নির্বাচনী ট্রেনে যাত্রী সবাই

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

নির্বাচনী ট্রেনে যাত্রী সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

print
নির্বাচনী ট্রেনে যাত্রী সবাই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন, গণসংযোগ, প্রতিশ্রুতিতে ঋদ্ধ ইশতেহার নির্বাচনী যাত্রাকে জমিয়ে তুলছে। তাই নিয়ে খোলা কাগজের নিয়মিত আয়োজন

আক্ষরিক অর্থেই নির্বাচনী ট্রেনে চলতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত ৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে ট্রেন সফরের মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনী ট্রেনযাত্রা শুরু করে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সড়কপথে ‘নির্বাচনী যাত্রা’ কর্মসূচি পালন করে দলটি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সারা দেশে তারা পালন করেছে নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচি।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চল সফরের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’ ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করে আওয়ামী লীগ। সেসব পথসভা রূপ নেয় নির্বাচনী জনসভায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের পথে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ, কুমিল্লা টাউনহল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ও সীতাকুণ্ড চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী থানা, লোহাগাড়া উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাসস্ট্যান্ড, রামু ঈদগাও মাঠে পথসভা করেন নেতাকর্মীরা। আর ১ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর সারা দেশে পরিচালিত গণসংযোগ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। টানা ১০ বছরের ক্ষমতাকালে এ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, কোথাও কোথাও ১৪ দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছেন এসব নির্বাচনী যাত্রা ও গণসংযোগে।

আগামী নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী ভোটারদের কাছে সরকারের উন্নয়নের প্রচার, আরও উন্নত দেশ গড়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়া, নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া, সাংগঠনিক ঐক্য সুসংহত করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান নানান সংকটের সমাধান করাই এসব অভিযান ও গণসংযোগের লক্ষ্য। পাশাপাশি এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহাজোট ও ১৪ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মধ্যকার সম্পর্কও সংহত করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজটিও দ্রুত সম্পন্ন করতে চায় আওয়ামী লীগ। এমনকি তফসিল ঘোষণার আগেই দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগ ও জেলায় বড়সড় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টিও চূড়ান্ত করছে আওয়ামী লীগ। একই আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও দলের শৃঙ্খলা অনুযায়ী, দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কোনো প্রকার আপত্তি ব্যতিরেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক নেতাকর্মীকে। মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যকার গ্রুপিং- কোন্দলের দিকে ইঙ্গিত করে নির্বাচনী যাত্রা শুরুর দিনই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ‘ঘরের ভেতর ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন।’ অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গণসংযোগে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ দলের মনোনয়নের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার ‘খবর আছে’।

আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী প্রস্তুতির একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে তা বোঝা যায় তাদের প্রার্থী মনোনয়নের খসড়া চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে। দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা খবর থেকে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি ও দলীয় পর্যায়ের কয়েকটি জরিপ পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে প্রায় ১৭৪ জনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। এর আগে ১৫১ জনের তালিকার কথা শোনা গিয়েছিল। দলীয় লোকজন বলছেন, ১৫১ হোক বা ১৭৪ হোক, প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্তই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। শেষে যার দিকে পাল্লা ভারী হবে তাকেই দেওয়া হবে মনোনয়ন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে-এমনটা ধরে নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ‘উইনেবল’ প্রার্থী ছাড়া কিছুই ভাবছে না তারা। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর ‘গ্রহণযোগ্যতার’ চেয়ে ‘জনপ্রিয়তাকে’ই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ যে কোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনের জয় দেখতে চায় দলটি।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, জরিপের ভিত্তিতেই আমাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্তও হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা সবকিছুকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।