ঘুষনিয়ে কিছু কথা

আলম তালুকদার / ২:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৫,২০১৯

ঘুষ বিশেষ্যটি কখন যে বিশেষণ হয়ে একেবারে অব্যয় হয়ে কার মধ্যে নিত্য বিরাজ করে তা বলা একটু জটিল। বর্তমান বিশ্বে মনে হয় সবচেয়ে প্রিয় এবং মহাজনপ্রিয় খাবার হলো ‘ঘুষ’! আর এটা খাবার জন্য কেউ ওত পেতে বসে থাকে, কেউ আবার উদাসীন হয়ে অপেক্ষা করে থাকে। মানুষ আসলে সর্বভুক। তো ঘুষও এক প্রকার ‘ভাইটামিন’! তাই অনেকেই এটা ‘খাইতে’ পছন্দ করে। কেউ অতি সহজে হজম করতে পারে, কেউ আবার পারে না। ঘুষও অনেক সময় বদহজম হয়ে থাকে!

ঘুষ হলো সেই জিনিস, কোনো কাজে বেআইনিভাবে সাহায্য লাভের আশায় বা দ্রুত কাজ সামাধান বা ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় কার্যসিদ্ধির জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রদান করা। সেই ঘুষ ক্যাশ বা কাইন্ড হতে পারে। কাইন্ড হলো নগদ টাকা বাদে অন্য কিছু। একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রদান করা। ঘুষের অনেক রকমফের আছে।

এটা কখনও বকশিস, উপঢৌকন, ভেট, স্পিড মানি, নজরানা, উৎকোচ, মুখ বন্ধ, দেখা করা, উপরি, বাম হাতের বিষয়, ভাইটামিন, খুশি করা, চা পান, মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি নামে নাজিল হয়ে থাকে! বেআইনি সুবিধা, সহজে কাজ হাসিল করতে হলে কর্তৃপক্ষকে খুশি করার বিষয়টা থাকে। সেই হিসাবে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এই খুশি করা বা খুশি থাকার ব্যাপারটা সেই আদিকাল হতেই চলে এসেছে। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও প্রশংসা করলে খুশি থাকেন। কথা দিয়েও খুশি করে অনেক সময় দ্রুত কাজ সমাধা করা যায়। আবার বেশি বেশি জায়গা মতন হাজিরা দিলেও তেল-টেল মারলে, ফুটফরমাশ খাটলে বা চামচাগিরি করলেও অনেক কাজ হাসিল করা যায়। শিশু সেও আদর চায়, প্রশংসা চায়। কান্নাকাটি করে কিছু উপরি সুবিধা আদায় করে নিয়ে থাকে।

এ কারণে এ ঘুষের বিষয়টি আমার কাছে বেশ খটমট! একসময় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের হাতের ভীষণ রকম পিটনা থেকে বাঁচার জন্য শিক্ষককে দাওয়াত খাওয়ানো বা দরিদ্র শিক্ষককে কিছু আর্থিক সাহায্য দিয়ে পিটনা থেকে বাঁচার উপায় বের করা বা যত্ন দিয়ে পড়ানোর সুবিধা গ্রহণ করাও একপ্রকার ঘুষ বটে! কিন্তু সেই ঘুষ আর থানা কর্তৃপক্ষকের ‘মাইর’ থেকে বাঁচার জন্য ঘুষ প্রদান এক পাল্লায় কি মাপা যায়?

এ ঘুষ নিয়ে দু’একটা জোকস না হলে তো দেখি জমছে না! একবার এক বউ তার পুলিশ স্বামীর পকেট মারতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। স্বামী প্রবর তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়ার হুমকি দিলে কিছু টাকা ঘুষ দিয়ে ছাড়া পেয়ে গেল! হা হা হা। তবে অনেকের মতে ঘুষ যেহেতু একটা দুর্নীতি সেহেতু এটা করতে অনেক কলা-কৌশল জানা না থাকলে এটা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

আরও কথা হলো, এসব করতে বুকের পাটা পোক্ত করা লাগে। বর্তমানে ঘুষগ্রহীতা ও প্রদানকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হয় না বরং কখনও কখনও উৎসাহিত করা হয়ে থাকে! এক সময় ‘ঘুষখোর’দের সঙ্গে কেউ আত্মীয়তা করতে ইচ্ছুক হতো না। ধর্মীয় আইনে এবং দণ্ডবিধিতে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার বিচারের ধারা সংযোজিত আছে। বাবা দিবসে একজন মন্তব্য করেছেন, ফেসবুকের বন্ধুদের সবার বাবাই ভালো বাবা এবং সৎ বাবা। তাহলে দেশে কাদের বাবারা ঘুষ খেয়ে থাকে বা দুর্নীতি করে থাকে? বিষয়টা আসলেই চিন্তার বটে!

সম্পাদক বলেছেন লেখা ছোট করবেন। তাই ছোট করে তাকে খুশি রাখার মতলবে আর ‘বাড়িলাম’ না।

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com