ধ্বংসাত্মক ‘আইলা’

বিবিধ ডেস্ক / ২:২০ অপরাহ্ণ, মে ০৮,২০১৯

ঘূর্ণিঝড় আইলার নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী। ২১ মে ২০০৯ তারিখে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং উপকূলভাগে আঘাত হানে ২৫ মে তারিখে। এর ব্যাস ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডরের থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি। সিডরের মতোই আইলা প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে। বাতাসের বেগ ৮০-১০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি সিডরের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়েছে। ভারতে আইলার প্রকোপে অন্তত ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আইলা পরবর্তী রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এই ঘূর্ণিঝড়ে ১,৭৫,০০০ বাড়ি ধ্বংস হয় এবং ২৩,০০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ওদিকে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। আইলার প্রভাবে নিঝুম দ্বীপ এলাকার সব পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ে। খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়।

ফলে লোনা পানিতে তলিয়ে যায় খুলনার দাকোপ, কয়রা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন। ৭৬ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি এবং ৩৬২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ধসে পড়ে। কমপক্ষে ৩,০০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২,৪৩,০০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পর পর দুই মৌসুম কৃষিকাজ না হওয়ায় প্রায় ৮,০০,০০০ টন খাদ্যঘাটতি সৃষ্টি হয়। খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রাণ হারান ১৯৩ জন মানুষ।

আইলা পরবর্তী উপকূল ভাগের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে। কারণ ঘূর্ণিঝড় আইলার রেশ কেটে গেলেও তার ক্ষতচিহ্ন রেখে যায় দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক এলাকায়। পুকুরে মিঠাপানির বদলে লোনাপানি। ধান আবাদে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিমুখিতার জন্য তাদের সেই ক্ষত বয়ে বেড়াতে আরো বহুদিন।

সম্পাদক : ড. কাজল রশীদ শাহীন
প্রকাশক : মো. আহসান হাবীব

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-১৮-বি, বাড়ি-২১, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা
ফোন : বার্তা-৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৭, মফস্বল-৯৮২২০৩৬
বিজ্ঞাপন-৯৮২২০২১, ০১৭৮৭ ৬৯৭ ৮২৩,
সার্কুলেশন-৯৮২২০২৯, ০১৮৫৩ ৩২৮ ৫১০
Email: editorkholakagoj@gmail.com
            kholakagojnews7@gmail.com