আওয়ামী লীগ সরকার করোনার চেয়েও মারাত্মক: গয়েশ্বর

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১ | ১৩ মাঘ ১৪২৭

আওয়ামী লীগ সরকার করোনার চেয়েও মারাত্মক: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০২০

print
আওয়ামী লীগ সরকার করোনার চেয়েও মারাত্মক: গয়েশ্বর

আওয়ামী লীগ সরকার করোনার চেয়েও মারাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। ২ ডিসেম্বর, বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাজধানীর মোঘলটুলী এলাকার ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’র নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর এসব কথা বলেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা সরাফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ , সুলতান মো. নাসির উদ্দিন, আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, রফিক হাওলাদার, ইয়াসীন আলী, সাদরেজ জামান প্রমুখ।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ইতিহাস। তিনি ক্ষমতায় আসার পর একবার ভারত গিয়েছিলেন। তখন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আলিঙ্গন করে বলেছিন,‘ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার মধ্যদিয়ে জিয়াউর রহমান তুমি নব ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছ -যা মুছে ফেলার নয়।’ আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বিজয় উদযাপন করতে দেশের মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু একটি মিমাংসিত বিষয় অযাচিতভাবে হাত দিয়ে মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়ে আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে।’

গয়েশ্বর বলেন,‘দশ মাস হলো করোনার। প্রধানমন্ত্রী গত ১০ মাস ধরে বাসভবন থেকে বের হন না নিরাপত্তার স্বার্থে। কিন্তু দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঘরে থাকতে পারছে না। আমাদের অনেক নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্বপরিবারে, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও মো. শাহজাহান স্বপরিবারে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমিও যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারি-এই বিবেচনায় ঘরে বসে থাকতে পারি না। নিজের জীবন রক্ষায় ঘরে না থেকে রাস্তায় নামতে হয় কারণ শেখ হাসিনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘৭১ সালের যুদ্ধে যদি কোনো অবদান থেকে থাকে তাহলে করোনার মৃত্যৃর চেয়ে জনগণের পক্ষে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে মৃত্যু হয় সেটা হবে পরিপূর্ণ মৃত্যু। সেদিন প্রাণের ভয় না করে যদি যুদ্ধ করে থাকি, কারোনাকে ভয় করে ঘরে বসে থাকতে পারি না। করোনার চেয়ে মারাত্মক ভয়ানক হচ্ছে আজকের সরকার। করোনা দলমত জাতি ধর্ম বর্ণ দেখে আক্রমন করে না কিন্তু শেখ হাসিনা নামক করোনা দল মত জাত বুঝে আক্রমন করে। এই ভয়নক করোনার হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য নয়। এজন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। ’

‘৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীরদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা স্মরণ করবো উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস আদালত নির্ধারণ করতে পারে না। আমাদের স্বাধীনতা আদালতের নির্দেশে হয়নি। সেদিন নিম্ন আদালত-উচ্চ আদালত কেউ বলেনি ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করতেছে না-এটা অবৈধ। আমি বলব, যারা বিচার বিভাগের আছেন তারা বিচারটা সুষ্ঠুভাবে করেন। আপনারা আইনের ভাষায় যা বুঝেন তা আপনারা লিখতে পারেন? পারেন না। কারণ, আপনাদের ওপর খড়গ আছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অপসারণ, অপমান করা হয়েছে সেকারণে কোনো সঠিক রায় দিতে গেলে সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা ভাবতে হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস অনেকেই লিখেছে। কিন্তু জনগণ কোনটা গ্রহণ করবে সেটা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। ৭ মার্চ যদি স্বাধীনতার ঘোষণা হয় তাহলে ২৬ মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়? কারণ শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের পথ চলা, গণতন্ত্রের পথ চলা। সুতরাং জিয়াউর রহমান নাম মুছে ফেলা যাবে না। তিনি তো দেশের মানুষের আত্মার আত্মীয়।

সরকারের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, ইতিহাসে হাত দিবেন না। অবদান অনুযায়ি যে যেখানে আছে তাকে সেখানে থাকতে দিন। মানুষের হৃদয়ে আঘাত করবেন না। পাল্টা আঘাত আসলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকবেন না। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করুণ। তা না হলে আপনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন আগামী দিনে যারা ক্ষমতায় আসবে তারাও একই দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

জিয়াউর রহমান একটি ইতিহাস। জীবন ও রক্ত দিয়ে এই দেশ ও বাংলা ভাষা অর্জিত হয়েছে। যাদের রক্তে লেখা এই স্বাধীনতা, তাদেরকে রক্তকে অপমান করার দুঃসাহস দেখাবেন না। আমি বলব, এবাউট টার্ণ। আবারও বলব, ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলেন- তিনি যেন নিজ হাতে মাহুতটুলিতে জিয়াউর রহমানের নামের সাইনবোর্ডটা লাগিয়ে দিয়ে আসেন। তা নাহলে যেদিন ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশে ভাঙাচুরি যে শুরু হবে সেটা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তখন আপনার থাকবে না-এই কথাটা ভাবেন।

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘ প্রতিহিংসা বাদ দেন। কম তো খান নাই, অনেক খাইছেন। এগুলো শেষ করতে যতটুক হায়াত দরকার, আল্লাহ তো এতো হায়াত দেয় নাই। বাংলাদেশকে তো আপনি শেষ করে দিয়েছেন। এসব খেতেও পারবেন না, কবরে নিয়েও যেতেও পারবেন না। সেই কারণে বলব, স্বেচ্ছায় মানে মানে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আপনি যদি স্বেচ্ছায় জনগনের ক্ষমতা জনগনের কাছে দেন তাহলে মান ইজ্জত বাঁচবে। আর জনগন যদি ক্ষমতা থেকে নামায় মান-ইজ্জত-অর্থ-বিত্ত সবই হারাবেন।”

তিনি বলেন, ‘‘আদর্শ-চেতনা-দেশপ্রেমে জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে জিয়াউর রহমান, গণতন্ত্রে জিয়াউর রহমান, উতপাদনে জিয়াউর রহমান। তাকে সহ্য করতে আপনারা(আওয়ামী লীগ) পারবেন না। তাকে ইচ্ছা করলে আড়াল করা যায় না। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে যত স্মৃতিসৌধ, কত কিছু বানাচ্ছেন। সেগুলো রক্ষার স্বার্থে হলেও ইতিহাসে হাত দেবেন না। যে যেখানে আছে রাজনৈতিক কারণে, ঐতিহাসিক কারণেই জাতির সামনে তারা এখানে আছে। তাদেরকে থাকতে দিন, তাদের নাম রাখতে দিন।

মানুষের হৃদয়ে আঘাত করলে সেই আঘাতের পাল্টা আঘাত আসবে তখন কোনো ক্ষমতায়ই টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমানের আজকে কিছুই নাই, কিছু রেখে যান নাই। বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার চেয়ে আর গরীব কেউ নাই। নিজের একটা বাড়ি নাই। ভাড়া বাড়িতে থাকেন। প্রায় নোটিশ পায়। ভাড়া পরিশোধ করা যায় না। দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়ার যা উপার্জন, যা সম্পদ আছে বৈধভাবে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তাহলে তার একাউন্ট সিজ করে কেনো? কেনো তিনি একাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারেন না। ঢাকা শহরে একজন নেত্রীর ৫০ হাজার টাকায় তার কীভাবে চলে, কীভাবে তার চিকিতসা চলে? ”

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ