ কোন দেবতা দিয়াছে শাপ, তাতে পাই মনস্তাপ, এ রোগ হয়েছে জগৎ যুড়ে।

ছুঁড়ি বুড়ি নাহি বাচে সবার অঙ্গে জ্বর ঢুকেছে, সকলে মরছি জ্বরে পুড়ে কিন্তু তিন দিনের জ্বর যার অঙ্গে এসে, ছমাস তিনি থাকেন বসে, পথ হাঁট্তে তিনি হন কাতর। যষ্টি হস্তে ভর করে, চোলে যান ধীরে ধীরে, ধরে গেঁটে বাত মনোহর॥ এলেম বেড়িয়ে যত গ্রাম, কত লব তার নাম, একে একে বলি তার কাছে। যোড়া বাগান মাণিকতলাঃ আর সিদ্ধেশ^রী তলাঃ তালতলা হাড়কাটার গলি। আছে যত বেশ্যাগণঃ ধরেছে জ্বরে বিলক্ষণঃ নিরব রয়েছে সর্ব্বস্থলি॥ নাহি সে সব বেশ ভূষাঃ মাথায় নাই মাথাঘসাঃ চুল যাচ্ছে বিছানায় মিশায়ে। ঢাকাই ধুতি গড়াগড়িঃ কাঁদছে সদা ডাক ছাড়িঃ জল একটু খাই এই বলিয়ে॥ অনুগত বাবু যারাঃ পদতলে শুয়ে তারাঃ ডেঙ্গু জ্বরে কাতর হৃদয়।

খানসামায় বাতাস করেঃ অঙ্গ টিপে দেয় পরেঃ হেরি দুঃখ হইল অতিশয়॥ ডেঙ্গু জ্বরে এই দশাঃ সকলের ঘুচে ব্যবসাঃ কাপড় ওয়ালার কাপড় বিকায় নাই। ঘৃতওয়ালা ঘৃতলয়ে, ফিরিতেছে ফুকারিয়ে, মদের দোকানে পড়েছে ছাই॥ মামাদের হয়েছে ভাবনা মদ নিয়ে হইল কান্নাঃ বলে এখন মদ কি করিব। সবার হলো ডেঙ্গু জ্বর, ভয়ে কাঁপে কলেবরঃ মড়ার মতন আগ্লেকি থাকিব॥ দোকানে ছিল যত শুড়িঃ দোকান বন্ধ করে মাল্লে পাড়িঃ বাড়ি যায় সকল মামাতে। বেশ্যাবিনে এইরূপঃ ঘটেছে অঘটন রূপঃ দেখে এমন পাড়াতে পাড়াতে॥

রাগিণী সিন্ধু ভৈরবী। তালজৎ।
ভাই এমন জ্বর কোথায় দেখি নাই। ঘরে ঘরে পড়ে আছে সারি সারি দেখ্তে পাই॥
কার মুখে না সরে কথা, অচেতন আছে তথা, দশ ডাক দিলে পর শুনিতে না পায়। শবের মতন যেন গড়াগড়ি যায়, কম্পজ্বরে ধরেছে কারে হেন জ্বরের মুখে ছাই॥ কেহ বলে মোর গেল পদ, একি হোলরে আপদ, সর্ব্বাঙ্গ টা-টায়ে উঠে আচম্বিতে ভাই, বাবারকালে আমি এমন জ্বর দেখি নাই, মহেশ্চন্দ্র ভনে তিনদিন সবুর করগে।

সবাই॥ তখনই এই রূপেতে বিরহিণী বলছে পরস্পর। নবীনা ও প্রবীণাতে হয়ে একত্তর॥ হেনকালে শ্যামা বামা রমণী দুজন। নবীনের গৃহে আসি দিল দরশন॥ বলে ভাই একি কাণ্ড জগৎ যুড়ে হোল। কেহ কেহ ব্লাক ফিবরেতে প্রাণে মলো॥ পাপেতে হইল পূর্ণ কলি হলো ঘোর। ছুঁচর গলায় চন্দ্রহার কুকুরে আতর॥ অদিনেতে বাদল হোচ্ছে অলোকের কথা। তাই মাসে ছুট গ্রহণ প্রায় হচ্ছে হেথা॥ দিনে দিনে কলি কাল পূর্ণ হলো পাপে পৃথিবী যাবেন রসাতল বুঝি পরিতাপে। মহেশ্চন্দ্র দাসে কয় সবায় করি মানা। পরের মন্দকারি কভু হইওনা হইওনা॥ পশ্চাতে আছয়ে কালজাননা জাননা। কখন হরিয়া লবে দেখিতে পাবেনা॥

রাগিণী সুরট তাল আড়খেমটা।

শুন শুন সর্ব্বজন। করনাক কেহ কু আচরণ॥ মন্দকর্ম্ম কল্লে পরে, ডেঙ্গু ধরিবে তাহারে, যাবেন তিনি যমের ঘরে, তাইতে করি নিবারণ॥ মান্যকর দেবগণে, যাতে সুখী থাকবে মনে, শ্বরণেতে নারায়ণে, তরাবেন ভববন্ধন॥ সমাপ্তঃ।

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com