রাশিয়া-চীন-ভারত আ.লীগের লক্ষ্য

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

রাশিয়া-চীন-ভারত আ.লীগের লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

print
রাশিয়া-চীন-ভারত আ.লীগের লক্ষ্য

গত কয়েক দশকে নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বিদেশনির্ভরতা বেড়েছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পক্ষে বিদেশি সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন বাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ছোট-বড় কমবেশি প্রতিটি দলের মধ্যেই এ প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কারা বেশি বিদেশি শক্তির আশির্বাদ বাগাতে পারে-এ নিয়ে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা।

এক দল অপর দলের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর রেওয়াজ যেন রাজনীতিরই অংশ হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে বরাবরই ক্ষমতাসীনরা একটু বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। সে হিসেবে এবারও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিদেশমুখী রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই পরাশক্তি-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকেন্দ্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর ছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার পরাশক্তি রাশিয়া ও আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি জোর দিয়েছে।
 বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রকল্প পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহায়তা করছে রাশিয়া। বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে চীন। আর ট্রানজিট ব্যবহার এবং ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদশের ভূমি ব্যবহার করতে না পারার নিশ্চয়তা পেয়েছে ভারত। ফলে আগামী নির্বাচনে রাশিয়া-চীন-ভারত বলয়ের আনুকূল্য পেতে পারে আওয়ামী লীগ এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।     
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর ক্ষমতাসীন দলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য বয়ে এনেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিশেষ ভূমিকার জন্য দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার সঙ্গে যত সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাত হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই চাইছেন আওয়ামী লীগ যেন আরও একবার ক্ষমতায় আসে।
এর আগে গত মে মাসের শেষদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফর করে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা ও তিস্তাচুক্তিসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা না হলেও শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা করার সময় আকারে ইঙ্গিতে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ যে ভারতকে বারবার অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে সেটি স্মরণ করিয়ে দেন।
তার আগে এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করেছে। সে দেশের ক্ষমতাসীন বিজেপির আমন্ত্রণে তারা তিন দিনের সফরে ভারত যান। সেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপি ছাড়াও বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আ.লীগ নেতারা।
বিদেশি সরকার ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে বিদেশি বন্ধুদের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিশ্চিত করতে এসব সফর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নির্বাচনোত্তর ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা, এমনকি নির্বাচনকালীন সময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের অনুকূলে রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, জঙ্গি নির্মূলে সাফল্য, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার কূটনৈতিকভাবে সফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। টানা দুই মেয়াদে সব ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন, জনগণের জীবনমানের সূচক বৃদ্ধিসহ নানা বার্তা পৌঁছে বিদেশিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম সফর বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।