নেতাকর্মীতে মুখর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

নেতাকর্মীতে মুখর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়

মাহমুদুল হাসান ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০২০

print
নেতাকর্মীতে মুখর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়

মাঠের রাজনীতি না থাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়মুখী বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করোনা সংকটকালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রতিদিনই আনাগোনা দেখা যায়। সারা দিনই তাদের পদচারণায় মুখর থাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাফতরিক কিছু কর্মকাণ্ড সব সময় থাকে। সঙ্গে যোগ হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়মুখী হচ্ছেন। দেশের বেশ কিছু পৌরসভায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন শেষ হলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে।

এছাড়া সামনে উপজেলা নির্বাচনও রয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক নানা বিষয়ে কথা বলতেও প্রতিদিনই নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসেন। ফলে তাদের পরামর্শ এবং দাফতরিক কর্মকা- করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আসেন। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা অফিসে আসছেন বলেও জানান তারা। কার্যালয়েও রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু উপকরণ। এগুলো ব্যবহার করছেন আগত নেতাকর্মীরা।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোটেক আব্দুস সালাম আজাদ। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, আমরা একটা দুর্যোগময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বেশ কয়েকটি পৌরসভায় নির্বাচন শুরু হয়েছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। যে কারণে প্রতিদিনই সারা দেশে থেকে নানা অভিযোগ নিয়ে কার্যালয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা। তাদের কথা শুনতে হয়, পরামর্শ দিতে হয়। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। কিছু কথা মোবাইল ফোনে বলে সমাধান করা হয়। কেউ কেউ আবার কার্যালয়ে এসে দেখা করেন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সাংগঠনিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে বেশ কয়েক বছর ধরে দফতর সামলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অসুস্থ হলে দফতরের দায়িত্ব পান দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি নিয়মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি অফিস করেন। কখনো কখনো তাকে কার্যালয়ে গভীর রাত পর্যন্তও থাকতে হয়। রিজভীর অনুপস্থিতিতে তিনি দলের দফতরিক কর্মকা-গুলো দেখভাল করছেন। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তিনিই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে জানাচ্ছেন। প্রয়োজনে স্কাইপির মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও অবহিত করছেন। এছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হচ্ছে, সেগুলোর ফাইলিং করাসহ সাংগঠনিক কর্মকা-ের অগ্রগতির তথ্যও লিপিবদ্ধ করছেন তিনি।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দাফতরিক বিভিন্ন কাজ রয়েছে। এগুলো করতে প্রতিদিনই অফিসে বসতে হয়। মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যদি কোনো নির্দেশনা থাকে, এগুলো নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো, দলের অঙ্গ-সংগঠনের বাইরেও পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এভাবেই দিনভর কর্মযজ্ঞ চলে। কখনো সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্তও অফিসে থাকতে হয়।

এছাড়া জেলা, থানা, বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এলে তাদের সঙ্গেও কথা বলতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিনই অফিস করছি। অন্য স্টাফরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, অফিস রুমগুলো জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য স্প্রে করা হয়।

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভীর শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর তার হার্টে রিং পরানোর মাধ্যমে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করানো হয়। গত ২৪ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফেরেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণ বিশ্রামে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুস্থ হলে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসবেন বলে জানিয়েছেন রিজভীর ঘনিষ্ঠরা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ