আটকে গেছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আটকে গেছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি!

সালাহ উদ্দিন জসিম ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

print
আটকে গেছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি!

আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী পাঁচ সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। আটকে আছে যুবলীগের কমিটি। হবে, হচ্ছে করে সম্মেলনের প্রায় এক বছর হতে চলল। এখনো আলোর মুখ দেখেনি যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যদিও যুবলীগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বলা হয়েছে, ‘কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন। নেত্রী (শেখ হাসিনা) অনুমোদন দিলেই প্রকাশ করা হবে।’

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, কয়েকটি কারণে যুবলীগের কমিটি আটকে গেছে। সংখ্যা নিয়ে একটা সমস্যা, কিছু নেতার বিষয়ে অভিযোগ আছে, সেটার তদন্তকরণ ও সাবেক কিছু ছাত্রনেতার পদায়ন। এবার যুবলীগের কমিটির আকার বাড়িয়ে ১৭১ করা হচ্ছে। এছাড়াও যুক্ত হচ্ছেন কিছু জনপ্রিয় মুখ ও সাবেক ছাত্রনেতা। বাদ পড়ছেন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত কিছু যুবনেতা।

সূত্র বলছে, আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে প্রায় দেড় হাজার সিভি জমা পড়েছে। করোনার মধ্যেই সেগুলো যাচাই-বাছাই করে খসড়া করেছেন যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মতো যুবলীগও তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছে। তিনি কমিটি দেখে কয়েকজনকে বাদ দিয়ে সাবেক কিছু ছাত্রনেতাকে পদায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার আলোকে গত সপ্তাহে কমিটি পুনর্গঠন করে জমা দিলেও এখনো অনুমোদন পায়নি।

এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে আলোর মুখ দেখেনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এ মাসেই কমিটি প্রকাশ হবে। তবে গণভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, আটকে গেছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। হয়তো প্রকাশে কিছুটা সময় লাগবে। কিছু পদপ্রত্যাশী নেতার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এরমধ্যে নরসিংদী বাড়ি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও যুবনেতা একজনের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। চট্টগ্রামে বাড়ি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় একজন সাবেক সম্পাদকের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। যুবলীগের সাবেক এক সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাদল হত্যায় অভিযুক্ত, তার বিষয়েও তদন্তের খবর পাওয়া গেছে। এভাবে যাদের বিষয়ে ডিসপুট (সমস্যা) ছিল, তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে। এসব রিপোর্ট সমন্বয় করে একটি ক্লিন কমিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই সময় লাগছে।

এ কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে যুক্ত হচ্ছেন- ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। এদের মধ্যে রিপনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বদিউজ্জামান সোহাগকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোহাগ-জাকিরকে সম্পাদকীয় পদে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও মাশরাফি বিন মর্তুজা, ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন, নিক্সন চৌধুরী ও শেখ সোহেলকেও কমিটিতে জায়গা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে যুবলীগের ৪-৫ জন নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা বলছেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে শুনেছি, নেত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। সেটি এখন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে আছে। তিনি অনুমোদনে স্বাক্ষর করে যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করবেন। আবার কেউ বলছেন, কমিটি নেত্রীর কাছে। অধিকতর তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে যুবলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাদের উদ্দেশে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘কোনো বাণিজ্যের মাধ্যমে এ কমিটি পদ-পদবি দেবে না। সুতরাং যারা ত্যাগী, বঞ্চিত এবং যোগ্য তাদের পদপদবি দেওয়া হবে। যারা যুবলীগের সুখ-দুঃখে ছিলেন, তাদের সিভি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্য পদ দেওয়া হবে।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। নেত্রী নির্দেশনা দিলেই অনুমোদন দেওয়া হবে। এবারে কমিটির আকার কিছুটা বাড়তে পারে। কমিটিতে সাবেক যুবলীগ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রনেতাদেরও প্রাধান্য থাকবে।’

যুবলীগের কমিটির বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া খোলা কাগজকে বলেন, ‘যুবলীগের কমিটির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। কমিটির অনুমোদন হয়েছে কি-না, জানি না। জমা হয়েছে কি-না, তাও আমার নলেজে নেই।’

উল্লেখ্য, গেল বছরের ২৩ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান (সভাপতি) ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হাসান খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এরপর তাদের নেতৃত্বে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য সিভি আহ্বান করলে প্রায় দেড় হাজার সিভি পড়ে। যেখান থেকে বাছাই করেই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ