কেশ নিয়ে কেস স্টাডি

আলম তালুকদার / ৩:০০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩,২০১৯

চুল, কেশ, অলক, কচ, কুন্তল, চুলক, সিরসিজ, শিরোরুহ, মূর্ধজ, চিকুর, কুশল ইত্যাদি বলে আমাদের প্রিয় চুল বা কেশকে চিহ্নিত করতে পারি। মানে হল চুলের প্রতিশব্দ চুলের মতো কিছু ঘন। এই রে, প্রথমেই জোকস হামলা করিল যে! আচ্ছা প্রথম হামলা আগে সামলাই।

স্কুলের এক শিক্ষক দুষ্টু কিসিমের এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘তুই তো কারণে অকারণে পটর পটর করিস। বল তো একই জিনিসের বিভিন্ন অবস্থানের কারণে কত রকম নাম হতে পারে? জিনিসটার নাম বল।’
-স্যার, ভয়ে বলব না নির্ভয়ে বলব?
-নির্ভয়ে বল।
-স্যার, এই যে মাথায় যখন তখন এটাকে বলে, চুল, আবার চোখের উপরে যে চুল, তাকে বলে, ভ্রু, মুখের উপরে থাকলে গোঁফ, গালে থাকলে দাড়ি, বুকে থাকলে পশম। আরও নিচে...
-এই ব্যাটা থাম, আর নামার দরকার নাই।

শিক্ষক ছাত্রকে থামিয়ে দিলেন। তো আসল চুল মানে উর্দু চুলের কথা উচ্চারণ করার আর সুযোগ পেল না। শব্দটা নিয়ে আমাদের দেশে এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতে কিন্তু হরহামেশা উচ্চারিত হচ্ছে! আরও একটা জোকসের জো আসিয়াছে! পশ্চিমবঙ্গের এক ছেলে ভৈরবের মেয়ে বিয়ে করেছে। সে প্রথমবার ভৈরবে শ^শুরবাড়ি এসেছে। জামাই আদর তো চলছে। তো আদরের ঠেলায় খুশি হয়ে শাশুড়ির দিকে ভালো করে তাকিয়ে বলল, ‘আম্মা, আপকা বাল পাক গিয়া’!

তো আমাদের দেশে তো আর বালকে চুল বলে না। এ কারণে শ্বাশুড়ি খুব শরম পেয়ে অন্য ঘরে দৌড়ে গিয়ে স্বামীকে বলল, ‘কী লজ্জাই না পেলাম।’
শ্বশুর বলে কেন? কী হয়েছে?
-আরে বল না, কী শরমের কথা! নতুন জামাই কেমনে দেখল যে আমার বাল পাক গিয়া?

শ্বশুর এইটুকু শুনে বলল, তুমি তো একটা গাণ্ডু। তবাগবা ছাড়া মাইয়া মানুষ। তোমার বসার নমুনা ভালো না!
প্রিয় পাঠক, আপনারা কি পড়া বাদ দিলেন? আচ্ছা এবার তাহলে, রবীন্দ্রনাথের চুল-দাড়ির কথা একটু কই। একবার শচীন ভৌমিক প্রথমবার বোম্বের এক সেলুনে চুল কাটাতে গিয়ে দেখেন রবীন্দ্রনাথের ১০-১২টা ছবি সেলুনের চারদিকে সুন্দর যত্ন করে টানানো।

তিনি ভাবলেন, আরে বোম্বেবাসীও রবীন্দ্রভক্ত! তো সে একটা খালি চেয়ারে বসেই এক নরসুন্দরকে জিজ্ঞেস করছেন, তোমরা রবীন্দ্রনাথের ভক্ত দেখে বাঙালি হিসেবে তোমাদের ধন্যবাদ জানাই। এত সম্মান কর, আমাদের বিশ্বকবিকে?

নরসুন্দর সব শুনে বলল, শুনুন দাদা, উনি কে, কী নাম তা জানি না। তার ছবি রাখার কারণ হলো, উনি বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন স্টাইলে চুল-দাড়ি রেখেছেন এবং ছেঁটেছেন। কাস্টমার এলে ছবি দেখিয়ে বলি, কোন স্টাইলের কাট দিমু? তখন সে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়!

এখন চিন্তা করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ কত বড় স্টাইলিস্ট ছিলেন। নরসুন্দর এমনই এক বিশ্বস্ত প্রজাতি, যার কাঁচি ও ক্ষুরের নিচে নিশ্চিন্তে কাস্টমাররা মাথা নোয়াতে পারে! বর্তমানে বখাটে কাটিংয়ের রমরমা চাহিদা। বিশেষ করে উঠতি যুবকদের মনের মধ্যে এ স্টাইলে চুল কাটার জন্য খালি ঢেউ খেইলা যায়!

মাগুরা জেলার পুলিশ বখাটে কাটিংয়ের সংজ্ঞা দিয়েছে- ‘এক শ্রেণির যুবক চুল এমনভাবে কাটেন যে তাদের দুই কানের ওপরের অংশে চুল থাকেই না। কিন্তু মাথার ওপরের অংশে ঘন চুল থাকে। এ চুল বেশ দীর্ঘ হয়। হাঁটার সময় কিংবা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এ চুল দুলতে থাকে। এভাবে চুল কাটানোকে বখাটে কাটিং বলা হয়’।

কেন এইরকম চুল কাটিং করায় আপত্তি? পোশাক-আশাক ও চুল মানুষের বাহ্যিক এবং আত্মিক পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। এ বয়সের ছেলেরা একটু ড্যামকেয়ার ভাব নিয়ে চলাফেরা করে। এ কাটিং তার মন আরও ফাটিং হতে ফাইটিং করার উত্তেজনা আমদানি করে থাকে। কাজেই বখাটে হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আবারও সংকট! পুলিশ শব্দটি মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ জোকস মোচড়াইতেছে। এক স্থানীয় বখাটে মাস্তানকে গ্রেফতার করে পুলিশ থানার লকারে ঢুকিয়েছে।

পাঁচ মিনিটও যায়নি, ওসির কাছে সব হোমরাচোমড়ার ফোনের পর ফোন আসতে থাকে। এখনি ছেড়ে দাও। কিন্তু ওসি আবার একটু ঘাওরা টাইপের। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা আটকের পর তাকে ছাড়তেই হলো। তবে বের হওয়ার আগে ওসি তাকে ডেকে কাছে নিয়ে বলল- এই ব্যাটা মাস্তান, প্যান্টের চেইন খোল।
-বলে কী! চেইন, মানে প্যান্টের চেইন খুলব?
-হ্যাঁ। প্যান্টের চেইন।

ভয়ে ভয়ে শরমে শরমে একটু খুলল, দেখল, কাজ হবে। হঠাৎ ওসি বাম হাতটা মাস্তানের চেইনের ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে একটা লোম ছিঁড়ে আনে। প্রদর্শনী করার আগে হাতে নিয়ে বলল- যা ব্যাটা, বের হয়ে যা। তুই পুলিশের নামে বাইরে গিয়ে বদনাম করবি, বলবি ‘পুলিশ আমাকে ধরেছিল, কিন্তু ছিঁড়তে পারেনি। এ কারণে ছিঁড়া রাখলাম।
আর মনে হয় কেশ নিয়ে কেস স্টাডি করা জায়েজ হবে না।

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com