সবাইকে বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দিতে হবে: জিএম কাদের

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

সবাইকে বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দিতে হবে: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
সবাইকে বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দিতে হবে: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের ভ্যাকসিন দিতে হবে। দেশের হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে পয়সা খরচ করে ভ্যাকসিন নেয়া হয়তো সম্ভব হবে না। তাই সবার জন্য বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় কালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

আজ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানকে ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে আসেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, শীতের শুরুতেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই করোনা মোকাবেলায়।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বলেন, সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকা শহরে টাকা খরচ করেও বেসরকারী হাসপাতালে লাইফ সার্পোট মিলছে না। করোনা আক্রান্ত রোগীদের কারো শ্বাসকষ্ট হলে হাহাকার শুরু হয়ে যায়। বাবার চোখের সামনে সন্তান শ্বাস কষ্টে মারা যায় কিন্তু কিছুই করার থাকে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ভ্যাকসিনের ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন ধারণা চায়, দেশের মানুষ করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আস্থাশীল হতে চায়। সরকারকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

জিএম কাদের বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ফ্রি করে দিতে হবে। ঢাকার বাইরে সরকারী হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন সহায়তা মিলছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ জরুরী। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা সমমান হলে অবশ্যই ইবতেদায়ীকে জাতীয় করণ করতে হবে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ধনীদের সন্তানরা শিক্ষায় যে সুবিধা ভোগ করে, গরীব মানুষের সন্তানরা সেই সুযোগ পায় না। তাই দেশের বৈষম্য দূর হয় না। বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে জাতীয় করণ করে প্রয়োজনে বেসরকারী শিক্ষকদের বিসিএস পরিক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ দিতে হবে। যারা উত্তীর্ণ হবে তারা সরকারী সুযোগ পাবে। যে সকল শিক্ষক উত্তীর্ণ হতে পারবে না তারা পূর্বের স্কেলে সুযোগ পেয়ে পুনরায় যাতে পরিক্ষায় অংশ নিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এ সময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, যতই পদ্মাসেতু আর ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হোক শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-ই প্রথম পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ বই বিতরণ করেছিলেন।

তিনি শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা যদি সার্টিফিকেট সর্বস্ব হয়, তাহলে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করছেন না কেন? শিক্ষা ব্যাবস্থায় অটো প্রমোশন কখনোই কাম্য হতে পারে না। লটারীর মাধ্যমে ছাত্র ভর্তির প্রক্রিয়া সুফল বয়ে আনবে না।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শরফুদ্দিন আহমেদ শিপু।

জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম জয়নাল আবেদিন, সৈয়দ মঞ্জুরুল হোসেন মঞ্জু, দফতর সম্পাদক-২ এম.এ. রাজ্জাক খান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরুসহ আরও অনেকে।