ডিসেম্বরেই কি ভোট

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ডিসেম্বরেই কি ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৮

print
ডিসেম্বরেই কি ভোট

কিছুদিন আগেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জানুয়ারিতে গড়াতে পারে। প্রথমদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে এরকম ধারণা থাকলেও, এখন অনেকটাই নিশ্চিত, ডিসেম্বরেই হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমনও হতে পারে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের উৎসব শেষ না হতেই পরের দিন ১৭ ডিসেম্বরও হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর বিজয়ের মাসেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন চাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। তাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর খুব বেশি সময় হাতে পাবে না রাজনৈতিক দলগুলো। আইনের মধ্যে থেকে খুব সংক্ষিপ্ত নোটিসেই হতে পারে এ নির্বাচন। দলগুলো সম্ভাব্য সময় পেতে পারে ৪৫ থেকে ৬০ দিন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা তাদের জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচন কবে হবে (ডিসেম্বর না জানুয়ারি) তা পরিষ্কার হবে।    
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি। আর সংসদ বহাল থাকা সাপেক্ষে এর পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন হবে। এ হিসাবে এ বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোট হবে। আর তফসিল নির্বাচনের অংশ হওয়ায় ৩১ অক্টোবরের আগে তফসিল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই।
জানা গেছে, ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে সরকারের একাধিক মন্ত্রী-এমপি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন। সুনির্দিষ্টভাবে সময় না জানালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিক সময়ে উল্লেখ করেছেন। বেশিরভাগ মন্ত্রী-এমপি ডিসেম্বরে নির্বাচন চান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগ আরেকটি বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায়। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিছুদিন আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ ভোট হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সিইসি।
আর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত জানুয়ারিতে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বরের পর যে কোনো দিন নির্বাচনের ভোটের দিন ধার্য করতে পারে ইসি। তফসিল ঘোষণার পর ভোট নেওয়ার মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মতো সময় থাকতে পারে। তবে কবে ভোটের দিন ঠিক করা হবে তা ইসিই ঠিক করবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তবে ভোটগ্রহণের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আশা করি নভেম্বর মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পরে গত ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে, এটা এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে, এটা আমরা বলিনি। যারা বলেছেন, সেটা তাদের কথা। উনারা উনাদের হিসাব মতো বলেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত করেছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলতি অক্টোবর মাসেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে আমি বলব না, নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারির আগে যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করতে পারে। এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। তাই অক্টোবর মাসে আমরা মনোনয়ন পর্ব শুরু করে দিচ্ছি।
যদিও বিএনপি এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তারা নির্বাচনে যাবে কী না। তবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে সেখানে বিএনপিও রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।