ঐক্যের অভাব প্রকাশ্যে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঐক্যের অভাব প্রকাশ্যে

মাহমুদুল হাসান ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

print
ঐক্যের অভাব প্রকাশ্যে

প্রতীক পেয়ে ব্যাপক শোডাউন দেখালেও স্থানীয় বিএনপিতে প্রভাব তৈরি করতে পারেননি ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। দলের অভ্যন্তরে নানা শঙ্কা কাটিয়ে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সহকর্মীদের মন গলাতে পারছেন না যুবদলের এই প্রভাবশালী নেতা। এমন অবস্থায় সুযোগ নিচ্ছেন প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে বারবার প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হচ্ছেন তার কর্মী ও সমর্থকরা। শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভোটের দিন ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্ট ম্যানেজ করা নিয়েও।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গুলশান অফিসে মারামারির ঘটনায় কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে মনোনয়ন দেওয়ায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়। এতে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এ আসনের নেতাকর্মীরা। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলে দলের প্রার্থীকেও প্রতিরোধ করবেন বলে ঘোষণা দেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিনই বিক্ষুব্ধরা পাল্টা কর্মসূচি পালন করে। ফলে বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন জাহাঙ্গীর। স্থানীয় নেতাদের কাছে টানতে পারছেন না তিনি। তবে দলের নির্বাচনীয় প্রচারণার কমিটির উদ্যোগও যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা। এদিকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কঠিন কর্মসূচি পালন করবেন বলে বহিষ্কৃত নেতারা জানিয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থীর সমর্থিত নেতাদের দাবি, স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী প্রশাসনকে ব্যবহার করে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। তারা প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন।

এই আসনের নেতাকর্মীরা জানান, গত শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা দু-একজনকে দেখা গেছে। পরে তারাও অন্তরালে চলে গেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সমন্বয় কমিটিও সবাইকে এক করতে পারছে না। ফলে ভোটের দিন এজেন্ট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-১৮ আসনে সাতটি থানা কমিটির মধ্যে একমাত্র খিলক্ষেত থানা বিএনপির নেতারা সক্রিয়। অন্যরা একদিনও প্রচারণায় নামেননি। উত্তরা পশ্চিম থানা কমিটি আহ্বায়ক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফাজ উদ্দিন প্রচারণায় নামেননি। সম্পতি এ থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার তিন দিনের মাথায় তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। এছাড়া উত্তরা পূর্ব থানার সভাপতি সালাম সরকার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিন থেকে করোনাক্রান্ত। নানা অজুহাতে কাউকেই মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বাহাউদ্দীন সাদী। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, সত্যি কথা বলতে কী, এখন পর্যন্ত স্থানীয় বিএনপির কোনো অংশগ্রহণ নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা সবাইকে সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে কে প্রার্থী এটা বড় কথা নয়। ধানের শীষের নির্বাচন হচ্ছে এটাই বড় কথা। আমরা একটা সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীর্ষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নামার জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। এখন পর্যন্ত কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগই করেননি। এছাড়া বিএনপি স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ নিরসন করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমন উল্লাহ আমান বলেন, নির্বাচনীয় প্রচারণায় সবাই কাজ করছেন। গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। পূর্ব অনুমতি থাকলেও আমরা কর্মসূচি পালন করতে পারছি না। ধানের শীষের প্রার্থী সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। আমরা বারবার জানাতে থাকব। এর প্রতিকার না পেলে জনগণ এর জবাব দেবে। যতই শঙ্কা থাকুক বিএনপি নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারবে বলেও জানান ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।

ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ কোনোভাবেই আমাদের অনুকূলে নেই। পুলিশ থেকে অনুমতি নেওয়ার পর ওই স্থানে আওয়ামী লীগ অনুমতি চাইলে তাদের অনুমতি দিয়ে আমাদেরটা বাতিল করছে। প্রচারণায় বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা নির্বাচনের ভালো একটা পরিবেশ চাই। যাতে ১২ নভেম্বর মানুষ ভোট দিতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় নেতারা সবাই মাঠে আছেন। নির্বাচন একটা উৎসব। আমি যেহেতু একটি সংগঠনের দায়িত্বে আছি। সুতরাং, শুভেচ্ছা জানাতে বাইরে থেকে আমার অনুসারীরা আসবে এটাই স্বাভাবিক।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ