সন্ত্রাসী আখ্যা দিতে চায় আ.লীগ

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

সন্ত্রাসী আখ্যা দিতে চায় আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

print
সন্ত্রাসী আখ্যা দিতে চায় আ.লীগ

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে পুঁজি করতে চায় আওয়ামী লীগ। রায় ঘোষণার পর ইতোমধ্যেই বিএনপির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছেন দলের নেতারা। সেসব প্রশ্নকে ইস্যু করেই রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে চান তারা। ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে ২১ আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়।

মামলার রায়ের এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতৃত্বশূন্য করতে ইতিহাসের ভয়াবহতম হামলাটি করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ মদদে চালানো হয়েছিল সে হামলা। মামলার বিবরণী থেকেই জানা গেছে, সে হামলার ছক কষা হয়েছে তৎকালীন জোট সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্র ‘হাওয়া ভবনে’। আর হাওয়া ভবনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। জামায়াত-বিএনপি জোটের সব অপকর্মের উৎসস্থল বলা হয়ে থাকে হাওয়া ভবন এবং তার থিংকট্যাংক তারেক রহমানকে।
মামলার রায়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভাষ্য, এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। এর আগে কানাডার আদালতসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হিসেবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকা কতটা বৈধ। আওয়ামী লীগের নেতারা তারেক রহমানকে বিএনপি থেকে পদত্যাগের পরামর্শও দিয়েছেন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এমন রায়কে বিএনপি ‘ফরমায়েশি’ বলেও উল্লেখ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করছে বিএনপির এমন বক্তব্যের পক্ষে ‘সমর্থন’ তেমন একটা জুটছে না। কারণ, ২০০৪ সালে ২১ আগস্টের নারকীয় ঘটনার পর এর বিচার শেষ হতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ১৪ বছর। স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার সব নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে এ মামলার ক্ষেত্রে।
মামলায় তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ার বিষয়টাকেও নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে একটি ইস্যু করতে চায় আওয়ামী লীগ নেতারা। যদিও আদালতের রায়ে তারা পুরো সন্তুষ্ট নন, তবুও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করার যে অভিযোগ রয়েছে সেটা খণ্ডানোর একটা মোক্ষম উদাহরণ হিসেবে তারা তুলে ধরতে চান এ রায়কে।
গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পরপরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তারা রায়ে খুশি হতে পারেননি তবে অসন্তুষ্টও নন। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, আদালত স্বাধীনভাবে তার রায় দিয়েছেন। নাখোশ হলেও আদালতের রায়কে তারা শ্রদ্ধা করছেন। এমনকি সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর এখন আওয়ামী লীগ নেতারা প্রশ্ন করছেন এ হামলার দায় বিএনপি ও দলটির চেয়ারপারসন এড়াতে পারেন না। বিভিন্ন বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০৪ সালের বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন কি না। এ প্রশ্নের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তার পক্ষে যে কোনো ধরনের সহানুভূতির সম্ভাবনায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে এ প্রশ্ন। কারণ, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে মুখ্য করে বিএনপি আন্দোলনে রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে খালেদা জিয়ার পক্ষে দলটি সহানুভূতি আদায়ের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে তারেক রহমানকেও দায়মুক্তি দিয়ে চলেছেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু ২১ আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার প্রশ্নে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং দল বিএনপি কি প্রকৃতপক্ষেই দায়মুক্ত হতে পারবে?-এমন প্রশ্ন অনেকের।
সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, স্মরণকালের সবচেয়ে দুঃসময় অতিক্রম করছে বিএনপি। তার চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারান্তরীণ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামলায় দণ্ড নিয়ে পলাতক রয়েছেন লন্ডনে। রীতিমতো নেতৃত্বশূন্যতায় দিশাহীন হয়ে পড়েছে দলটি। এ অবস্থায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে আরও বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়ল বিএনপি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনের আগে মোক্ষম এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টায় থাকবে-এটাই স্বাভাবিক।

 
.