স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মাঠে নামছে বিএনপি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মাঠে নামছে বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

print
স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মাঠে নামছে বিএনপি

প্রায় ছয় মাসের রাজনৈতিক মন্দা কাটাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক কর্মকা- ফের শুরু করার পাশাপাশি উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ ‘জনবান্ধব’ কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চায় দলটি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গত ছয় মাসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গ দলগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের কাজ অনেকাংশে শেষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার পাশাপাশি জনমুখী কর্মসূচি পালন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং বন্যাদুর্গত এলাকায় সফরসূচি ঠিক করা হতে পারে। এছাড়া জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনী আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শেষ করা হয়েছে। তবে দুই একটি আসনে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় এখনই প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে না। নির্বাচনের তারিখ ঠিক হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, কর্মসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে আমাদের এখনো কোনো আলাপ হয়নি। বন্যাদুর্গত এলাকায় আমাদের কিছু কর্মসূচি চলমান আছে। ত্রাণ নিয়ে আমাদের লোকজন যাচ্ছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভায় কথা বলেছি, পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘদিন আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার একটা সুযোগ এটা। এই সুযোগটাই আমরা কাজে লাগতে চাই। নিবার্চনের ফলাফল নিয়ে আসলে আমরা ভাবছি না।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি আছে কী নেই; একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিলেই বোঝা যাবে। বিএনপিকে যদি জনগণ পছন্দ নাই করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় কীসের?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতির মাঠে না ফেরার কোনো বিকল্প নেই। দাবি আদায়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হলে মাঠে থাকতে হবে। জনগণ কিন্তু ঘরে বসে নেই। তারা আরও আগে স্বাভাবিকভাবে ঘর থেকে বের হয়ে আসবেন। সুতরাং আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তিনি বলেন, আমরা সব সময় জনগণের দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করে থাকি। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই সামনে দিকে এগিয়ে যাবো। মানুষ আর সরকারের দুর্নীতি অপশাসন নিতে পারছে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিগত ছয় মাস আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দেশে মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। চলমান পরিস্থিতিতেও আমরা জনগণের কথা, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের কথা মাথায় রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করব। চলমান প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনীতিতে ফেরার এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। গত শনিবার এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সবিস্তারে আলোচনা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক অংশ নেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সভায় ঢাকা এবং সিরাজগঞ্জ ২টি আসনে উপ-নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা তফসীল ঘোষণা না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকারের যেসব উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসীল ঘোষণা করা হয়েছে সে গুলোতে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও উপজেলা ইউনিট গুলোর সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মনোনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দেশে চতুর্থ বারের মত বন্যা দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং জাতীয় ত্রাণ কমিটিকে বন্যা দূর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি করার অনুরোধ করা হয়। এছাড়া সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় পেঁয়াজসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিশেষ করে হঠাৎ করেই ভারত সরকারের পেঁয়াজ রপ্তানীর ওপর নিষেজ্ঞার কারণে পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকার পেঁয়াজ আমদানী ও সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে জনগণ যে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

অবিলম্বে পেঁয়াজসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্যের মূল্য সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতায় আনার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয় এবং দেশে পেঁয়াজসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রনোদনা প্রদানেরও দাবী জানানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্তৃক অনুমোদিত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সাপেক্ষে জনগণকে যথা সময়ে বিনামূল্যে সরবরাহ করার কথাও উঠে আসে সভায়।