নির্বাচন এলেই সরব হয় বিএনপি

ঢাকা, রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নির্বাচন এলেই সরব হয় বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

print
নির্বাচন এলেই সরব হয় বিএনপি

নির্বাচন এলেই শুধু সরব হয় বিএনপি। প্রচারণায় নেমেই ‘চমক’ দেখায়। লোকসমাগম দেখে মনে হয় এবার কিছু করবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ফিকে হয়ে যায়। ভোটের দিন কাউকে মাঠে পাওয়া যায় না। দিনভর প্রার্থী এ কেন্দ্র ও কেন্দ্র ঘুরে বেড়ান। কূল-কিনারা না পেয়ে কখনো দুপুরে, কখনো বা শেষ বিকালে ভোট প্রত্যাখ্যান করে ঘরে ফেরেন। নেই প্রত্যাশ্যা-প্রাপ্তির যোগফল! সদ্যসমাপ্ত বেশ কয়েকটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মযজ্ঞ বিশ্লেষণ করলে এমন চিত্রই পাওয়া যায়।

তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনের সময় পরিবেশ কিছুটা শিথিল থাকায় নেতাকর্মীরা মাঠে নামার সুযোগ পান। কিন্তু ভোটের আগে-পরে সরকারের দমন-পীড়নের কারণে মাঠে থাকতে পারছেন না তারা। তবে সবকিছু উপেক্ষা করে যতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন, তা কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন। মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে হলেও জনগণকে সরকার দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সদ্যসমাপ্ত পাবনা-৪, নওগাঁ-৬ ও ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ব্যাপক গণসংযোগ চালায়। প্রচারণায় লোক সমাগমও ঘটে। বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বিএনপি এ নির্বাচন ঘিরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে পারেনি। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করা হয়। ভোটের পর গত ১৮ অক্টোবর বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। এ দাবিতে দলটি গত ১৯ অক্টোবর মহানগর ও জেলা সদরে এবং ২০ অক্টোবর থানা-উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরবর্তীতে আর নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে সদ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। বিএনপি সবসময় সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রখেছে। নির্বাচনের আগে-পরে কোনো কথা নয়। কিন্তু সরকার তাদের আজ্ঞাবহ প্রশাসন দিয়ে আমাদের সাংগঠনিক কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। নির্বাচনের সময় কিছুটা শিথিল থাকে। নির্বাচনের পর রাজনীতি করার পথটাও সরু হয়ে যায়। তারপর বিএনপি যতটুকু সুযোগ পায় রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করে এবং জনগণের পাশে থাকে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে বিজয়ী হতে চায়। কিন্তু বিএনপি গণতান্ত্রিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বাচন ও রাজনীতি করতে চায়। জনগণকে সম্পৃক্ত করে নির্বাচনে বিজয়ী হতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ নির্বাচন থেকে আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করি না। জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য ভোটে অংশগ্রহণ ভালো একটি মাধ্যম। আমরা আপাতত সেই সুযোগটাই নিচ্ছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাটাই ধ্বংস করে ফেলেছে। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কী করল, কী করল না এসব বলে লাভ নেই। ভোট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এটা বড় কথা। জনগণ ভোট দেওয়ারই সুযোগ পাচ্ছে না। সরকার যদি এতই জনপ্রিয় হয়ে থাকে তাহলে সুষ্ঠু ভোট দিতে অসুবিধা কিসের প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ব্যাপক-প্রচারণায় নেমেছে। গত শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। বিএনপি সিনিয়র নেতারাও এ প্রচারণায় যোগ দেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ