নীরব জাপা

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

নীরব জাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

print
নীরব জাপা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন রকম মতামত দিলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির পক্ষ থেকে ২১ আগস্ট মামলার রায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্যই করা হয়নি।

দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। তিনি বলেছেন, আদালতের রায়ের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। গত বুধবার সকালে রায়ের পর তিনি একথা বলেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বিচারকরা সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে রায় দিয়েছে। এর ওপরে আর কোনো মন্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোতে নানামুখী মেরুকরণ চলছে। জাতীয় পার্টিতেও চলছে নানা সমীকরণ। একদিকে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি যেমন রয়েছে অন্যদিকে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। আসনভিত্তিক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় রাজনীতির মাঠেও চলছে নানা মেরুকরণ প্রক্রিয়া। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ ও সক্রিয় অবস্থান রাজনীতিতে যোগ করেছে নতুন সমীকরণ।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। নারকীয় ওই হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি আইভী রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তাকে বাঁচাতে মানববর্ম তৈরি করে আওয়ামী লীগ নেতারা। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডে স্প্লিন্টারে হারান এক কানের শ্রবণশক্তি।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষিত হলো। রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হামলার সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার জীবিত বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 
.