আমেরিকা-ইইউয়ে মিত্র খুঁজছে বিএনপি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আমেরিকা-ইইউয়ে মিত্র খুঁজছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

print
আমেরিকা-ইইউয়ে মিত্র খুঁজছে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ট্রাম্প প্রশাসনে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে সম্প্রতি। এ খবর যখন বেরুচ্ছিল সে সময় নিউইয়র্কে সদর দপ্তরে জাতিসংঘের রাজনীতি বিভাগের একজন সচিবের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির তিন প্রতিনিধি।

বিএনপি দাবি করেছিল, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব এ ধরনের কোনো আমন্ত্রণ জানাননি। উপরন্তু বিএনপি নেতারাই রাজনীতি বিভাগের তৃতীয় সচিব মিরোস্লাভ জেনেকার কাছ থেকে তাদের সঙ্গে বসার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি এভাবে চাউর হওয়ার ফলে বিএনপির দাবি অনেকটা হাস্যকর অবস্থায় পর্যবসিত হয়। এ ঘটনার পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে দেশের বাইরে মিত্র বাগানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়। একই সঙ্গে যে কোনো বিদেশ সফর বা বিদেশি কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়গুলোকে পুঁজি করে যে বিএনপি রাজনৈতিক ফসল তুলতে চায়-তাও অনেকটা পষ্ট হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দৌড়ঝাঁপ খারাপ কিছু নয়। যেহেতু আমাদের মতো দেশের নির্বাচনগুলোতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর এক ধরনের প্রচ্ছন্ন প্রভাব থাকে সেহেতু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা দোষের কিছুই নয়। দেশের বাইরে মিত্র বাড়লে যে কোনো দলের জন্যই ভাল। ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক এ মিত্রগুলো রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রভূত ভূমিকা রাখে। কিন্তু নিজ দেশের সংকট বাইরের দেশের কাছে তুলে ধরা বা বিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে সত্য-মিথ্যা নালিশ দেওয়া গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদের আত্মমর্যাদার জন্য ক্ষতিকর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে সরকারকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিভিন্ন দেশ, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শরণাপন্ন হচ্ছে বিএনপি। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি অর্জনের অংশ হিসেবে শুধু জাতিসংঘ নয় ইতিপূর্বে বিএনপি দেশের চলমান বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগ জানিয়ে কমনওয়েলথে চিঠিও দিয়েছে। কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড সে চিঠির জবাবে বিএনপিকে লিখে পাঠিয়েছে, বিএনপি যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লেখা সে চিঠি এসে পৌঁছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর। জানা গেছে, প্যাট্রিসিয়া লিখেছেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। এ জন্য আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিদ্বেষীর তকমা রয়েছে বিএনপির। বিশেষ করে অতিমাত্রায় জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কারণে বিএনপির ভারতবিরোধী নীতি চরম মাত্রায় পৌঁছায়। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপি সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের আনুকূল্য পেতে বিএনপিও নানা তৎপরতা শুরু করেছে।
গত জুন মাসের প্রথমার্ধে হঠাৎ করে ভারত সফর করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কয়েক দিনের সফরে ভারতের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ), বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন (ভিআইএফ) ও রাজিব গান্ধী ফাউন্ডেশনসহ (আরজিএফ) বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে তারা বৈঠক করেন।
ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির সুসম্পর্ক তৈরিই মূলত লক্ষ্য। কেননা বিএনপিকে ভারতবিরোধী বলে ক্ষমতাসীন মহল যে অপপ্রচার চালাচ্ছে সে ভুল ভাঙানো দরকার। এ ছাড়া ওই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে দেশটি কী ভাবছে তা জানার চেষ্টা করাও সফরের অন্যতম লক্ষ ছিল।
জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের সমর্থন সহানুভূতি আদায়ের জন্য শুধু সফরেই তৎপরতা সীমাবদ্ধ রাখেনি বিএনপি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পলিটিকো পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে ব্লু-স্টার স্ট্রাটেজিকস এবং রাস্কি পার্টনারস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগস্ট মাসেই ব্লু স্টারকে ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বিএনপি। এ ছাড়া প্রতি মাসে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার ডলার করে পরিশোধ করার চুক্তি হয়েছে।
ভারত-আমেরিকা সফর শেষে বিএনপি শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ সফর করবে বলে জানিয়েছে বিএনপি সূত্র। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি দল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।