নমিনেশন চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

নমিনেশন চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

print
নমিনেশন চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে- এমনটা ধরে নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি গুছিয়ে আনছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ‘উইনেবল’ প্রার্থী ছাড়া কিছুই ভাবছে না দলটি। এ ক্ষেত্রে দলের প্রতি নিবেদিত প্রার্থীর চেয়ে জনগণের কাছে তার ‘গ্রহণযোগ্যতা’ ও ‘জনপ্রিয়তাকে’ই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ যে কোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনের জয় দেখতে চায় দলটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নের জন্য প্রার্থী নির্বাচনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীনদের জন্য। কারণ টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে সাংগঠনিকভাবে দলের বিস্তৃতি যেমন বেড়েছে, তেমনি মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মনোনয়নপ্রত্যাশী সবারই জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রায় সমানে সমান। কাকে ফেলে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে-এ নিয়ে টানাটানির মধ্যে পড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকারি-বেসরকারি ও দলীয় পর্যায়ের কয়েকটি জরিপ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৭৪ জনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করছেন বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। এর আগে, ১৫১ জনের তালিকার কথাও শোনা গিয়েছিল। ১৫১ হোক বা ১৭৪ হোক, তফসিলের পর প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্ত কাউকেই চূড়ান্ত করবে না আওয়ামী লীগ। কারণ প্রতিটি আসনে দুয়ের অধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা রয়েছেন দলটির।

মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীর তিনটি যোগ্যতাকে মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন। এলাকার জনগণের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্ক বা জনপ্রিয়তা, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে কি না, এসব দেখেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব যোগ্যতাই প্রকৃত মাপকাঠি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ, অধিকাংশ আসনেই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন যাদের তিনটি যোগ্যতাই রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দল কোন মাপকাঠি বিবেচনা করে প্রার্থিতা ঠিক করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এর কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ১৫১ বা ১৭৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে যেসব তালিকা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে তাতে দলের অনেক বিতর্কিত, সমালোচিত প্রার্থীও রয়েছেন। যাদের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তারা কী করে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় আসেন, সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২৩৩ জন সংসদ সদস্য পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে অধিকাংশই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসা। বিএনপি অংশ না নেওয়ায় গত নির্বাচনে যত সহজে জেতা গেছে এবার ততটাই কঠিন হবে বিজয় ছিনিয়ে আনা। তাই প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলকে অনেক কঠোর হতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘উইনেবল’ প্রার্থী ছাড়া মনোনয়ন তালিকায় কেউ ঠাঁই পাবেন না। কারণ একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। ফলে নানা নিক্তিতে মেপে ঠিক করা হচ্ছে প্রার্থী। প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন তাকে সামনে রেখেই নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দল কাউকে ছাড় দেবে না।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সংস্থার জরিপ থেকে উঠে এসেছে বর্তমান সংসদের ৮০ থেকে ১০০ জন এমপির অবস্থা সুবিধাজনক নয়। ওইসব আসনে দল নতুন প্রার্থী নিয়ে ভাবছে। নানা সূত্রে এসব খবর জেনে ওইসব আসনে সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপও শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনী তফসিলের আগে গোপনে মনোনয়ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন অনেকে। অনেক জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং, দলাদলিও শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারাও বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন।

দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছিলেন। এখন তফসিল ঘোষণার সময় যত ঘনিয়ে আসছে সে প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারণা ও জনসংযোগও তত বেড়ে চলেছে। কোনো কোনো আসনে পাঁচজন, এমনকি তারও অধিক প্রার্থী রয়েছেন মাঠে। সে জন্য আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে অধিকাংশ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। তবে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনিই হবেন নৌকার প্রার্থী। আর এ ক্ষেত্রে কেউ বিদ্রোহ করলে তার ‘খবর’ আছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, জরিপের ভিত্তিতেই আমাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্তও হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা সবকিছুকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, এর মধ্যে যেসব সংসদ সদদ্যের অবস্থান খারাপ হয়েছে, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তারা মনোনয়ন পাবেন না। এ ছাড়া এলাকায় দুর্নাম আছে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় এরকম নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।